Home স্বাস্থ্য জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে যেসব তথ্য জেনে রাখা খুব জরুরি

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে যেসব তথ্য জেনে রাখা খুব জরুরি

14


ডা. সানিয়া সুলতানা।।

সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা জরায়ুমুখ ক্যানসার নারীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তবে আশার কথা হলো, এই ক্যানসার হঠাৎ করে হয় না এবং সময়মতো সচেতন হলে প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সার্ভিক্যাল ক্যানসারের মূল কারণ হলো, ঐচঠ (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস)। এটি খুবই সাধারণ একটি ভাইরাস, যা সাধারণত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। অধিকাংশ নারীর শরীর নিজেই এই ভাইরাসকে দূর করে দিতে পারে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি দীর্ঘদিন শরীরে থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে জরায়ুমুখের কোষে পরিবর্তন ঘটায়। চিকিৎসা না করলে এই কোষগত পরিবর্তন অনেক বছর পরে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে।

এ ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ঐচঠ টিকা। সাধারণত ৯-১৪ বছর বয়সে এই টিকা নিলে সবচেয়ে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়। বিয়ের আগে বা যৌন জীবন শুরুর আগে টিকা নিলে এর কার্যকারিতা আরও বেশি হয়। তবে বড় বয়সের নারীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই টিকা নিতে পারেন। এই টিকা শরীরকে ঐচঠ-এর ক্ষতিকর ধরন থেকে আগেই সুরক্ষা দেয়। ফলে ভবিষ্যতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

টিকার পাশাপাশি নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে সহজেই চিকিৎসা করা সম্ভব। এ জন্য ঠওঅ ঞবংঃ, চধঢ়’ং ঞবংঃ এবং ঐচঠ-উঘঅ ঞবংঃ করা হয়। ঠওঅ ঞবংঃ সহজ এবং কম খরচে সরকারি হাসপাতালে করা যায়। চধঢ়’ং ঞবংঃ জরায়ুমুখের কোষে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে কি-না, তা জানতে সাহায্য করে। আর ঐচঠ-উঘঅ ঞবংঃ ভাইরাসের উপস্থিতি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর প্রত্যেক নারীর অন্তত একবার হলেও এই পরীক্ষা করা উচিত।

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে কখনই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন- সহবাসের পর রক্তপাত, মাসিকের বাইরে বা অতিরিক্ত রক্তপাত, দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক যোনি স্রাব এবং তলপেটে ব্যথা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্ক্রিনিং পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সচেতনতা থেকেই প্রতিরোধ সম্ভব। পরিবার, সমাজ এবং নিজের মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখনই সচেতন হওয়া দরকার। ঐচঠ টিকা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপন- এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মেনে চললে সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধ করা অনেকটাই সম্ভব।

পরিসংখ্যানও আমাদের সতর্ক করে দেয়। সার্ভিক্যাল ক্যানসার শুধু আন্তর্জাতিক সমস্যা নয়, বাংলাদেশেও এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার ২০০ থেকে ৮ হাজার ৩০০ নারী এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং প্রায় ৪ হাজার ৯০০ থেকে ৫ হাজার নারী এ রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। দেশের নারীদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার। যদিও বাংলাদেশে ঐচঠ স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু হয়েছে, তবু এখনও লাখ লাখ নারী স্ক্রিনিংয়ের আওতার বাইরে রয়ে গেছেন এবং ৩০ লাখেরও বেশি নারীর ঐচঠ স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। সঠিক তথ্য, সময়মতো টিকা এবং নিয়মিত পরীক্ষা- এ তিনটি পদক্ষেপই পারে অসংখ্য নারীর জীবন বাঁচাতে।

লেখক : গাইনি বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, পল্লবী শাখা, মিরপুর, ঢাকা

হটলাইন : ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯