বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশেই গতকাল সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছে। হেমন্তের এই ঋতুতে হঠাৎ বৃষ্টি নাগরিক জীবনে একটু স্বস্তি আনলেও দুর্ভোগে পড়েছে সারা দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। কখনো হালকা, কখনো মুষলধারে চলতে থাকে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে খেটে খাওয়া মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা। খুব কমসংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। চর এলাকার মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে রাস্তাঘাট এমনকি বাড়িঘরে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে আছে। সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোতে ২ নম্বর বিপদ সংকেত বলবৎ থাকায় বরিশালের অভ্যন্তরীণ সব পথের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অফিসের হুঁশিয়ারি সংকেত দেয়ার পর বুধবার থেকে কক্সবাজার টেকনাফ সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে সকল ধরণের ট্রলার ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ফলে কক্সবাজারের সাথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের যোগাযোগ গতকাল হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে বুধবার বা তার আগের দিন সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়া প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছে বলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এই সময়ে উত্তাল সাগর ও টানা বৃষ্টিতে জনজীবন থমকে গেছে। নাগরিক জীবনে দুর্ভোগ হলো জলাবদ্ধতা, বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়া। বর্জ্যের স্তুপ জমে ওঠা। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অতি বৃষ্টিজনিত সমস্যার সমাধান করবে। নাগরিক সেবা অব্যাহত রেখে গ্রামীণ জনপদে বৃষ্টিজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়িঁয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে হবে আমাদের মত দুর্যোগপ্রবণ দেশে। প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে দ্রুততার সঙ্গে। কৃষকদের তলিয়ে যাওয়া ফসল বা মৎস্যচাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যাধারগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সারাদেশে অতি বৃষ্টির জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতা করার মানসিকতা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।











































