-মিজানুর রহমান মিলটন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খুলনা-৪ আসনের আকাশে যে নামটি আশার নক্ষত্র হয়ে জ্বলছে, তিনি আজিজুল বারী হেলাল। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার জনপদের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা অবশেষে বাস্তব রূপ পেয়েছে তার বিজয়ের মাধ্যমে। কিন্তু এই অর্জন কোনো আকস্মিক সাফল্য নয়-এটি দীর্ঘ পথচলার, অসংখ্য ত্যাগের, অশ্রু-ঘামে ভেজা সংগ্রামের ফল।
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ আজিজুল বারী হেলাল রাজনীতির কঠিন মাটিতে নিজের শিকড় প্রোথিত করেন। তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, রাজপথের মিছিলে, আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ দিনে তিনি হয়ে ওঠেন এক দৃঢ়চেতা সংগঠক। সময়ের পরিক্রমায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতায় পরিণত হন-যার পরিচয় শুধু পদবিতে নয়, বরং কর্মে ও নেতৃত্বে।
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতায় তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ মামলা-হামলা, দমন-পীড়ন, সর্বশেষ দেড় বছরের কারাবাস-সবকিছু মিলিয়ে তার জীবন যেন হয়ে উঠেছিল এক অবিরাম পরীক্ষার ময়দান। কিন্তু লৌহকঠিন এই সময় তাকে ভেঙে দিতে পারেনি; বরং আরও শাণিত করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র সংগ্রামী চেতনা এবং দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি অটল আস্থা তাকে আন্দোলনের পথে অবিচল রেখেছে।
খুলনা-৪ আসনের জনপদে তার জনপ্রিয়তা গড়ে উঠেছে মানুষের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে। নির্বাচনের আগেই তিনি চালু করেন হটলাইন সেন্টার-যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে পারতেন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, পাড়া থেকে মহল্লায় তার পদচারণা ছিল নিরবচ্ছিন্ন। প্রবীণরা মাথায় হাত রেখে দোয়া করেছেন, তরুণরা স্বপ্ন দেখেছে নতুন দিনের। মানুষের চোখের জল, কণ্ঠের প্রত্যাশা আর হাতের স্পর্শ তাকে রূপ দিয়েছে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতীকে।
রূপসা ও আঠারোবাকী নদীর তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনা-নদীভাঙন, বন্ধ জুটমিল, অসমাপ্ত সেতু, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা-এসব সমস্যার সমাধানকে তিনি নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। কৃষি ও মৎস্যখাতে প্রণোদনা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবন, পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা এবং লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি-এসব তার স্বপ্নের অংশ। তার লক্ষ্য, খুলনা-৪-কে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মডেল আসনে রূপান্তর করা।
তার ভাষায়, “আমি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ভোটারের প্রতিনিধি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার এমপি।” এই এক বাক্যেই ফুটে ওঠে তার রাজনৈতিক দর্শন-বিভাজনের নয়, ঐক্যের; প্রতিশোধের নয়, উন্নয়নের।
আজিজুল বারী হেলালের বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়; এটি রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়ার মানুষের আশা, আস্থা ও ভালোবাসার জয়। সংগ্রামের আগুনে দগ্ধ হয়ে, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আজ নেতৃত্বের আসনে। এখন তার সামনে নতুন অধ্যায়-প্রতিশ্রুতি পূরণের। তবে মানুষের বিশ্বাস, ত্যাগ আর প্রত্যয়ের যে পথ তিনি অতিক্রম করেছেন, সেই পথই তাকে দায়িত্ব পালনে দৃঢ় রাখবে। খুলনা-৪ এর মানুষ অপেক্ষায়-স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেখার। (লেখক: সংবাদকর্মী)










































