স্পোর্টস ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর ক্ষোভ উগরে দিলেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার শোয়েব আখতার। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত যে শিরোপা ধরে রাখতেই এসেছে, সেটিও স্পষ্ট করে দেন তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের নিষ্প্রভ আত্মসমর্পণকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন আখতার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত এখন ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে। ম্যাচ শেষে এবিপি নিউজে আখতার বলেন, ‘আমরা ম্যাচেই ছিলাম না। শাহিন ১২৫ গতিতে বল করেছে-আধুনিক ক্রিকেটে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে চাপ সামলানো যায় না। গত ১৫-২০ বছরে কোনো বিনিয়োগ হয়নি। একসময় আমরা ভারতের সঙ্গে মাঠে লড়াই করতাম, এখন তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখা যায় না।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘যিনি কিছুই জানেন না, তাকে চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। দল কীভাবে চলবে? একজন খেলোয়াড়কে (বাবর আজম) সুপারস্টার বানানো হয়েছে, যে আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারে না। অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ।’ পরে নকভিকে ‘অযোগ্য’ ও ‘জাহিল’ বলেও মন্তব্য করেন আখতার।
ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তান প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কঠিন উইকেটে ঈশান কিষাণের ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস, অধিনায়ক সূর্যকুমারের ২৯ বলে ৩২ এবং শিভাম দুবের ১৭ বলে ২৭ রানে ভারত তোলে ৭ উইকেটে ১৭৫।
পাকিস্তানের পক্ষে সাইম আইয়ুব ৪ ওভারে ৩/২৫ নেন। এছাড়া শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক ও সালমান আলি আগা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে শূন্য রানে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। পরের ওভারে জসপ্রিত বুমরাহ সাইম আইয়ুব ও অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে আউট করলে ২ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১৩/৩।
ধীরগতির ইনিংস খেলতে থাকা বাবর আজম ৭ বলে ৫ রানে আউট হন অক্ষর প্যাটেলের বলে। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তান ছিল ৭১/৪। উসমান খান ৩৪ বলে ৪৪ রান করলেও অক্ষরের বলেই স্টাম্পড হন, যেখানে দুর্দান্ত কিপিং করেন ইশান কিশান।
পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। মোহাম্মদ নওয়াজ, শাদাব খান, ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ দ্রুত আউট হন। শেষ পর্যন্ত হার্দিক পান্ডিয়া উসমানকে বোল্ড করে ১৮ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে দেন পাকিস্তানকে।
ভারতের পক্ষে অক্ষর প্যাটেল ৪ ওভারে ২/২৯ নিয়ে সেরা বোলার। এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়া, বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী দুটি করে উইকেট নেন।
দাপুটে এই জয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো, আর পাকিস্তানের জন্য বাড়ল আত্মসমালোচনার চাপ।










































