Home আঞ্চলিক খুলনা-৬-এ পরাজয়, তবু রাজনৈতিক বিজয়ে আলোচনায় মনিরুল হাসান বাপ্পী

খুলনা-৬-এ পরাজয়, তবু রাজনৈতিক বিজয়ে আলোচনায় মনিরুল হাসান বাপ্পী

360


স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। মাত্র দুই মাসের নিবিড় প্রচারণায় তিনি যে পরিমাণ ভোট টেনেছেন, তা দলীয় মহলে “চমক” হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট—যা স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে একটি নজিরযোগ্য অর্জন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে তিনি ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর আস্থাভাজন পছন্দ। অন্যদিকে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।


ফলাফলের পরই মাঠে: পরাজয়ের পর সাধারণত অনেক প্রার্থীই রাজনৈতিকভাবে কিছুটা আড়ালে চলে যান। কিন্তু মনিরুল হাসান বাপ্পী ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পরপরই তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। কৃতজ্ঞতা জানান, তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। কয়রা ও পাইকগাছার বিভিন্ন জনসভা ও পথসভায় তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছে বলেই বিএনপি এত বড় বিজয় অর্জন করতে পেরেছে। সরকার গঠন হলে প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমার নির্বাচনে বিনা পারিশ্রমিকে এই এলাকার মানুষ দিনরাত কাজ করেছেন। বিশেষ করে সনাতনী ভোটাররা যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, এ ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়।”


সনাতনী ভোট ও আস্থার বার্তা: খুলনা-৬ আসনটি উপকূলীয় ও বহুধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকা। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের আশ্বাস—এসবই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। মনিরুল হাসান বাপ্পী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম আপনাদের ছেড়ে যাবো না। আমি আমার কথা রাখবো ইনশাআল্লাহ। কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আপনারা নির্ভয়ে চলবেন, নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবেন।”


তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতির ইঙ্গিত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখিয়েছে—সংগঠিত প্রচারণা, সরাসরি জনসংযোগ এবং তৃণমূলভিত্তিক সক্রিয়তা থাকলে স্বল্প সময়েও শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। যদিও তিনি বিজয়ী হননি, তবুও প্রাপ্ত ভোট তাকে ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। বাপ্পী জানিয়েছেন, “বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে আমি আপনাদের পাশে থাকবো। অবহেলিত এই জনপদের উন্নয়নে আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই।” খুলনা-৬ আসনের এই নির্বাচনী ফলাফল তাই শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং নতুন নেতৃত্বের উত্থান, আস্থার রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।