Home আঞ্চলিক নগরীসহ জেলার চারটি আসনের সিংহভাগ কেন্দ্রই ঝুকিতে, শংকায় নিরীহ ও সনাতনী ভোটাররা

নগরীসহ জেলার চারটি আসনের সিংহভাগ কেন্দ্রই ঝুকিতে, শংকায় নিরীহ ও সনাতনী ভোটাররা

10


সৈয়দ রানা কবীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা জেলার ছয়টি আসনের সিংহভাগ কেন্দ্রই চরম ঝুকিতে রয়েছে। নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্র যেতে এবং ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে চরম ঝুকিতে রয়েছে নগরীর অধিকাংশ সাধারণ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভেটাররা। সবচেয়ে বেশি ঝুকিপুর্ন কেন্দ্র খুলনা-৫ ও ৬ আসনের কেন্দ্রগুলো। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা ঝুকি বেশি। অপরদিকে নগরীর ২টি আসনেই সিংহভাগ কেন্দ্রই রয়েছে অধিক ঝুকিতে। ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৫ টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন, পূর্ববর্তী তালিকা বিশ্লেষণ, ভোটকেন্দ্রের ভৌগোলিক দূরত্ব, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসব কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-১ আসনের ১১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি, খুলনা-২ আসনের ১৫৭টির মধ্যে ১১৩টি, খুলনা-৩ আসনের ১১৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ আসনের ১৪৪টির মধ্যে ৯৬টি, খুলনা-৫ আসনের ১৫০টির মধ্যে ১১৫টি এবং খুলনা-৬ আসনের ১৫৫টির মধ্যে ১০৪টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা জোরদার করতে নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। প্রায় ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরা, যা সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৫৫৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক এসব ক্যামেরা মনিটরিং করা হবে। সব মিলিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রকেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানাগেছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা সাধারণ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের যথাযথ নিরাপত্তা বলয় দিতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তবে সঠিক নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছেন কিনা তা দেখা যাবে কের নির্বাচনে এবং তার পরবর্তী ২/১ দিন।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ২০০ সেনা সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক ইউনিটও প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। কোনো ভোটার বা পর্যবেক্ষক ছবি বা তথ্যসহ অভিযোগ পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে খুলনায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।