স্টাফ রিপোর্টার।।
চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে খুলনা মহানগরী। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান-কেউই নিরাপদ নয়। খুলনা প্রেসক্লাব, গণমাধ্যম অফিস, সাবেক কাউন্সিলরের বাসভবনসহ একাধিক স্থানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় নগরবাসীর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, থানায় একাধিকবার অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও চোর শনাক্ত বা চুরি বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বৈদ্যুতিক তার, ওয়াসার মিটার, বাইসাইকেল, পানির পাম্পের সংযোগ লাইন এমনকি ঘরের জানালার গ্রিল কেটে গৃহস্থালি সামগ্রী পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় চোরেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সর্বশেষ সোমবার নগরীর তারের পুকুর এলাকার দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকা অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা অফিসের বৈদ্যুতিক মিটারের তার চুরি করতে এসে পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের তার কেটে ফেলে রেখে যায়। এতে অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগেও একই ভবন থেকে ওয়াসার মিটার চুরি হয়। একই সময় পাশের একটি পানির পাম্পের সংযোগ লাইনের তারও কেটে নিয়ে যায় চোরেরা।
দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার অফিস সহকারী মোশাররফ হোসেন বলেন, “রবিবার রাত থেকে সোমবার বিকেলের মধ্যে আমাদের ভবনের মিটারের তার চুরি হয়েছে। এর আগে দুপুরের বেলায় ওয়াসার মিটার চুরি হয়। থানায় জিডি করা হলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। চোররা যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।”
এর কয়েকদিন আগে নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গাউসুল আলমের বাসভবন থেকেও শিকল দিয়ে বাঁধা একটি বাইসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরেরা। বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও চোরচক্র এই দুঃসাহসিক কাজটি করে। এর আগেও একই স্থান থেকে একাধিকবার সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দিয়েও থানায় জিডি করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাইনি। এতে চোরদের সাহস আরও বেড়েছে।” ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দোলখোলার কুন্ডু গলির ভেতরের একটি বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও চুরি ঠেকানো যায়নি। একই গলির ভেতরে গত বছরের অক্টোবরে দুর্গাপূজার সময় সন্ধ্যায় আরেকটি বাড়িতে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কিন্তু আজও শনাক্ত হয়নি চোরচক্র, উদ্ধার হয়নি চোরাই মালামাল।
এছাড়া গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবের বৈদ্যুতিক মিটারের তার চুরি হয়। এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা দায়ের করে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। এতে ক্লাবের ৩০ হাজার টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়।
খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বলেন, “শুধু প্রেসক্লাব নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ওসির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পরিচালকের বাড়িতেও প্রথমে চুরি, পরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি মাসের আইনশৃঙ্খলা সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় চোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”
খুলনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম–এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি চুরি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, আশ্বাসের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নগরীতে চুরির পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
নগরবাসীর দাবি, নিয়মিত টহল জোরদার, রাত্রীকালীন চেকপোস্ট বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং চোরচক্র শনাক্তে দ্রুত অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। চোরের আতঙ্কে দিন দিন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে খুলনার জনজীবন।









































