Home আঞ্চলিক সংবাদ প্রকাশের পরই তৎপর পুলিশ: ওয়ারেন্টভুক্ত আসলাম পুনরায় গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের পরই তৎপর পুলিশ: ওয়ারেন্টভুক্ত আসলাম পুনরায় গ্রেপ্তার

117


গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে নগরজুড়ে চাঞ্চল্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার।।
অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর খুলনা সদর থানা পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমডি আসলাম হোসেনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। তিনি খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ হারুন অর রশিদের দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং খুলনা জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মার্কেটের সামনে থেকে এমডি আসলাম হোসেনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।


এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) একই স্থান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল খুলনা সদর থানা পুলিশ। তিনি খুলনা সদর থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলা নং–৩৫৬/২৫ (তারিখ ৮/১২/২৫)-এ দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় জারি হওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তবে গ্রেপ্তারের কিছু সময়ের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।


স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার গ্রেপ্তারের পর আসলাম হোসেনকে থানায় নেওয়া হলেও কিছু সময় পরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে আদালতে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সামাজিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে।
পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় সচেতন নগরবাসী প্রশ্ন তুলছেন—ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তারের পর কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল? পুলিশের এই ভূমিকার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।


এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “বুধবার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমডি আসলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের পর তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাকে খুলনা জেলা পরিষদের একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হওয়ায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”


ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার স্পষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন নগরবাসী।

সর্বশেষ: এদিকে আমাদের আদালত প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এমডি আসলাম হোসেনকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাকিবুল ইসলাম এমডি আসলাম হোসেন এর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।