Home সম্পাদকীয় কারখানা নিভে, হোটেলের চুলায় জ্বলছে খুলনা

কারখানা নিভে, হোটেলের চুলায় জ্বলছে খুলনা

9


এক সময় খুলনা ছিল শিল্পনগরী-দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। পাট, হার্ডবোর্ড, টেক্সটাইল, নিউজপ্রিন্ট, অক্সিজেন প্লান্ট-একের পর এক বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রেখেছিল। সেই শিল্পকারখানাগুলোর ধোঁয়া ওঠা চিমনি ছিল কর্মসংস্থানের প্রতীক, ছিল স্বপ্নের আলো। কিন্তু এখন সেই চিমনি নিভে গেছে, কারখানার গেট বন্ধ, মজুরদের হেঁশেলে আগুনও ঠান্ডা।
এমন বাস্তবতায় খুলনা আজ নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করছে-হোটেল ও রেস্তোরার নগরী হিসেবে। শিল্প হারানোর বেদনায় যে শহর একসময় নিস্তব্ধ হয়েছিল, সেখানে এখন চুঁইঝালের গন্ধে মুখরিত প্রতিটি মোড়। শিববাড়ি, জিরোপয়েন্ট, সাতরাস্তা, সোনাডাঙা, রূপসা ঘাট, দৌলতপুর-সব জায়গাতেই একের পর এক হোটেল-রেস্তোরা গড়ে উঠছে। কেউ বলছেন, এটি বিকল্প কর্মসংস্থানের সৃজন; কেউ দেখছেন শিল্পায়নের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। হোটেল ব্যবসা নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর খাত-পুঁজির প্রয়োজন কম, ঝুঁকি তুলনামূলক কম, পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার সুযোগও রয়েছে। এতে নগর অর্থনীতিতে কিছুটা প্রাণ ফিরেছে, বেকার তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এই প্রবণতা খুলনার শিল্প কাঠামোর বিপর্যয়কে আড়াল করতে পারে না। এক সময়ের উৎপাদনশীল শহর এখন ভোগভিত্তিক শহরে রূপ নিচ্ছে—যা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগজনক। খুলনার হারানো শিল্প পুনরুজ্জীবনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে এই নগরী কেবল চুঁইঝালের মাংসের স্বাদেই পরিচিত থাকবে, উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা হারাবে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত-খুলনার শিল্পভিত্তিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করা, নতুন শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া। হোটেল ব্যবসা খুলনার অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে, কিন্তু এটি যেন শিল্পের বিকল্প না হয়। খুলনাকে তার প্রকৃত পরিচয়-একটি শিল্পনগরী হিসেবেই পুনরুদ্ধার করতে হবে।