Home আঞ্চলিক ‘আমি সুন্দরবনে নামিছি, ধরার আগেই কার্ড করো’

‘আমি সুন্দরবনে নামিছি, ধরার আগেই কার্ড করো’

19


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
‘ধরলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, তবে যোগাযোগ করে গেলে ২০ হাজার টাকায় ঝামেলা মিটবে। আমি সুন্দরবনে নামিছি, ধরার আগেই তোমরা আমার কার্ড করো।’ সুন্দরবনগামী জেলে ও নৌকা মালিকদের এভাবেই মোবাইল ফোনে এক দস্যু হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তার কাছ থেকে ফোনকল পাচ্ছেন তারা।
নিজেকে ফজলু হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি আরও বলছেন, ‘আমি কাজল-মুন্নার সঙ্গে পৃথক হয়ে গেছি। এখন আমি একটু সমস্যায় রয়েছি, তোমরা আমার কার্ড করো।’
সম্প্রতি তাঁর কাছ থেকে কল পেয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন হরিনগর গ্রামের আজিবার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, একাধিকবার কল দিয়ে ফজলু তাঁকে নৌকাপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে আদায় করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। না হলে সুন্দরবনে যাওয়া আজিবারের জেলেদের জিম্মি করারও হুমকি দিচ্ছেন।
ফজলুর কাছ থেকে এভাবে কল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন হরিনগরের আব্দুল কাদের, মুন্সীগঞ্জের আব্দুল্লাহ ও বুড়িগোয়ালিনীর হোসেনসহ কয়েকজন নৌকা মালিক। তারাও জানিয়েছেন, কার্ড না করে কোনো নৌকা বনে পাঠাতে নিষেধ করেছেন ফজলু। ধরতে পারলে নৌকাপ্রতি ৫০ হাজার করে টাকা দিতে হবে বলেও তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এ কারণে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে যাওয়া জেলে ও নৌকা মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জেলেরা জানায়, ফজলু আগে আলিম বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনে দস্যুতা করতেন। দীর্ঘদিন তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি ওই বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ভারতীয় কিছু দস্যুর সঙ্গে মিলে কাজল-মুন্না বাহিনী নামে সুন্দরবনে ডাকাতি শুরু করেছেন। সম্প্রতি ফজলু ওপরে বা ডাঙায় অবস্থান করে হুমকি দিয়ে জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
অনুসন্ধান চালিয়েও ফজলুর প্রকৃত পরিচয় জানা যায়নি। কয়েকজন জেলের ভাষ্য, কালীগঞ্জের মৌতলা গ্রামে ফজলুর বাড়ি। তাদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে সুন্দরবন-সংলগ্ন পার্শ্বেখালী গ্রামের আলমগীর ওই জলদস্যুর হয়ে কার্ড দিয়ে টাকাও আদায় করছেন। তিনি কয়েকজন জেলের কাছে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করে কাজল বাহিনীর কার্ড বুঝিয়ে দিয়েছেন। কথিত ওই কার্ড আসলে পাঁচ ও ১০ টাকার নোট। এসব নোটের ওপর নির্দিষ্ট সংখ্যা লিখেই সেটিকে কার্ড হিসেবে সরবরাহ করছেন আলমগীর।
আলমগীরের বক্তব্য জানতে কল দিয়েও তাঁর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। শনিবার বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এদিন কথা হয় আলমগীরের স্ত্রী রিমা আক্তার ও ভাই শাহীন হোসেনের সঙ্গে। তারা এসব বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তাদের দাবি, আলমগীর ব্যবসায়িক কাজে খুলনায় আছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফজলুল হক দাবি করেন, দস্যুদের তৎপরতা বন্ধে বন বিভাগ প্যাট্রল ডিউটি জোরদার করেছে। বিশাল সুন্দরবনের সব জায়গায় একযোগে অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।
শ্যামনগর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা বলেন, প্রায় তিন মাস আগে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন তারা। তিন সপ্তাহ আগে ডাকাতের পক্ষে অর্থ আদায়কারী তিনজনকে যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার জলদস্যু ও বনদস্যুদের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় লোকজন সহায়তা করলে এসব দস্যুদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।