ডা. তাসলিমা নিগার।।
কোরিওকার্সিনোমা একটি বিরল ক্যানসার। এটি আক্রমণাত্মক ক্যানসার, যা গর্ভাবস্থার সময় প্লাসেন্টা গঠনে অংশগ্রহণকারী ট্রফোব্লাস্ট নামক কোষ থেকে বিকশিত হয়। এটি গর্ভকালীন ট্রফোব্লাস্টিক রোগ (GTD)-এর একটি ধরন। এ কোষগুলো ভ্রƒণের পুষ্টি জোগানো ও প্লাসেন্টা গঠনের জন্য দায়ী। কোরিওকার্সিনোমা যে-কোনো গর্ভাবস্থার পরে ঘটতে পারে। তবে এটি মোলার গর্ভাবস্থার (এক ধরনের গর্ভকালীন ট্রফোব্লাস্টিক নিওপ্লাজিয়া) সঙ্গে অধিকাংশ সময় সম্পর্কযুক্ত।
প্যাথোফিজিওলজি : এ রোগে ট্রফোব্লাস্টিক কোষ দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়। কোষগুলো জরায়ুর প্রাচীর আক্রমণ করে এবং ফুসফুস, লিভার, মস্তিষ্ক, কিডনিসহ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। রোগটির বৈশিষ্ট্য হলো
আক্রমণাত্মক এবং দ্রুত বর্ধনশীল : শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে দ্রুত মেটাস্টেসিসের প্রবণতা থাকে, বিশেষ করে ফুসফুসে।
ট্রফোব্লাস্টিক উৎপত্তি : ভ্রƒণ সংযুক্তি ও প্লাসেন্টা গঠনের জন্য দায়ী কোষ থেকে উৎপন্ন হয়।
গর্ভকালীন বা অ-গর্ভকালীন উৎস : সাধারণত গর্ভাবস্থার পর দেখা দিলেও, এটি গর্ভাবস্থার বাইরেও (বিশেষত পুরুষের মধ্যে) দেখা যেতে পারে।
প্রকারভেদ : এই ক্যানসার অনেক ধরনের। যেমন-
গর্ভকালীন কোরিওকার্সিনোমা : মোলার গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত, অ্যাক্টোপিক গর্ভাবস্থা বা স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার পরবর্তী ধাপে সৃষ্টি হতে পারে।
অ-গর্ভকালীন কোরিওকার্সিনোমা : পুরুষ ও নারী- উভয়ের হতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে এই জীবাণু কোষের টিউমার অণ্ডকোষে দেখা যায়।
লক্ষণ : নারীর ক্ষেত্রে- গর্ভাবস্থা বা পরবর্তী সময় অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা দেয়। অবিরাম ব্যথা হতে থাকে। উচ্চমাত্রার হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিনের কারণে রক্তে হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
সাধারণ লক্ষণ : ফুসফুসে মেটাস্টেসিসের ফলস্বরূপ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। মস্তিষ্কে ক্যানসারের বিস্তারের কারণে মাথাব্যথা হয়। লিভার আক্রান্ত হলে পেট ব্যথা দেখা দেয়।
রোগ নির্ণয় : অস্বাভাবিক রক্তপাত, পেলভিক ব্যথা, hCG মাত্রা বিবেচনা করা হয়। রক্তে হরমোনের মাত্রা পরিমাপ, রক্ত স্বল্পতা বা অন্যান্য অস্বাভাবিকতা যাচাই করা হয়। জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের চিত্র নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান, এমআরআই, বুকের এক্স-রে, বায়োপসি করার প্রয়োজ পড়ে।
চিকিৎসা : কেমোথেরাপি এ রোগে প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগের পর্যায় ও বিস্তার অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন করা হয়। সাধারণত ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে মেথোট্রেক্সেট, ড্যাকটিনোমাইসিন ও ইটোপোসাইড। টিউমার অপসারণযোগ্য হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। যারা ভবিষ্যতে সন্তান চান না, তাদের ক্ষেত্রে হিস্টেরেক্টমি (জরায়ু অপসারণ) করা হয়।
পূর্বাভাস ও ফলো-আপ : প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে এবং যথাযথ কেমোথেরাপি প্রয়োগে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। নিয়মিত ফলো-আপ ও hCG স্তরের পর্যবেক্ষণ পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরোধ ও ঝুঁকি হ্রাস : যাদের মোলার গর্ভাবস্থার ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে hCG পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার ও গবেষণা
ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী
চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা
হটলাইন : ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯










































