স্পোর্টস ডেস্ক।।
ইতিহাস গড়া ক্লাব, অথচ যুগের পর যুগ ছিল শুধুই স্মৃতির পাতায় বন্দি। তবে তিন বছরের ভেতর পাল্টে গেল দৃশ্যপট। আর তারই ধারাবাহিকতায় অবশেষে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের দেখা পেল রেকস্যাম এফসি। ৪৩ বছর পর ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের স্বাদ পেল ওয়েলসের ঐতিহাসিক ক্লাবটি।
শনিবার মিলওয়াল এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে রেকস্যাম। চ্যাম্পিয়নশিপে এর আগে তাদের সর্বশেষ জয় এসেছিল ১৯৮১-৮২ মৌসুমে—রদারহ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে।
রেকস্যাম শুধু ওয়েলসেরই নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবল ইতিহাসের এক গৌরবময় নাম। ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম পেশাদার ফুটবল ক্লাব। ওয়েলস কাপ জিতেছে রেকর্ড ২৩ বার—তবে শেষবার সেই সাফল্য ধরা দেয় ১৯৯৫ সালে।
সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছিল তারা। তিন মৌসুম আগেও জায়গা ছিল ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের লিগে। শিরোনামে আসার মতো কিছুই ছিল না।
২০২০ সালে হলিউড তারকা রায়ান রেনল্ডস ও তার বন্ধু রব ম্যাকএলহেনি ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার পর বদলে যেতে থাকে ক্লাবের ভাগ্যরেখা। কেবল মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।
টানা তিন মৌসুমে টানা তিনটি ডিভিশন পেরিয়ে রেকর্ড গড়ে রেকস্যাম উঠে আসে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে, চ্যাম্পিয়নশিপে। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে এমন নজির আর কেউ দেখাতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র চার বছরে ক্লাবটির বাজারমূল্য বেড়েছে ৭৪০০ শতাংশ! এখন যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড।
চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরে আসার পর শুরুটা ছিল কঠিন—প্রথম তিন ম্যাচে এক ড্র আর দুই হারে হতাশই হয়েছিল রেকস্যাম। তবে চতুর্থ ম্যাচে মিললো স্বপ্নের সেই জয়।
মিলওয়ালের মাঠে ৫৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় রেকস্যাম। এরপর ইনজুরি-জনিত দীর্ঘ অতিরিক্ত সময়ের ১৮তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে নিশ্চিত করে ঐতিহাসিক জয়।
গোলকিপার ড্যানি ওয়ার্ডের চোটের কারণে ম্যাচে অনেকটা অতিরিক্ত সময় যোগ হয়, যেটি কাজে লাগিয়েই জয় তুলে নেয় দলটি।
রেকস্যামের এই জয় শুধুই একটি ম্যাচ জেতা নয়। এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে আসা এক গর্বিত ঐতিহ্যের ঘোষণা। অতীতের গৌরবকে সঙ্গে নিয়ে তারা আবারও স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে—এইবার হয়তো আরও উঁচুতে ওঠার।








































