Home Lead কুয়েটের সংকট কাটছেনা, ফের আন্দোলনে শিক্ষকরা

কুয়েটের সংকট কাটছেনা, ফের আন্দোলনে শিক্ষকরা

36


সৈয়দ রানা কবির।।
সংকট কাটছে না খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট)। দীর্ঘ ৫ মাস পর ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হলেও ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গত ফেব্রুয়ারির শিক্ষক লাঞ্ছণার প্রতিবাদে ফের আন্দোলন শুরু করে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করছেন বিগত সরকারের সুবিধাভোগীদের প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে।
উভয়পক্ষের অভিযোগ, সদ্য সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য যথাযথ সিন্ধান্ত নিতে না পারায় সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে ফের সংকটে পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ওই রাতেই হামলাকারীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তৎকালীন উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছনা করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৫ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের দায়িত্ব পান অধ্যাপক মো. হযরত আলী। কিন্তু মাত্র ২১দিন দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ করেন। ওই সময় শিক্ষক লাঞ্ছনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে ৪ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। তাঁরা ২৮ জুলাই পর্যন্ত টানা তিন মাস ক্লাস বন্ধ রাখেন। এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবমিলিয়ে ৫ মাস লেখাপড়া বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। সর্বশেষ ২৪ জুলাই প্রফেসর ড. মো: মাকসুদ হেলালী নিয়োগ পান। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৯ জুলাই থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হয়।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, কুয়েট শিক্ষক সমিতির পূর্ববর্তী সভার ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১১তম সাধারণ জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে কালো ব্যাজ ধারণ ও আধা ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির কালো ব্যাজ ধারণ ও অবস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন পালন করেছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ১৮ ফেব্রয়ারি শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবিতে নতুন যোগদান করা ভাইস চ্যান্সেলার (ভিসি) সম্মানে ও তার সদ্য যোগদানে স্বাগত জানিয়ে তিন সপ্তাহ তাদের সকল প্রকার কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষক সমিতি। কিন্তু শিক্ষক সমিতির দেওয়া তিন সপ্তাহ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও ভাইস চ্যান্সেলর কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১ টা পর্যন্ত কুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নিচে কুয়েট শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচি পালন ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করছেন। এই কর্মসূচি আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত থাকবে বলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. প্রফেসর ফারুক হোসেন জানান।
তিনি জানান, আগামী ২৪ আগস্ট কুয়েট শিক্ষক সমিতি তাদের চুড়ান্ত অবস্থান ও পরবর্তী নতুন কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, সদ্য যোগদান করা ভাইস চ্যান্সেলর সাধারণ শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার আলেচনা বা সহযোগিতা করছেন না। তিনি বরং শিক্ষকদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে করা সাবেক ভারপ্রাপ্ত ভিসি’র ইউজিসির নিকট দেয়া লিখিত কিছু অভিযোগ তুলে ধরছেন। এতে করে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে শিক্ষকরা বলেন, তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোন অনীহা দেখাচ্ছেন না। সময়মত পাঠদান ও পরীক্ষা চলমান রয়েছে। তবে পূর্বের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বর্তমানে নতুন ভিসি’র অসহযোগিতায় এখন শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ আরো দানা বাধছে বলে স্বীকার করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
পূর্ব ঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নিলে শিক্ষক সমিতি কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এছাড়া ২৫ ও ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত কুয়েট প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান ও কালব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন চলমান রয়েছে।
শিক্ষকদের অপর একটি সূত্র অভিযোগ করেছে, নবনিযুক্ত কুয়েট ভাইস চ্যান্সেলর আওয়ামী দোসর ও পূর্বের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। যে ঘটনার প্রতিবাদ করেছে কুয়েট সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এর সামনে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন রাহুল জাবেদ, ইফাজ জমাদ্দার, শাকিব ফয়সাল অয়ন, জিলানী, রাজিম, সিয়াম, মাসুম, খাইরুল প্রমূখ।
মানববন্ধন শেষে কুয়েত ভাইস চ্যান্সেলর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষকরা শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় ২১ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২ টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, নবনিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মাসুদ হেলালী বিচার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করছেন। আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে সঠিক বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ভিসি তাঁর ইচ্ছামতো স্থানান্তর ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
তবে ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাসুদ হেলালী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এগুলো সব মনগড়া অভিযোগ। তিনি শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।