বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের (রামপাল-মোংলা) ৩ সংসদীয় আসন পর্নবহালের দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২১ আগষ্ট) সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার ফকিরহাট উপজেলার নোয়পাড়া মোড় এবং কাটাখালী মোড় ৪ ঘন্টা ধওে অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা।
এসময় ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক ও খুলনাসহ সারাদেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এ জেলার সাথে। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারন মানুষ। এসময় বিএনপি জামায়াতসহ জেলার রাজনৈতিক নেতা কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন,নির্বাচন কমিশনার যদি রামপাল মোংলা ৩ সংসদীয় আসন বহাল না রাখে তাহলে আবারো অবরোধ এবং হরতালের মত কর্মসুচি দেওয়া হবে। গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনার বাগেরহাটের ৪ টি আসনের মধ্যে রামপাল মোংলা নিয়ে গঠিত ৩ আসন বিলুপ্ত করার ঘোষনা দেয়। এ জন্য সে থেকে বারবার বাগেরহাটে আন্দোলন করে রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা। মহাসড়ক অবরোধের কারনে ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো মানুষ। অনেকে ডাক্তার দেখাতে বের হলেও অসুস্থতা আরো বেড়ে যায় তাদের। শতশত গাড়ীর দির্ঘ্য লাইন নিয়ে বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। অনেকের অফিস স্কুল কলেজ ও পরিক্ষা দিতে বিলম্ব হয় বলে জানান।
গেল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহবায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম।
কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাটাখালি থেকে নওয়াপাড়া মহাসড়ক অবরোধ শেষ করা হয়। আগামী ২৪ আগস্ট রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালি, ফকিরহাট, মোল্লাহাট সেতুতে, পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়েরক সাইনবোর্ড মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি করা হবে। এরপর জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি করা হবে। এছাড়া সোমবার একই সময়ে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে।
অপরদিকে অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে বুধবার রাতে বাগেরহাটে রাত দশটায় মশাল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে কচুয়া উপজেলা বিএনপি।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর বাগেরহাটে চারটি আসন বিদ্যমান ছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বাগেরহাট জেলাবাসী ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। একের পর এক কর্মসূচি দিতে থাকে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। এর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এমনকি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেছেন বাগেরহাটবাসী।
সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সমন্বয়ক এমএ সালাম,জেলা জামায়েতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আহমেদ, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ,বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম মনি, হাফিজুর রহমান হাফিজ, ফকির তারিকুল ইসলাম,মো কামরুল ইসলাম গোরাসহ সর্বদলীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির নেতা এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, “বাগেরহাটে দীর্ঘদিন ধরে চারটি আসন রয়েছে। হঠাৎ করে একটি আসন কমানোর প্রন্তাব অন্যায় ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমরা এই প্রন্তাব কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই বাগেরহাট জেলাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতৃত্বে একের পর এক কর্মসূচি চলতে থাকে। জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আসন কমানো অথবা বহাল রাখার বিষয়ে ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।









































