মো: রাজু হাওলাদার
গরুর চটপটি সে আবার কি চটপটি??? মুরগীর চটপটি সে আবার কি চটপটি? গরুর গোস্ত দিয়ে চটপটি ও মুরগির গোস্ত দিয়ে অসম্ভব ব্যাপার। তবে হ্যাঁ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন খুলনার মামুন নামের এক যুবক। খুলনা নিরালা মোড়ে গড়ে উঠেছে হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের দোকান। সেই খাবারের দোকানের একপাশেই পেটের তাগিদে জায়গা করে নিয়েছেন মামুন।
চটপটি বিক্রেতা মামুন খুলনাঞ্চলকে জানান, তিনি বিগত দিনে খুলনার স্বনামধন্য একটা মাদ্রাসার হিসাবরক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন দীর্ঘদিন। এখন তার ছেলে মেয়ে হওয়াতে সংসার বড় হয়েছে। মাদ্রাসার বেতনে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিজেই কিছু একটা করবেন। তাই তিনি তার মাথায় বসালেন ভিন্ন কিছু করার। তারপর শুরু করলেন গোস্তের চটপটি ও মুরগির গোস্তের চটপটি বিক্রি।
সর্বপ্রথম তিনি নিরালা হাজীবাড়ি মোড়ে একটা দোকান ভাড়া নিয়ে বিক্রি করতেন। সেখানে তেমন কোন সাড়া না পাওয়ায় বর্তমানে খুলনা নগরের নিরালা মোড়ে বিক্রি করছেন চটপটি।
তিনি আরো বলেন, বিকাল ৪টা থেকে শুরু করে রাত ১১ টা পর্যন্ত চটপটির খাদ্য প্রেমিকদের দেখা মেলে তার দোকানে। বাসায় বসে সকাল থেকে তার স্ত্রী সহযোগিতা করেন তার সাথে। গরুর গোস্ত, মুরগির গোস্ত, ডিম, ডাল ইত্যাদি বাসা থেকে রেডি করে নিয়ে আসেন। গরুর গোস্তের চটপটি এক প্লেট ৭০ টাকা ও মুরগির গোস্তের চটপটি এক প্লেট ৬০ টাকা এবং রেগুলার চটপটি ৩০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ প্লেট চটপটি বিক্রি হয়।
নিরালা আবাসিক এলাকার বসবাসকারী মো: রিপন সিকদার বলেন, আগে কখনোই গরুর গোস্ত দিয়ে চটপটি ও মুরগির গোস্ত দিয়ে চটপটির নামও তিনি শোনেননি। তবে তার বাসার সামনেই এই চটপটি তাকে অবাক করেছেন। চটপটি টা খেতে খুবই সুস্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যেই কেনা যায়। তবে তিনি হাসতে হাসতে আরো জানান এই চটপটির কারনেই প্রতিদিন অশান্তিতে তাকে থাকতে হয়। তার পরিবারের জন্য প্রতিদিন রাতে চটপটি নিতে হয় তা না হলে বাসা থেকে খুব ঝামেলা করে। তবে ছোট উদ্যোক্তা হিসাবে মামুনকে সব সময় তিনি উৎসাহ প্রদান করেন।
চটপটিক্রেতা বাগমারা থেকে আসা মুহাইমেনুল ইসলাম হুর বলেন, নিরালা মোড়েই সবসময় আড্ডা দেই। মামুন ভাইয়ের গরু ও মুরগির গোস্তের চটপটি মাঝেমধ্যেই খাওয়া পরে। তবে বেশিরভাগই বাসায় পরিবারের জন্য নিয়ে যাই। যেমন পরিবেশটা সুন্দর তেমনি চটপটির সাদটাই আলাদা। আমরা চাই মামুনের মত এরকম ছোট উদ্যোক্তা আমাদের দেশে অনেকেই আছে। যাদের মাধ্যমে আমরা একরকম সুস্বাদু খাবার কিনতে পারি পরিবারের জন্য।
নিরালা সাত নম্বর রোডে অবস্থিত সৌখিন বিউটি পার্লারের মালিক সুখী বলেন, সারাদিন এমনিতেই ঘর থেকে বের হতে পারি না। একের পর এক বিউটি পার্লারে সাজের জন্য আসেন কাস্টমার। তবে যেদিন থেকে গরুর গোস্ত ও মুরগির গোস্তের চটপটির কথা শুনেছি সেইদিন থেকে মাঝেমধ্যেই এই মামুন ভাইয়ের চটপটি খেতে আশা হয় পরিবার নিয়ে।










































