আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি পরিষদ। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে উপদেষ্টা >> আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি ও সরকার- মঈন খান >> আ.লীগকে দ্রুত নিষিদ্ধ ও বিচার করতে হবে- হেফাজতে ইসলাম >> বিএনপির অপেক্ষায় ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ-সারজিস আলম
আসাদুজ্জামান ইমন, ঢাকা অফিস।।
অবরোধ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের কাছে মিন্টো রোডের প্রবেশ মুখে সমাবেশ শেষে তারা শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেন। ওই সমাবেশ থেকেই শাহবাগ মোড় অবরোধের ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “ইন্টেরিমের (অন্তর্র্বতী সরকারের) কানে আমাদের দাবি পৌঁছায়নি। তাই আমরা সমাবেশস্থল থেকে শাহবাগ অবরোধে যাচ্ছি। দাবি না আদায় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করব।” সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের খবর নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে সরকারপ্রধানের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন একদল বিক্ষোভকারী। তাতে সংহতি প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষমাবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার জুমার পর তারা মিন্টো রোডের প্রবেশ মুখে মঞ্চ বানিয়ে সেখানে সমাবেশ করেন। আওয়ামী লীগকে ও নিষিদ্ধ করার দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন হাতে তাতে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। হাসনাত আবদুল্লাহ সমাবেশে বলেন, ১০০টা ফেরাউন একসঙ্গে করলেও একটা হাসিনা পাওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগকে কেন রাজনৈতিক দল বলা হয়? “আমরা শুনতে পাচ্ছি প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে তিনি নাকি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।” তিনি বলেন, “ইতিহাসের প্রত্যেকটা স্তরে স্তরে আওয়ামী লীগের হাতে রক্ত লেগে রয়েছে। ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা দিয়ে তারা হত্যা করেছে। ভারতীয়দের সহায্যতায় আমাদের দেশপ্রেমিক বিডিআরদের পিলখানায় হ্যা করা হয়েছে। শাপলায় গণহত্যা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের ফিরিস্তি অনেক দেওয়া হয়েছে, আর নয়। আওয়ামী লীগ নামক ভাইরাস নিয়ে এ বাংলাদেশে থাকতে চাই না।” আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আগ পর্যন্ত এই ব্লকেড কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয় সমাবেশ থেকে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা সবাইকে একত্রিত করতে এই জমায়েতের ব্যবস্থা করেছি। এখান থেকে গিয়ে আমরা এখন আমরা শাহবাগ অবরোধ করব।” সমাবেশে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী আকন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, লেবার পার্টির ডা মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার রাশেদ প্রধান, ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদিসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বিকাল ৪টার পর আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে এগোতে থাকেন। ফলে শাহবাগমুখী সবগুলো রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে সমাবেশ চলার মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয় প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে। সেখানে বলা হয়, “সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। “এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে।” এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহবান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ‘জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে। “এছাড়া সরকারের পক্ষে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী শোধনী আনার উদ্দোগ নেওয়া হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির দেশভাগের বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোতের বিষয়ে সরকার অবগত। “এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর রয়েছে।”
‘শাহবাগে বড় স্ক্রিনে দেখানো হবে জুলাই গণহত্যার ডকুমেন্টারি। শাহবাগে বড় স্ক্রিনে জুলাই গণহত্যার ডকুমেন্টারি দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী। গতকাল শুক্রবার রাত ৭টার দিকে ফেসবুকে করা এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। পোস্টে শরীফ ওসমান হাদী লিখেন, রাত ৮টা থেকে শাহবাগে জায়ান্ট স্ক্রিনে জুলাই গণহত্যার ডকুমেন্টারি দেখানো শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ। তার এ পোস্ট শেয়ার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আরও অনেকে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল করেছেন কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা। এর আগে শাহবাগ রকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার পরপরই শাহবাগ মৌড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে মিন্টো রোড থেকে শাহবাগ অভিমুখে মিছিল নিয়ে আসেন আন্দোলনকারীরা। এরপর শাহবাগ মোড়ে বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এতে এনসিপি, শিবির, আপ বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দলে দলে যোগ দেন। এ সময় তারা ব্যান ব্যান আওয়ামী লীগ, একটা একটা লীগ ধর, ধরে ধরে জেলে ভর, ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। বিকেল ৫টার দিকে আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদের নেতৃত্বে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে শাহবাগে যোগ দেন। এ ছাড়া কওমিসহ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলামোটর অভিমুখ থেকে ঢাকা মহানগর শিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মী শাহবাগে এসে যুক্ত হয়েছেন। এ সময় তারা শিবির শিবির স্লোগান দিতে থাকেন। শাহবাসে ব্লকেডে অংশ নেওয়া ব্যক্তির বলছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা। এর আগে সকালে যমুনার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই জমায়েতের ডাক দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুথ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, ফোয়ারার সামনে মঞ্চে বাদ জুমা জনসমুদ্র হবে। আজ তারা বুঝতে পারবে কারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চায়। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে অন্তর্র্বতী সরকার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে সরকার জন দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভ বিষয়ে সরকার অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি ও সরকার: মঈন খান: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তবে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন চাইলে দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য কার্টার সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। মঈন খান বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক বিএনপি নয়, সিদ্ধান্ত নেবে দেশের মানুষ, নির্বাচন কমিশন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন চাইলে অলীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে। আলীগকে তিনি বলেন, বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে বিএনপি। ‘আগামী নির্বাচনে তারা (আওয়ামী লীগ) আসতে পারে এবং কীভাবে আসবে সে বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যত শিগগির নির্বাচন হবে ততই মঙ্গল হবে বলে মন্তব্য করেন মঈন খান।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। কার্টার সেন্টারের ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামের সিনিয়র আসোসিয়েট ডিরেক্টর জোনাথন স্টোনস্ট্রিট। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর মাইকেল বালদাসারো, ডেটা সায়েন্টিস্ট সাইরাহ জাইদি, আসোসিয়েট ডিরেক্টর ডানিয়েল রিচার্ডসন, পিস ও ডেমোক্রেসি প্রোগ্রামের প্রেগ্রাম অ্যাসোসিয়েট কাজী শহীদুল ইসলাম।
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে এ বৈঠক করেন কার্টার সেন্টারের প্রতিনিধিরা।
আ.লীগকে দ্রুত নিষিদ্ধ ও বিচার করতে হবে: হেফাজতে ইসলাম মানবতার শত্রু আলীগকে দ্রুত নিষিদ্ধ ও বিচার করতে হবে বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটির আমির আল্লামা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ দাবি জানান। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো বিবৃতিতে তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতাকে রাজপথ আঁকড়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা বিনা বিচারে গণহত্যাকারী আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসরদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ প্রদানের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সহস্রাধিক শহিদের প্রাণের বিনিময়ে ইতিহাসের অন্যতম সফল রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের বৈধতার ভিত্তিতে এ অন্তর্র্বতী সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু নজিরবিহীন জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও জুলাই বিপ্লবের প্রথম দাবি শাপলা চতুর ও জুলাইয়ের গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে সরকার। আমরা মানবতার শত্রু আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দ্রুত নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীসহ সমগ্র ছাত্র-জনতাকে রাজপথ আঁকড়ে থাকার আহ্বান করছি। তারা আরও বলেন, শাপলা চতুর ও জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচারসহ জুলাই বিপ্লবের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। অধিপত্তবাদী ভারতের এজেন্ট আওয়ামী লীগ আবার সুযোগ পেলে ফ্যাসিবাদবিরোধী কোনো পক্ষকেই রেহাই দেবে না। কেননা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মধ্যে কোনো অনুশোচনাবোধ নেই, বরং তারা প্রতিশোধের নেশায় মন্ত্র। জাতি নতুন করে তাদের তওবার ধোঁকায় আর পড়বে না। অতীতেও তারা তওবা করে ফিরেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে ঠিকই ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। এমনকি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ভারতের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্মসহ সমগ্র সমগ্র দেশবাসী সেসবের সাক্ষী ও ভুক্তভোগী। তাই জনগণের আকাঙক্ষা ও দাবির সঙ্গে এক হয়ে আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারের উদ্দেশে বলেন, সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার দাবি মেনে অবিলম্বে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করুন এবং দলটির বিচারকাজ ত্বরান্বিত করুন। অন্যথায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে ইউনুস সরকারকে। ইতিহাস তাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।
বিএনপির অপেক্ষায় ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ: সারজিস আলম: জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দলকে নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল রাজধানীর শাহবাগ। ইতোমধ্যে গণজমায়েত করে শাহবাগ অবরোধ করে রেখেছেন ছাত্র-জনতা। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে কর্মসুচি চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। আর তাদের এই কর্মসূচিতে বিএনপিকে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আরেক নেতা সারজিস আলম। গতকাল শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আহ্ববান জানান তিনি। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ফেসবুকে লেখেন, ‘বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠন ব্যতীত সকল রাজনৈতিক দল এখন শাহবাগে। বিএনপি এলে জুলাইয়ের ঐকা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ বিএনপির অপেক্ষায়। আজকের এই শাহবাগ ইতিহাসের অংশ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির মানদণ্ড।’ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গতকাল বিকেল ৪টা ৪৫ নাগাদ শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ছাত্র-জনতা। এর আগে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে সমাবেশ করে এনসিপি। সেখানে শাহবাগ মোড় অবরোধের ঘোষণা দিয়ে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত এনসিপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
এদিকে এনসিপির এই কর্মসূচিতে এখনো সাড়া দেয়নি বিএনপি। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছে দলটি। শুক্রবার এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মাটির সদস ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা বিএনপি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক না। এ সিদ্ধান্তের মালিক জনগণ। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে- কে নির্বাচন করতে পারবে, কে পারবে না।’ এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিকে শাহবাগে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্ববান জানালেন এনসিপি। নেতা সারজিস আলম।
প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি উঠছে। তবে বুধবার (৭ মে) গভীর রাতে চুপিসারে আওয়ামী লীগ আমলের দুইবারের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগের প্রেক্ষাপটে দলটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জোরদার হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়েও প্রশ্ন তোলে। তারই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজধানীর রাস্তায় নেমেছেন জ্বলাই বিপ্লবের পক্ষের লোকজন।











































