Home আঞ্চলিক ৬ পদ শূন্য: জনবল সংকটে ধুঁকছে শৈলকুপা প্রাণিসম্পদ দফতর

৬ পদ শূন্য: জনবল সংকটে ধুঁকছে শৈলকুপা প্রাণিসম্পদ দফতর

3


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। মোট ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে ৬টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে, সীমিত জনবল দিয়েই উপজেলার প্রাণিসম্পদ চিকিৎসা, কৃত্রিম প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ও মাঠপর্যায়ের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে ১ জন ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস), ৪ জন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) এবং ১ জন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণী স্বাস্থ্য)। অর্থাৎ, প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাঠপর্যায়ের সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ৬টি পদে বর্তমানে কোনো জনবল নেই।

শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গবাদিপশু ও পোলট্রি খামারিদের চিকিৎসা, টিকাদান, কৃত্রিম প্রজনন, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাণিসম্পদ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশেষ করে গবাদিপশুর রোগব্যাধি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হয় দফতরের কর্মকর্তাদের। কিন্তু ভেটেরিনারি সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ বাড়ছে কর্মরতদের ওপর।

স্থানীয় খামারি খুশি খাতুন বলেন, ‘গবাদিপশু বা যেকোনো প্রাণী অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া জরুরি। কোনো প্রাণীর রোগ ছড়িয়ে পড়লে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল থাকা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু দাফতরিক কার্যক্রম নয়, প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে কৃষক ও খামারিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেরিনারি সার্জন পদসহ শূন্য থাকা ৬টি পদ দ্রুত পূরণ করা হলে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের সেবার মান আরও বাড়বে।’

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। বিশেষ করে ভেটেরিনারি সার্জন এবং উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা উপজেলার খামারি ও সাধারণ মানুষের প্রাণিসম্পদ সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’