স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে ‘আজাদ স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে মালামাল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দোকানমালিক খাদিজার দায়ের করা নালিশি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গত ২২ অক্টোবর খালিশপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা অপর অভিযুক্ত হলেন আশিকুর রহমান অশোক। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৭(১০)২৬ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে খালিশপুর থানার কাদের সরদারপাড়া এলাকার পোর্ট কলোনি বন্ধ গেটসংলগ্ন ‘আজাদ স্টোর’ দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, আশিকুর রহমান অশোকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করেন দোকানমালিক খাদিজা। অভিযুক্তদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নালিশি আবেদনে দাবি করেন তিনি।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি পাশের একটি জলাশয় লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন তিনি। এসব আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাঁর পরিবারের জীবিকা চলে। দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট আদালতে নালিশি আবেদন দাখিল করেন খাদিজা। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে খালিশপুর থানাকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে ২২ অক্টোবর মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়।
অন্যদিকে, মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, বাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন ষড়যন্ত্র করছেন। বাদীর ছেলের বিষয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তাঁকে যারা উসকানি দিচ্ছেন, তাঁরা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও কে বা কারা আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন হাবিবুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে ঘটনাটি ঘটেছে।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুদি দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে হাবিবুর রহমান বিশ্বাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্য কোনো প্রমাণের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় এ ঘটনায় কারও দায় আদালতে প্রমাণিত হয়নি।











































