Home আঞ্চলিক দিঘলিয়াতে ভৈরব সেতুর র্নিমান কাজ শুরু হবে নভেম্বরে

দিঘলিয়াতে ভৈরব সেতুর র্নিমান কাজ শুরু হবে নভেম্বরে

82

আসাদ, দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ

খুলনা মহানগরীর সঙ্গে ভৈরব নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন দিঘলিয়া উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভৈরব সেতু স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর পূরণ হতে চলছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে আগামী নভেম্বর/ ডিসেম্বর মাসে। সেতুটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে খুলনা নগরীর ওপর মানুষের চাপ কমে যাবে। নদীর ওপারে কলকারখানা স্থাপনসহ বসতি বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং দিঘলিয়া উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে খুলনা শহরে যেতে পারবে।

গত ২৭ জুলাই ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গত ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেতু নির্মাণের জন্য ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল, ওয়াহিদ কনষ্ট্রাকশন, মেসার্স মোজাহার ইন্টারপ্রাইস ও মেসার্স তাহের ব্রাদার্স নামে ৪ টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র জমা পড়েছে। এ মূহুর্তে কাগজ পত্র যাচাই বাছাই এর কাজ চলছে। যাচাই বাছাই শেষে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে সম্ভব্য মোট ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যায় ধরে প্রকল্পটি গত বছর ১৭ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। যা পরবর্তীতে আনুসঙ্গিক অন্যান্য খরচ সহ ৭৩৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা নির্ধারন করা হয়। এর মধ্যে শুধু সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা ব্যয় হবে জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজে।

সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, বিভিন্ন পরীক্ষার পর ভৈরব নদের পানি প্রবাহ ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নদী থেকে ৬০ ফুট উঁচুতে পিসি গার্ডার নকশায় সেতুটি নির্মিত হবে। আর সেতুর সঙ্গে সড়কের সংযোগ স্থাপন করতে নগরীর ভেতরেও সেতুর বর্ধিতাংশ পড়ছে। অর্থাৎ দৌলতপুর রেল স্টেশন থেকে ভৈরব নদ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার এলাকায় ওভারপাস থাকবে। নদীর ওপারেও ওভারপাস হয়ে সেতু মিশবে দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ মোড় এলাকায়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে যানা যায়, ওভারপাস বা সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ওই এলাকার বেশিরভাগই শিল্পকারখানা। এ জন্য অধিগ্রহণ ব্যয় তিনগুণ ধরে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। মূলত এ কারণেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে। যাদের জমি নেওয়া হবে তারা তিনগুণ বেশি দাম পাবেন। ফলে কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। দরপত্র যাচাই-বাছাই ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব কার্যাদেশ দেওয়া হবে। আগামী নভেম্বর/ডিসেম্বর

মাসে মাঠ পর্যায়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য  জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেতু নির্মাণে সময় ধরা হয়েছে তিন বছর।

সেতুটি দ্রুততম সময়ে নির্মাণের জন্য, খুলনা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে একাধিকবার জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন।