Home আঞ্চলিক তরমুজে স্বপ্ন ম্লানের শঙ্কায় চাষিরা!

তরমুজে স্বপ্ন ম্লানের শঙ্কায় চাষিরা!

17

স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়ন। বিস্তৃর্ণ এলাকার কৃষিজমিতে চলছে তরমুজ আবাদের কর্মযজ্ঞ। কোথাও বীজ রোপণ, কোথাও আবার সার, পানি ও কীটনাশক ছিটাচ্ছেন কৃষক।


সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে এমন ব্যস্ততা। তবে অনেকের কপালেই চিন্তার ভাঁজ। পানি সংকটে শেষ পর্যন্ত ফসল ঘরে তুলতে পারা নিয়ে শঙ্কা তাদের মনে।

চাষিরা বলছেন, খাল-বিলের পানি শেষ প্রায়, দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরের খালে কিংবা পুকুরে জমা পানি সেচযন্ত্রের সাহায্যে পাইপ দিয়ে আনতে হচ্ছে ক্ষেতে।

অপরিকল্পিতভাবে নামকাওয়াস্তে খাল খনন, বাঁধ, ইজারা দিয়ে মাছ চাষসহ বিভিন্ন কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন তারা। একই সঙ্গে বাজারে ভালো বীজ না পাওয়া, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ, দুর্বল বিপণন ব্যবস্থাও দুশ্চিন্তার কারণ তাদের। অভিযোগ কৃষি অফিসও আশানুরুপ সহযোগিতা করছে না।

জয়দেব মণ্ডল নামের এক চাষি বলেন, ‘কম বিনিয়োগ আর কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় তরমুজ চাষ করছি বছর দুই ধরে। তবে তরমুজ চাষের শেষ সময়ে সেচ সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। তখন উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।’

মিয়া সোবহান নামের আরেক চাষি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত পানি না পেলে ফলন হবে না, আমরা শেষ হয়ে যাব।’ বাজারে ভালো বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি নদী-খালের ইজারা অবুমক্ত এবং খনন করে তরমুজ চাষের জন্য সেচ ব্যবস্থার দাবি তার।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদী-খাল ইজারামুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ে লিখেছেন তারা। একই সঙ্গে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শসহ পানি সংকট মেটাতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যেগ।

তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ে বিনিয়োগের তিনগুণ লাভ হওয়ায় দিন দিন কৃষক ঝুঁকছেন তরমুজ চাষে। তরমুজে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উপকূলের কৃষি অর্থনীতি।

তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খুলনার উপকূলীয় পাঁচ উপজেলার ১৭ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। যা থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।