Home আলোচিত সংবাদ মহাসচিব আসছেন ১৩ই মার্চ: বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার জাতিসংঘের

মহাসচিব আসছেন ১৩ই মার্চ: বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার জাতিসংঘের

11


ঢাকা অফিস।।
বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। সেই সঙ্গে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়াকেও সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ এসব কথা জানান। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আমন্ত্রণে আগামী ১৩ই মার্চ ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন গুতেরাঁ। তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ড. ইউনূস যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এটা তার জবাব বলে নিশ্চিত করেছে সেগুনবাগিচা।

নিজের বাংলাদেশ সফরের কনফার্মেশন বিষয়ক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরাঁ লিখেন- জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে আরও সক্রিয় করা অব্যাহত রাখবে। চিঠিতে গুতেরাঁ জানান, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের ওপর পড়া প্রভাব এবং রাখাইনে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগের সঙ্গে একমত। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাসহ মিয়ানমারের সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধানের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক অংশীদার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট (আসিয়ান) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তিনি তার বিশেষ দূতের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আমি জাতিসংঘের বাংলাদেশ ও মিয়ানমারভিত্তিক কর্মী দলকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য আমার সিনিয়র কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছি, যেন তারা রাখাইন সমপ্রদায়ের জন্য মানবিক ও জীবিকার সহায়তা আরও বাড়াতে পারে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জাতিসংঘ এই ইস্যুতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করবে, যার মধ্যে জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী ও মিয়ানমারের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারীর মাধ্যমে রাখাইনসহ সারা মিয়ানমারে নিরাপদ, দ্রুত, টেকসই ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গুতেরাঁ আশা প্রকাশ করেন যে, রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন বিশ্বব্যাপী নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ এবং রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জন্য আরও বিস্তৃত সমাধান বের করতে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের ব্যবস্থা কীভাবে প্রক্রিয়াটিকে সর্বোত্তম সমর্থন করতে পারে তা বোঝার জন্য সদস্য রাষ্ট্রের পরামর্শ অনুসরণ করে আমরা সম্মেলনের সম্মত ফলাফল এবং পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করছি। জাতিসংঘ মহাসচিব পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, জাতিসংঘ বাংলাদেশকে দৃঢ় সংহতি জানাচ্ছে এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে দায়িত্বরত বাংলাদেশের পেশাদার কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিব মিস্টার গুতেরাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি চিঠি লিখেন। যা ৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা ইস্যু ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হস্তান্তর করেন। চিঠি লেখে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে এবং সাক্ষাৎ করে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তরের জন্য উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলকে ধন্যবাদ জানান মহাসচিব। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রথম এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ।