Home কলাম জনগনের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে বিএনপি’র জন্ম

জনগনের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে বিএনপি’র জন্ম

267

আজিজুল বারী হেলাল


আজ বিএনপি’র জন্মদিন। ১৯৭৮ সালের এইদিনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক অনিবার্য পরিনতিতে দেশবাসীকে রাজনৈতিক এই দলটি উপহার দেন।
স্বাধীনতার মাত্র ৭ বছর বয়সে তৎকালীন রাজনৈতিক শাসকগোষ্টীর দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি’র মহামারীতে স্বাধীন দেশের মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়।পঁন্চান্ন হাজার একশত ছাব্বিশ বর্গমাইল আয়তনের ভূখন্ডে বসবাসরত জনগনের সম্মিলিত জাতিগত পরিচয়ের সংকট ও রাজনীতিতে গণতন্ত্রের সংকট তীব্রভাবে দেখা দেয়।রাষ্ট্র ক্ষমতা একদলীয় শাসন ব্যাবস্থার কবলে পড়ে গনতন্ত্রের অকাল মৃত্যু ঘটে। একটি দল ব্যাতিত সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ফলে দেশের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ও চরমপন্থা’র আবিস্কার হয় এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় ও দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতা’য় ভোগে। একদলীয় লুটেরাদের দৌরাত্বে দেশের নবীন অর্থনীতি মূখ থুবড়ে পড়ে। দেশে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। দেশের মানুষ অপুষ্টি অনাহারে ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করেন। দেশের এই হতাশাজনক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং অবৈধ উপায়ে ক্ষমতার পালা বদলের ষড়যন্ত্রে ক্যূ এবং পাল্টা ক্যূ’ সংগঠিত হয়। মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্যূ’দে তা’দের হাতে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী হন।

ফলে রাষ্ট্রক্ষমতায় রাজনৈতিক শুন্যতার সৃষ্টি হয়। দেশের সার্বভৌম ক্ষমতা ধীরে ধীরে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে থাকে।
এমনই এক বিপন্ন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সিপাহি জনতার অভূতপূর্ব সংহতি’তে একটি নতুন যুগের উদ্বোধন হয়। দেশপ্রেমিক সিপাহীরা বন্দী মুক্তিযাদ্ধা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বিপ্লব সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সংগঠিত হয়। ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলেশনে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যেমন বিপ্লবের সন্তান হিসাবে ফ্রেঞ্চ জনগনের কাছে মুক্তিদাতা হিসাবে আবির্ভুত হয়েছিলেন।

জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নবেম্বর সংগঠিত বিপ্লবের সন্তান হিসাবে তেমনি বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্নপুরণে রাষ্ট্রক্ষমতায় ও রাজনীতিতে আবির্ভুত হন। সুতরাং ইতিহাসের এক অনিবার্য পরিস্থিতিতে জনগনের আশা আকাক্সক্ষা’র প্রতিফলন ঘটাতে রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি’র জন্ম এবং বিকাশ ঘটে।
শহীদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন এই ভূখ-ে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসরত সকল নৃ গোষ্টী’র মানুষকে, সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে, সকল ভাষা-ভাষী’র মানুষকে একই সূত্রে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তার মহান দর্শন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করেন।বাংলাদেশী জাতি হিসাবে স্বাধীন এই ভূখন্ডে বসবাসরত মানুষকে একটি একক আত্বপরিচয় প্রদান করে আমাদের সম্মিলিত আত্বপরিচয়ের সংকট ঘোচান এবং ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করেন।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশী নামে ইতিহাসে একটি নতুন জাতি সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি সকল মত ও পথের দলীয় রাজনীতি উম্মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। ফলে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন,চরমপন্থা,বিশৃংখলা প্রভৃতি বিদায় নেয়। রাষ্ট্রগঠনে তিনি মহান আল্লাহতালার প্রতি আস্হা ও বিশ্বাস, অর্থনৈতিক সুষম বন্টনে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সংবিধানের চার মূলনীতিতে সংযুক্ত করে বাংলাদেশে মূলধারার রাজনীতির সূচনা করেন। দেশের জনগনের আশা আকাংখা বাস্তবায়নে তিনি স্বনির্ভর আন্দোলনের ডাক দেন। যে আন্দোলন কে তিনি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব হিসাবে অভিহিত করেন। উৎপাদনের রাজনীতি চালু করে তিনি জনগনকে আত্বনির্ভরশীল ও আতœকর্ম সংস্হানে বলিয়ান করেন এবং ১৯ দফা রাজনৈতিক কর্মসূচী প্রণয়ন করেন। জনগনের প্রত্যাশা পূরনে তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে মূলধারার রাজনীতির উদ্বোধন করেন।


প্রতিষ্ঠার ৪২ তম বছরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।
শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বরণের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান হিসাবে দলকে সুসংগঠিত করেন। শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত উৎপাদনের রাজনীতিকে তিনি উন্নয়নে ত্বরান্বিত করেন এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি’র সূচনা করেন। দেশের সংখ্যাগড়িষ্ঠ জনগনের বিবেচনায় যিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতিক হিসাবে ইতিমধ্যে দেশবাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করেন। ৯০’র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া’র আপোষহীন ভূমিকায় স্বৈরাচারের পতন হয় এবং দেশবাসী তাকে দেশনেত্রী উপাধীতে ভূষিত করেন। দেশে অনুষ্ঠিত গনতান্ত্রিক নির্বাচনে তিনি নিজে কখনও পরাজিত না হয়ে বিরল এক কৃতিত্ব স্হাপন করেন এবং দলকে তিনবার বিজয়ী করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন করেন এবং দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হিসাবে সুনাম অর্জন করেন।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র আপোষহীন ও দেশপ্রেমিক ভুমিকায় আজ নিপীড়িত নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের একমাত্র প্লাটফর্ম হিসাবে জনগণের কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত।


৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি’র এই দিনে আমাদের নেত্রী, আফ্রো-এশীয় ল্যাটিন আমেরিকার নির্যাতিত কোটি কোটি গনমানুষের কাছে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে বিবেচিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
২০০৭ সালে অভিশপ্ত ১/১১’এ সংগঠিত রাজনৈতিক ক্যূ’র ফলে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং বিএনপি’র ভবিষ্যত নেতা জননেতা তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত হন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত চলমান অগনতান্ত্রিক ও ফ্যাসিষ্ট বিরোধী আন্দোলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে এদেশের জনগন কে অনুপ্ররণা যোগাচ্ছেন। রাশিয়ার বিপ্লবে ভ্লাদিমির ইলভিচ লেনিন এবং ইরানের বিপ্লবে ইমাম খোমেনি নির্বাসনে থেকে যেমন সেদেশের অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। জননেতা তারেক রহমান নির্বাসনে থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সূর্য সৈনিক হিসাবে তেমনি আমাদের দেশের অপশক্তি’র বিরুদ্ধে লড়ছেন।


জাতীয়তাবাদী দলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’তে তরুন প্রজন্মের অহংকার হিসাবে খ্যাত বিএনপি’র আগামী নেতৃত্ব জননেতা তারেক রহমান কে সালাম শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সকল নারী ও পুরুষের আশা ও প্রত্যাশার একমাত্র বাতিঘর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’র এই দিনে আমাদের অঙ্গিকার, শহীদ জিয়া’র আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে রুঁখবো সকল স্বৈরাচার।


শহীদ জিয়া অমর হোক!
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ!
জননেতা তারেক রহমান জিন্দাবাদ!!
বিএনপি জিন্দাবাদ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
লেখক: আজিজুল বারী হেলাল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় নির্বাহী কমিটি।।