Home জাতীয় ইন্টারনেট ক্যাবলই কি শুধুমাত্র শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে?

ইন্টারনেট ক্যাবলই কি শুধুমাত্র শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে?

15

আসাদুজ্জামান ইমন:
আপনারা হাজার হাজার ব্যবসায়ীর কষ্টের কোটি কোটি টাকার ক্যাবলগুলো কোন বিকল্প চিন্তা না করেই নির্দ্বিধায় জঞ্জাল বলে কেটে ফেলে দিচ্ছেন। একবারের জন্যও আপনারা ভাবলেন না যে কত ঘাম আর আশ্রুতে ভেজা এই ক্যাবলগুলো। 

সরকার লাইসেন্স দিয়েছে কিন্তু কোন ব্যাংক/ফাইন্যান্সিয়াল সংস্থা আজকের এই অসহায় ব্যবসায়ীদের একটি টাকাও লোন দেয়নি। কারও চুরি বা ডাকাতির টাকায় এই ক্যাবল কেনা হয়নি। রাস্ট্রের টাকা আত্মসাৎ করে কেউ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেনি। কেউ স্ত্রী বা মায়ের গহনা বিক্রি করে অথবা বাবার জমি বিক্রি করে অথবা বাবার সঞ্চিত শেষ অর্থটুকু এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে না। দেশের টাকা দেশে পুনঃ বিনিয়োগ করে। দেশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঘটায়। এরাই রাস্ট্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর।

গত মার্চ মাস থেকে এক ভয়াবহ করোনাভাইরাস সারাদেশকে যখন গৃহবন্ধী করে রেখেছিলো, এই ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরাই তখন জীবনের মায়া তুচ্ছজ্ঞান করে দেশকে সচল রেখেছে। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি টাকা প্রনোদনা পায়নি এই সেক্টর। লক্ষ লক্ষ টাকা লস করেও এই পরিষেবা প্রদানে বিরত থাকেনি কেউ। আজ তারাই রাস্তায় অসহায়ের মত দাড়িয়ে কষ্টের টাকায় কেনা ক্যাবলগুলোর শেষ পরিনতি দেখছে। কিচ্ছু করতে পারছে না। আপনারা জানেন না, ক্যাবলে যে আঘাতগুলো করছেন তার প্রতিটি আঘাত তীরের মত বিঁধছে প্রতিটি ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের বুকে।

প্রশ্ন আসে, শহরের সৌন্দর্য কি শধুই ইন্টারনেটের ক্যাবলেই ব্যাহত হচ্ছে? 

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই ঢাকা শহরকে রিক্সামুক্ত করা যায়নি কারণ, রিক্সাওয়ালাদের পুনর্বাসন না করে এটা সম্ভব নয়।

গত কয়েক যুগ ধরে ঢাকা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা যায়নি কারণ হকারদের জন্য স্থায়ী বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা শহরের বেশীরভাগ রাস্তা রাজউকের খাতা-কলমের সাথে মিল নেই। বেশীরভাগ বাড়িঘর রাস্তা দখল করে নির্মিত হয়েছে। ফলে নকশায় ৩০-৬০ ফুট থাকলেও বাস্তবে ১০/১৫ ফুট ব্যবহার উপযোগী। এসবের বিরুদ্ধে আপনারা পদক্ষেপ নেবার কথা চিন্তাও করেননি।

ঢাকা শহরের অনেক এলাকায় অলি গলির রাস্তার উপর বিদ্যুৎ-এর খাম্বা। বছরের পর বছর দাড়িয়ে আছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।

এরপরে ওয়াসার সুয়ারেজ ব্যবস্থার কথা নাই বল্লাম। ৩০ মিনিটের বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক এলাকায় নৌকা চলে। এটা নিশ্চয়ই সমস্যা না?

ঢাকা শহরের অনেক এলাকার রাস্তা কোন মফস্বল শহরের রাস্তার চেয়ে বেহাল অবস্থা। তাতেও কোন সমস্যা নেই।

এমন হাজারো সমস্যায় জর্জরিত আমাদের এই প্রাণের ঢাকা শহর। কিন্তু এগুলো দেখার সময় বা চোখ আপনাদের নেই। আপনাদের চোখ কি শুধু আকাশের দিকেই থাকে? হয়তো তারের জঞ্জালে আকাশ দেখতে সমস্যা হয় বিধায় এটা যত গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন কোন বিকল্প চিন্তা করার সুযোগ নাই। “শুধু ধরো আর কাটো” মেথডেই চলছে। পারলে একটু নিচেও তাকান দয়া করে, উপরের জঞ্জালের চেয়ে নিচে অনেক বেশী জঞ্জাল পাবেন। নিচ থেকে শুরু করে বিকল্প পথ তৈরী করে তারপর না হয় এই ডিজিটাল যোদ্ধাদের বুকে আঘাত করেন। তাতে সমাধানটা আরও সহজ হবে আর সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে।