Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের সব খবরা খবর

152
ট্রাকে করে মাছের পোনা নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। মোস্তফার মোড়, খুলনা

মহানগর আহবায়ক এড. মনা’র বাড়িতে পুলিশের তান্ডবে বিএনপির নিন্দা ও ক্ষোভ
।। খবর বিজ্ঞপ্তি।।
কোন ধরনের গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনাকে গ্রেফতার অভিযানের নামে পুলিশ কর্তৃক নগরীর মুন্সিপাড়াস্থ নিজ বাসভবন ও পুলিশ লাইন এলাকায় তার শশুর বাড়িতে হামলা- গ্রীল ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন খুলনা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (২৭ জুলাই) বিএনপি মিডিয়া সেল প্রদত্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, চলমান ছাত্রদের কোটা সংস্কারের গনতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকারের পদলেহনকারী অতিউৎসাহী পুলিশ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক গায়েবী মামলা দায়ের করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গ্রেফতার অভিযানের নামে হয়রানী করছে যা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে নগরীর মুন্সিপাড়া ও পুলিশ লাইন এলাকায় মহানগর বিএনপির আহবায়কের নিজ বাড়ি ও শশুর বাড়ির দরজা ও গ্রীল ভেঙ্গে পুলিশের তান্ডব চালিয়েছে। পুলিশের এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড প্রমান করে তারা দেশ ও জনগনের পক্ষে না; তারা বিশেষ একটি দল ও গোষ্ঠির পক্ষ নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় তান্ডব চালাচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের ভবিষতে এধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন অন্যথায় যেকোন পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ি থাকবেন।
বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি প্রমূখ।

আশাশুনিতে প্রতিপক্ষের হামলায় ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ আহত ৩
জ্বলেমিন হোসেন,আশাশুনিঃ
আশাশুনিতে প্রতিপক্ষের হামলায় ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ ৩ জন আহতের ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর একসরা গ্রামে। কালিদাস দাশের ছেলে ভুক্তভোগী বাদী মহানাথ দাশ জানান, পার্শ্ববর্তী মৃত পাগল দাশের ছেলে অশোক দাশের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঘটনার দিন বিকেলে আমার তর্কাতর্কি হতে হতে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়ে যায়। অশোক বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাত্তার গাজীর ছেলে বখাটে শহীদকে জানায়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহীদের নেতৃত্বে আরশাদ গাজীর ছেলে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩০/৩৫ জন লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে আমার ঘরবাড়ি ভাংচুর করে এবং পরে আমার মাসতুতো ভাই অনাথ দাশের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। এসময় বাঁধা দিতে গেলে তারা আমার বোন মিনতি দাশ ও আমার মাসতুতো বৌদি দিপালী দাশকে মারপিট করে এবং শ্লীলতাহানী ঘটায়। পার্শ্ববর্তী লোকজন ঘটনাস্থলে এলে শহীদ সহ তার বাহিনীর লোকজন রাস্তায় গেলে আমাদের খুন জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঋষি সম্প্রদায়ের ৫০ ঘরের মধ্যে অশোক দাশ সম্প্রদায়ের কারো তোয়াক্কা না করে একা একা স্থানীয় বখাটেদের সাথে চলে। ঘটনার দিন সে তার সম্প্রদায়ের লোকজনের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে কয়েক জন তাকে চড় থাপ্পড় মেরে শাষন করে। এরপর অশোক শহীদকে বললে প্রায় ৩০/৩৫ লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বাড়ি হামলা চালায়। এসময় ভয়ে পাড়াটি পুরুষ শুন্য হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ বিশ্বজিৎ কুমার জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাতক্ষীরার রাহিমাকে হত্যার চেষ্টা মামলায় আটক-১
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রায়পুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যাক্তা রাহিমাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে, যার নং-৪৩/৩৪৮, তাং-২৬/০৭/২০২৪ ইং। এ মামলায় রাশিদা খাতুন নামের এক মহিলাকে আটক করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪শে জুলাই সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় রায়পুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে রাহিমা নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলা রান্না করার সময় স্থানীয় প্রতিবেশী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কাঠের চলা, লোহার রড, কাউচি সহকারে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধভাবে তার বাড়ির মধ্যে অনধিকার প্রবেশ করে এলাপাতাড়িভাবে রাহিমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে। মারপিটের সময় তার মাথায় আঘাত করলে রাহিমা অজ্ঞান হয়ে যায়। এতে তার শরিরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট ও ফোলা জখম হয়। পরে তারা তাকে কাউচি দিয়ে মাথার চুল কেটে আগুনের ছ্যাকা দিয়ে হাত ও পায়ের কিছু অংশ পুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় রায়পুর গ্রামের শহিদুল মোল্লার স্ত্রী আমেনা খাতুন, মৃত আব্দুর রহমান সরদারের ছেলে আব্দুল গফফার সরদার, তার স্ত্রী রাশিদা খাতুন, শহিদুল মোল্লার ছেলে জাহিদুল ইসলাম এবং আজিজুর রহমানকে আসামি করে রাহিমা খাতুন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৩ নং আসামী রাশিদা খাতুনকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। অন্যান্য আসামীরা আত্মা গোপনে রয়েছে। আসামীদের আটকের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহিদুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা রাশিদা নামে এক মহিলাকে আটক করেছি। খুব শীঘ্রই অন্যান্য আসামীদের আটক করা হবে।

‘জাতির পতাকা আবারও খামচে ধরছে ৭১‘র পরাজিত শক্তি’
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে খুলনা মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। শনিবার সকাল ৭ টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পনের মধ্যে দিয়ে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। সকাল ৯ টায় টুটপাড়া কবরস্থানে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক হুইপ ও সংসদ সদস্য জননেতা এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবর জিয়াতর করা হয়। পরে সকাল ১০ টায় দলীয় কার্যালয়ে মোস্তফা রশিদী সুজা’র প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বেলা ১১ টায় নগরীর সবুরুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ ও ঔষধী গাছের চারা রোপনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর জোহর নামাজের পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতার দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র এবং তাঁর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্ঠা সজিব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে তার দীর্ঘায়ু কামনায়, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা’র রুহের মাগফিরাত কামনায় এবং বিএনপি, জামাত-শিবির ও ছাত্রদলের আগুন সন্ত্রাস এবং সহিংসতায় নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, সকল দলীয় নেতাকর্মী এবং নিহত সাধারণ জনগণের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আহত নেতাকর্মীদের স্স্থুতা কামনায় অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে তিন শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.ডি.এ বাবুল রানা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড সুজিত অধিকারী। কর্মসূচীতে অতিথিবৃন্দ বলেন, ‘জাতির পতাকা আবারও খামচে ধরছে ৭১ এর পরাজিত শক্তির সেই পুরোনো শকুন। তারা তাদের খোলস পরিবর্তন করে বিভিন্ন শ্রেণী গোষ্টির উপর ভরে করে দেশে আগুন সন্ত্রাস, নৃশংসভাবে পুলিশ বিজিবি সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ হত্যা, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্টানে হামলা লুটপাট করে ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছে। ৭১ পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসর বিএনপি জামাত কখনো এদেশের মঙ্গল চায়নি। তারা তাদের পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে না পেরে দেশের সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের উপর হামলা করছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশ উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ হোক, দেশের মানুষ শান্তিতে থাক তারা সেটা সহ্য করতে পারে না বলেই সাধারণ ছাত্রদের উপর ভরকরে এই ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, যা ৭১ এর ধ্বংসযজ্ঞকেও হার মানিয়েছে। এখন সময় এসেছে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আমাদের সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকমোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনাজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, এস. এম. খালিদীন রশিদী সুকর্ন, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মো: আবু হানিফ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এম.এ নাসিম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আসাদুজ্জামান রাসেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান রাসেল। এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ড. সাইদুর রহমান, মোঃ মিজানুর রহমান জিয়া, মোঃ রাজীব হোসাইন, শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদ, বিজয় কুমার দে মিঠু, বায়জিদ হোসেন, এস এম হাবিবুর রহমান, কুমারেশ মন্ডল, আসাদুজ্জামান নুর, এইচ এম কামাল হোসেন, মো: আব্দুল মান্নান শেখ, মো: ফেরদৌসুর রহমান, এম এম ইমরান হোসেন, মোঃ তাজমুল হক তাজু, এস.এম. আসিফ ইকবাল সবুজ, মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন মোল্লা, রফিকুর রহমান মারুফ, মোঃ হুমায়ুন শিকদার, লিটন মাহমুদ, রবীন্দ্রনাথ ধর, মো: ওয়াহিদুজ্জামান, মোঃ জিলহজ্জ হাওলাদার, মোঃ রিপনুজ্জামান রিপন, রাজিব দাশ টাল্টু, গাজী কামরুল ইসলাম, এ্যাড শেখ ইকবাল মোর্শেদ মনি, মো: সিরাজুল ইসলাম, মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, মোঃ আসাদুজ্জামান লিপন, মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখ হেলাল বাবু, অনুপম মন্ডল, ইঞ্জি মিথুন কুমার ঘোষ, মোঃ ইমরান হাওলাদার, শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বাদল, মোসাঃ সুরভী আক্তার লাইজু, মোঃ রফিকুল ইসলাম কাজল, মোঃ রফিকুল ইসলাম রুবেল, মোঃ কামরুল হাসান বাপ্পী, স্বপন কুমার রায়, মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহাগ, মোঃ রবিউল ইসলাম প্রিন্স, চিন্ময় রায়, উজ্জল হোসেন, সাব্বির আহমেদ, সাইদুর রহমান মফিজ, মোঃ ইমরান হোসেন সাগর, খান মোসাদ্দেক হোসেন ইমন, রফিকুল ইসলাম খান, কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম প্রিন্স, গাজী মোফাজ্জেল হোসেন, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সুজল সেন, সোহাগ জোমাদ্দার,মোঃ হাসান শেখ, মোঃ জাকির হোসেন খোকন, হামিদা বেগম, মোঃ নাসির উদ্দিন, কাজী মোঃ জায়েনুর ইসলাম বাবু, শেখ রায়হান উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মোঃ শফিকুল ইসলাম অভি, মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ হেলাল খান, মোঃ কবির হোসেন, মোঃ ইমরান গাজী, ফয়সাল হোসেন, মোঃ রাজু শেখ, শহিদুল ইসলাম, এ.কে.এম জান্নাতুল ফেরদৌস রুপম, ইঞ্জি. মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ নাসির শেখ, মোঃ মারুফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম রিপন, শামীম হাওলাদার, হাসান মোল্লা, নিয়াজ মোর্শেদ সৈকত, নূর আলম সজিব, ইব্রাহিম হোসেন আরজু, আফরোজ আহসান, রওশন অনির্জী অন্তু, মোঃ ফয়জুর রহমান আরাফাত, মোঃ শওকত হাওলাদার, মোঃ আরিফুল ইসলাম রাসেল, মোঃ আল-আমিন হাওলাদার, মোঃ সুমন হাওলাদার, তারিফুল ইসলাম তারিফ, মোঃ জাকারিয়া শেখ, রাশেদুজ্জামান রুবেল, নাসির মৃধা, মাসুম চৌধুরী, নুরুন নাহার খাতুন মুন্নী এবং মোঃ আল-আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাজাহান শিকদার, মোঃ আনিস শেখ, মাঃ রাজু মোল্লা, তুষার সরকার প্রমুখ্য।

পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগের,অসহায়-
খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগ,খেটে খাওয়া দিনমজুর ও অসহায় মানুষদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও অসহায় মানুষদের মাঝে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল এর পক্ষ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়মীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কানাই লাল বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহম্মেদ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মল্লিক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাদউল্লাহ লিটন, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মিরণ, পৌর যুবলীগের সভাপতি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি যুবনেতা ইরতিজা হাসান রাজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক যুবনেতা তানভীর মুজিব অভি এবং ছাত্রলীগের সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।

এসময় কয়েক শতাধিক খেটে খাওয়া দিনমজুর ও অসহায় মানুষদের মাঝে ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল, লবন সহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল বলেন, গনতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তাই আমরা জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও অসহায় মানুষদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। আমাদের এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

পরে শহরের পাড়েরহাট সড়কে মুকুল ফৌজে কয়েক শতাধিক খেটে খাওয়া দিনমজুর ও অসহায় মানুষদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন চালুর জন্য জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি মেট্রোরেল স্টেশন পুনরায় চালু করতে জাপানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

শনিবার বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ সহায়তা চান।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মোহাম্মদ নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা প্রথমে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কিভাবে তারা বাংলাদেশকে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করতে সাহায্য করতে পারেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডবে হতাহতের ঘটনায় সমবেদনা জানান জাপানের রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বৃত্তরা জনকল্যাণ, নিরাপত্তা ও সেবার জন্য নির্মিত সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা সেইসব স্থাপনাগুলোতেই হামলা করেছে, যেগুলো জনগণের জন্য উপকারী ছিল এবং সেগুলোই হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল। এটা আমার জন্য খুবই কষ্টের। গত ১৫ বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমরা স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশের ব্যবসায়ীরা আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য পাবলিক প্রাইভেট ইকোনমিক ডায়ালগের আসন্ন ইপিএ আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছেন। ওই ডায়ালগের আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি ডায়ালগকে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে।

মেট্রোরেলের ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, মেট্রোরেলে হামলার পেছনে মুষ্টিমেয় কিছু লোক রয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ এর সুবিধাভোগী। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মেট্রোরেল নির্মাণে অনেকের ঘাম ও অশ্রু আছে।’ তিনি বলেন, তিনি মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর ক্ষতি করা দেখেছেন- যা তাকে অত্যন্ত কষ্ট দিয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
ঢাকা অফিস
গ্রেপ্তার ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি মন্ত্রী থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবি মানা না হলে কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
শনিবার (২৭ জুলাই) রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই ঘোষণা দেন। সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, রোববার (২৮ জুলাই) জেলা, উপজেলাসহ সব পর্যায়ে হেলথ ফোর্স এবং লিগ্যাল ফোর্স গঠন করা হবে। তারা সারাদেশে আহত ও নিহতদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ ছাড়া সারাদেশে গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখনেরও ঘোষণা দেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, ‘গ্রেপ্তার ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি মন্ত্রী থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যদি এই দাবি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না মানা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’ এ সময় পরিপত্র পরিপত্র লেখা হচ্ছে দাবি করে তা বন্ধ করে স্টোক হোল্ডারদের নিয়ে একটি কমিশন করে আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, ‘সহিংসতায় অন্তত ২৬৬ জন নিহত হয়েছেন।’ এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভালো নেই দাবি করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রের প্রতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলেন তারা। এ ছাড়া প্রবাসীদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আওয়াজ তোলার আহ্বানও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ঢাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে আজ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া নাহিদ ইসলামসহ সমন্বয়কদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে গেলেও পাঁচ মিনিটের বেশি সময় দেয়া হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।

নেতারা বলেন, দাবি না মানলে আরও কঠিন কর্মসূচি দেয় হবে। আমরা আর ঘরে বসে থাকবো না। রাস্তায় নেমে আসবো।

আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, মাহিন সরকার উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের প্রথমে নেতা বলেন, এক বাজে অবস্থায় আমরা আপনাদের সামনে এসেছি। এ সময় বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ তুলে ধরে নিহত ও আহতদের বর্ণনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ‘র্যাব হেলিকাপ্টার দিয়ে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়েছে’ বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন নেতারা। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, রাজপথে ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করেছে তাদের কি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ?
কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক দফা বাস্তবায়ন হয়নি দাবি করে বিশ্ববাসীর কাছে ‘গণহত্যার’ বিচার দাবি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ সময় আন্দোলনের পেক্ষাপট তুলে ধরেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার। তিনি বলেন, ১১-১২ দিন আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। কিন্তু চীন সফর থেকে এসে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রতিক্রিয়া জানান। এখন সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্রদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে বলা হলেও তা সত্য না। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই না। আমাদের প্রতিরোধ জারি থাকবে। আমাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। তারা বলেন, সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশও করা হয়নি বরং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে। এ দায় সরকারেরই নিতে হবে।

‘নুর ও পরওয়ারের সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে নাহিদ-আসিফ-বাকেরকে জিজ্ঞাসাবাদ’
ঢাকা অফিস
হেফাজতে থাকা কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

হারুন বলেন- নাহিদ, আসিফ ও বাকের সঙ্গে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মধ্যে কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে এটা আমাদের জানা দরকার। পাশাপাশি তিন সমন্বয়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ডিবি হেফাজতে নিয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিবির হারুন বলেন, নুর এবং আরও কিছু নেতাদের আমরা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা এ কথা আমাদের বলেছেন, নাহিদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন সমন্বয়কের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তাদের কী কথা হয়েছে, এটাও আমাদের জানা দরকার।

ডিবিপ্রধান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে অন্যান্য নেতাদের, বিশেষত গোলাম পরওয়ার, নুরের কী কথা হয়েছে সেটা জানার জন্য আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব। পাশাপাশি সেফটি-সিকিউরিটির জন্য তাদের আমরা রেখেছি।

তিন সমন্বয়কের নিরাপত্তার বিষয়ে হারুন আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে আমরা গতকাল (শুক্রবার) রাতে এনেছি। বিভিন্ন জায়গায়, ফেসবুকে তারা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছিলেন। তাদের একজনের বাবাও নিরাপত্তাহীনতার কথা বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করছিলেন। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে এটাও আমাদের দায়িত্ব- কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোথাও নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে, তাকে সেফটি-সিকিউরিটি দেওয়া। আমরা তাদের সেফটি-সিকিউরিটি দিচ্ছি।

‘শিক্ষার্থীরা ধৈর্য না ধরায় সুযোগ নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত, চালিয়েছে তাণ্ডব’
ঢাকা অফিস
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শিক্ষার্থীরা আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করার সুযোগ নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তাদের সন্ত্রাসীরা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে।

ড. হাছান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ধৈর্য না ধরায় দুর্বৃত্তরা এর সুযোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে বলব, তোমরা যাতে কারো প্ররোচনায় না পড়ো সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামি পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- দলের মহাসচিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী, মুফতি আব্দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ, লক্ষ্মীপুরের পির খাজা হারুনুর রশিদ মিরন প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা দেশে নৈরাজ্য চালিয়েছে। তারা অসৎ উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

সব নৈরাজ্যকারী ও চক্রান্তকারীর বিচার হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাশকতার ঘটনার তদন্ত হবে, আমাদের কাছে ফুটেজ আছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং বিচারের আওতায় আনা হবে।

ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশকে অচল করে দেওয়ার জন্য তারা দেশের প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা করেছে। মেট্রোরেলে হামলা চালানো হয়েছে। সাধারণ জনগণ যাতায়াত করতে কষ্ট পাচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। পুলিশ সদস্যকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের এই নৃশংসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য দিলেন পলক
ঢাকা অফিস
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, রোববার (২৮ জুলাই) মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সকাল ৯টায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের পর মোবাইল ডেটা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শনিবার গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

মোবাইলের ফোর-জি নেটওয়ার্ক আগামীকাল রোববার বা সোমবারের (২৮-২৯ জুলাই) মধ্যে স্বাভাবিক হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পলক। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনবান্ধব সরকার সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর মহাখালীতে খাজা টাওয়ারের ডেটা সেন্টারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের অপটিক্যাল ফাইবারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। সবশেষ মঙ্গলবার রাত থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে।

গণঅধিকার পরিষদের আবু হানিফকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
ঢাকা অফিস
গণঅধিকার পরিষদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছে দলটি।

নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের একজন সিনিয়র নেতা আবু হানিফ। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান জানান, শুক্রবার রাত ২টার দিকে আবু হানিফের রূপগঞ্জের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবিলম্বে তার সন্ধান চাই এবং নিঃর্শত মুক্তির দাবি জানাই।

এর আগে গত ১৯ জুলাই গভীর রাতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সেতু ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় নুরকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ভারি বর্ষণের আভাস
ঢাকা অফিস
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে দেওয়া ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত আজও বহাল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার সকালে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও তার কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সেইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশেও ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সব বিভাগে আগামী সোমবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

বেনজীরের সম্পদ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন এ সপ্তাহে
ঢাকা অফিস
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনটি চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টে দাখিল হতে পারে।

শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। রোববার প্রতিবেদনটি এফিডেভিটের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে অনুমতি নেওয়া হবে। তারপর প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে পারবেন।

এর আগে শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে খুরশীদ আলম খান বলেন, বেনজীরের সম্পদের অনুসন্ধানের বিষয়ে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। সে রিপোর্টটি দাখিলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সব অনুসন্ধানের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

গত ২৩ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে দুদককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে দুই মাস পর হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদককে বলা হয়েছে। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওইদিন শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমরা চাই, দেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক। আমরা চাই, দেশে যাতে মানি লন্ডারিং (টাকা পাচার) না হয়। আমরা চাই, দেশে কেউ অন্যায় করে যাতে পার না পায়। আবার অন্যায়ভাবে কাউকে যেন জবরদস্তি করে আইনের আওতায় আনা না হয়।’

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। বেনজীর আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিপুল সম্পত্তি অর্জনের বিষয়ে সম্প্রতি দুই পর্বে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। প্রতিবেদনে আসা অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ৪ এপ্রিল দুদকে আবেদন করেন আইনজীবী মো. সালাহ উদ্দিন। পরে এ বিষয়ে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে ২১ এপ্রিল রিট করেন তিনি। আদেশ অনুসারে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অগ্রগতি বিষয়ে দুই মাস পর হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।

ভিপি নুরকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর
ঢাকা অফিস
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের (একাংশের) সভাপতি নুরুল হক নুরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার।

শনিবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

মারিয়া আক্তার বলেন, গত শনিবার (২০ জুলাই) ভোর রাতে দরজা ভেঙে কিছু সাদা পোশাক ও কয়েকজন পুলিশ পোশাকে এসে ঘুমন্ত নুরকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ডিবি কার্যালয়, র্যাব কার্যালয় ও হাতিরঝিল
থানায় খোঁজ নিলে তারা কোনো তথ্য দেয় নাই। নিরুপায় হয়ে আমি কোর্টে যাই। সেদিন আর কোর্টে তোলেনি। ভেবেছিলাম আমার স্বামীকে আর খুঁজে পাব না। পরে জানতে পারলাম একদিন পর কোর্টে তোলা হবে। গিয়ে যা দেখলাম তা কোনো মানুষ সহ্য করতে পারবে না। গ্রেফতারের পর থেকে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। এমন নির্যাতন করা হয়েছে যে, নুর নিজের পায়ে হেঁটে আদালতে আসতে পারেনি। পুলিশ সদস্যদের কাঁধে ভর করে আদালতে আসে। স্ত্রী হিসেবে এমন নির্যাতন কোনোভাবে সহ্য করার মত নয়। অপাশবিক নির্যাতনের পরও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

নুরের চিকিৎসার দাবি জানিয়ে মারিয়া আক্তার বলেন, আমার অনুরোধ সন্তানের জীবন থেকে বাবার স্নেহ যেন কেড়ে নেওয়া না হয়। আমার সন্তানদের তো অধিকার আছে । এদেশে জন্ম নেওয়াটাই আমাদের পাপ? আমি দাবি জানাই নুরকে আর যেন রিমান্ড নেওয়া না হয়। তার চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন করা হয়। প্রয়োজনে আমার স্বামীকে আমি রাজনীতি করতে দিবনা। তবুও অনুরোধ আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। এমন নির্যাতন হলে নূর বাঁচবে না।

তিনি আরও বলেন, যেদিন ঘুমন্ত নুরকে গ্রেফতার করা হয় সেদিন ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের মতো মনে হয়েছিল। আমার বড় সন্তান নুরের গলা ধরে ঘুমিয়েছিল। নুর উঠতে পারছিল না। তারা আমাকে এমনভাবে ধরেছে। মেয়েকে রেখে বাবাকে নিয়ে গেল। আমার মেয়ে ট্রমায় পড়ে গেছে।

নুরকে রিমান্ডে নিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার অভিযোগ করে মারিয়া আক্তার আরো বলেন, নুরের পা ওপরে বেঁধে পেটানো হয়েছে। ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, সেটি স্লো পয়জনিং কিনা আমার জানা নেই। অনুরোধ জানাই তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যারা আছেন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরের বাবা ইদ্রিস আলী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নুরের ছোট ভাইকেও গ্রেফতারের অভিযোগ করেন তারা।

৭ দিনের রিমান্ডে বিএনপি নেতা এ্যানি
ঢাকা অফিস
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) রামপুরা ভবনে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার বিএনপির এ নেতাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু-তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা আক্তার তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৮ জুলাই বিটিভির রামপুরা অফিসে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় পরের দিন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একটি মামলা করেন বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তার।

মামলার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকা থেকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে: কাদের
ঢাকা অফিস
নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে রাজনৈতিক মতলবে বিএনপি-জামায়াত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করেছে,অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছে এমন অভিযোগ তুললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (২৭ জুলাই) সকালে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভবন পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আন্দোলনে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল নেই, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নেই। তাতে যানজট বেড়েছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এটি সাধারণ ছাত্রছাত্রীর কাজ নয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ সময় জানান, সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা কবে নাগাদ চালু হবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে যারা সহিংসতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সহিংসতার শিকার মেট্রোরেল কবে চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এমপির ওপর হামলার চেষ্টা, আহত ৫
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলীর ওপর হামলাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ডিএসবির এক এএসআইসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। এঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত গরিব ও দুস্থ রোগীদের মধ্যে চেক বিতরণের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে এমন ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা সবাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুসারী বলে জানা গেছে। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু দাবি করেন, তার অনুসারীরা এ ঘটনায় জড়িত নয়। বরং প্রতিপক্ষরা তার তিন কর্মীকে মারপিট করেছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

আহতরা হলেন- যশোর-৫ মণিরামপুর আসনের সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ডিএসবির এএসআই ফিরোজ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম বাপ্পী হুসাইন, আবু সালেহ ও রিয়াদ হোসেন। এদের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ডিএসবির এএসআই ফিরোজ হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে গরিব ও দুস্থ রোগীদের মধ্যে উপজেলার উপজেলা পরিষদ হলরুমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরাদ্দ করা চেক বিতরণের অনুষ্ঠান চলছিল।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ইয়াকুব আলীর বক্তব্যের শুরুতে হলরুমের বাইরে হট্টগোল শুরু হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু। তার অনুসারী হিসেবে পরিচিতরা হলরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

এ সময় দরজার কাছে থাকা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম বাপ্পী হুসাইন, আবু সালেহ ও রিয়াদ হোসেনকে মারধর শুরু করে ভেতরে প্রবেশ করে গোলমাল করেন। এ সময় তারা ভেতরে ঢুকে সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলীর ওপর হামলার চেষ্টা করেন।

সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের সাবেক এসআই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শহিদুল ইসলামকে পেয়ে তার ওপর হামলা করেন তারা। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একই সময় সরকারি কাজে দায়িত্ব পালনকারী ডিএসবির এএসআই ফিরোজ হোসেনকে মারধর করা হয়।

ডিএসবির এএসআই ফিরোজ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানে সন্দীপ ঘোষের ওপর হামলার বর্ণনা দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তন্ময় কুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ডিএসবির এএসআই ফিরোজ হোসেনসহ ৫ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলী বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে যারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হতে পারে না। যারাই এ ঘটনায় জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মনিরামপুর থানার ওসি এবিএম মেহেদি মাসুদ বলেন, তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিন সমন্বয়কের খোঁজে ডিবি কার্যালয়ে ১২ শিক্ষক, দেখা দিলেন না হারুন
ঢাকা অফিস
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারের খোঁজ নিতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ১২ শিক্ষকের একটি প্রতিনিধিদল।
তবে ‘ব্যস্ততার কারণে’ তাদের সঙ্গে দেখা করেননি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

শনিবার বিকাল ৪টায় ডিবি কার্যালয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ১২ জনের প্রতিনিধিদল। সেখানে ২০ মিনিটের মতো তারা অবস্থান করেন। পরে সেখান থেকে ফিরে যান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে শুক্রবার বিকালে ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে সাদাপোশাকে তুলে নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে তাদেরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা সেখানে যাই। মিডিয়া থেকে আমরা জেনেছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রকে হাসপাতাল থেকে ‘অধিকতর নিরাপত্তার’ জন্য এখানে নিয়ে এসেছে। হাসপাতাল থেকে কেন এখানে আনা হলো সেই খবর নিতেই আমরা এসেছি, একদমই স্বতস্ফুর্তভাবে আমরা খবর পেয়ে চলে এসেছি।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এখানে এসেছি তখন এখানকার অফিস প্রধান (ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ) ভেতরেই ছিলেন, তাকে খবরও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। যদিও আমাদেরকে অফিসের ভেতর থেকে বলা হয়েছিল উনার গাড়ি থামিয়ে কথা বলতে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকও বটে, কাজেই আমাদের শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে আছে কি না সেই খবর আমরা কারো গাড়ি আটকে জিজ্ঞেস করব কেন? এটা তো খুবই স্বাভাবিক যে পুরো বিষয়টা স্বচ্ছ থাকবে। কেন, কী হয়েছে আমাদেরকে বলা হবে। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, ছাত্রদেরকে নিরাপত্তার কথা বলে তুলে আনা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে ডিবি হেফাজতে কেন? পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলো না কেন? একজন মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হচ্ছে তার পরিবার। নিরাপত্তা যদি দিতে হয় তাহলে তার বাসার আশেপাশে নিরাপত্তা দেওয়া হোক, তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদেরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে হেফাজতে নেওয়া যায় কি না সেটা একটা প্রশ্ন। তারা এখন কোথায় আছে সেটা আমাদের শিক্ষকদের জানার অধিকার আছে। এটা জনগণের কাছে দায়বদ্ধতারও বিষয়। তাই সরকারের উচিত এটা খোলাসা করা।

এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, তারা আমাদের শিক্ষার্থী। তাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন। এটা আমাদের দায়িত্ব। সে কারণেই আমরা খোঁজ নিতে এসেছি। নিরাপত্তার অভাব হলে আমাদের জিম্মায়ও দিতে পারতেন। আমাদের দাবি হলো, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। সেখানেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তিনি (ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ) তো আমাদের সঙ্গে দেখাই করলেন না! এটা অত্যন্ত অভদ্রতাসূচক কাজ হয়েছে বলে আমি মনে করি। এখানে আমরা ১২ জন শিক্ষক এসে দাঁড়িয়ে আছি, তার দেখা করার সময় হলো না। সেটা তিনি ভদ্রভাবে আমাদের জানাতেও পারলেন না, এটা ঠিক হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক থেকে ১২ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজলী শেহরীন ইসলাম।

এছাড়া আরও ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা ও অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অরণি সেমন্তী খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সাইমুম রেজা, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষক অলিউর সান ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার শিক্ষক তামারা মাকসুদ।

কোটা আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আ.লীগ নেতা প্রধান আসামি!
ঢাকা অফিস
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা, তার ছেলে ও ভাইকে।
২০ জুলাই রাতে ভাঙ্গা থানার এসআই কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ তার ছেলে বা ভাইকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অবরোধ ও সরকারি কর্তব্যপালনে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলা করে গুরুতর জখম করার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গার আলগি ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ডে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের আলগী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাতুব্বরকে (৫৫) এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে তার ছেলে মেহেদী মাতুব্বর (২০) এবং ১৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে দেলোয়ার মাতুব্বরের ভাই আবুল মাতুব্বরকে (৪৫)।

আলগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কমল চন্দ্র দাস বলেন, সোয়াদী বাসস্ট্যান্ডের যে জায়গায় এ ঘটনা ঘটেছিল তার পাশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ারের বাড়ি। তিনি (দেলোয়ার) হয়তো গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনা দেখতে বের হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির শিকার এড়াতে ফরিদপুর জেলার শতশত নেতাকর্মী বর্তমানে ঘরছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে বিএনপি সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও তাদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি মামুন আল রশিদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগেও ছাত্রদের ডেকে ডেকে পানি দিচ্ছিলেন মুগ্ধ
ঢাকা অফিস
গত ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান মুগ্ধ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। ভালো খেলোয়াড়, গায়ক, সংগঠক হিসেবে গত চার বছর ধরে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন ক্যাম্পাসে। গণিতে স্লাতক শেষ করে গত মার্চে ঢাকায় যান। এমবিএতে ভর্তি হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি)।
মৃত্যুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন সড়কে ছোটাছুটি করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে হাতে পানি ভর্তি বাক্স ও বিস্কুট নিয়ে ছুটছেন মুগ্ধ। ছাত্রদের ডেকে ডেকে বলছেন, ‘পানি লাগবে কারও, পানি?’

ভিডিওতে দেখা গেল, অনেকেই তার কাছ থেকে পানি পান করছেন। কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁজাল ধোঁয়ায় বেশ কয়েকবার চোখ মুছতে দেখা গেল মুগ্ধকে।

ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুগ্ধর সঙ্গে থাকা এক বন্ধু বলেন, কারও বিপদ দেখলে সব সময় ছুটে যেতেন মুগ্ধ। উত্তরায় ছাত্রদের ওপর হামলা হচ্ছে শুনে অন্য বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যান তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ওইদিন অনেককেই হাসপাতালে নিয়ে গেছি আমি ও মুগ্ধ। বিকাল ৬টার দিকে ছাত্রদের মাঝে পানি ও বিস্কুট দিয়ে সড়ক ডিভাইডারে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ রাজউক কমার্শিয়ালের সামনে থেকে পুলিশ গুলি করতে করতে এগিয়ে এলে সবার সঙ্গে আমরাও দৌড় দিই। হঠাৎ দেখি গুলি লাগায় সড়কে পড়ে গেছে মুগ্ধ। তার কপালে গুলি লেগে ডান কানের নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুগ্ধর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। জন্ম ১৯৯৮ সালে উত্তরায়। দাফন হয়েছে এখানেই। উত্তরার ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটিতে প্রাথমিক এবং উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ২০১৯ সালে ভর্তি হন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবল খেলোয়াড়, গায়ক, গিটারিস্ট ও সংগঠক হিসেবে সুনাম ছিল তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান শিক্ষা সমাপনী-২০২৩-এর কনভেনর ছিলেন। ছিলেন স্কাউট গ্রুপের ইউনিট লিডার। শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ স্কাউটস থেকে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিলেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মুগ্ধ ছিলেন যমজ। বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত বলেন, পরিবারে সবার আদরের ছিল মুগ্ধ। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করত সে। এমবিএর পাশাপাশি দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস করছিল। কিন্তু সব কিছু এভাবে শেষ হয়ে যাবে, কে জানতো!

মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, আমাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে মায়ের সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতো মুগ্ধ। সব সময় মাকে দেখেশুনে রাখতো। ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের খরচ চালাত। মা এখনও কাঁদছেন। বাবা চুপচাপ হয়ে গেছেন।

খুবির গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আবদুস সামাদ বলেন, অসাধারণ ছেলে ছিল মুগ্ধ। কারও সঙ্গে কখনও গোলমাল, বেয়াদবি করতে শুনিনি। ক্লাসে ওকে বকা দিলে এমনভাবে হেসে দিত, পরে ওকে আর কিছু বলতে পারতাম না।

ক্যাম্পাসে মুগ্ধর জুনিয়র মুহিব্বুল্লাহ বলেন, যে কোনো আয়োজনে সামনের সারিতে থাকতেন মুগ্ধ ভাই। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের আগে আন্দোলনে আমরা সক্রিয় ছিলাম। ঢাকায় থেকে তিনি আমাদের সাহস দিতেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে চতুর্থ বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাস খুললে খুবির প্রধান ফটকের নাম ‘শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ফটক’ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন: ফখরুল
ঢাকা অফিস
সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সকল হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। ছাত্রদের গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার পর হাসপাতালে দেখতে যাওয়া ও মায়া কান্না এবং সাহায্য করবার কথা বলা প্রতারণার আরেকটি নজির। সরকার জনরোষে পড়ার ভয়ে জোর করে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে দেশে কারফিউ দিয়ে রেলসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছে। জনগণকে কর্মহীন রেখে অনাহারে দিনাতিপাত করতে বাধ্য করছে। দ্রব্যমূল্য দিন দিন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে জাতি দ্রুত মুক্তি চায়। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান। শনিবার এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতা আগলে রাখার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে মসনদ ধরে রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হত্যা-নির্যাতনের পর এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সাজানো মামলা দায়েরের মাধ্যমে বিরোধী মতের নেতাদের হত্যা, গ্রেপ্তার, গুলি করে আদালতে উঠানোর আগেই নির্যাতন করে পঙ্গু করা হচ্ছে। বিচার বিভাগকে দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে আবারও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। রিমান্ডের ন্যূনতম আইন মানা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে কল্পকাহিনী রচনা করা হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরও ব্লক রেড দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আইডি কার্ড দেখামাত্রই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের গুম করে কীভাবে নির্যাতন করে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে তা তাদের শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখলেই অনুধাবন করা যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে বিপন্ন দেশের মানুষ সরকারের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়েছে। জনগণ সুযোগ পেলেই মাঠে নেমে আসে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে। জনগণ বারবার সরকারকে বার্তা দিয়েছে পদত্যাগ করার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলছেন, হেলিকপ্টারে থেকে গুলি করা হয় নাই, যদি তাই হয় তাহলে জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শিশু সামিরসহ বিভিন্ন ভবনের ছাদে অসংখ্য শিশু-কিশোর কীভাবে নিহত হলো- এই প্রশ্ন দেশবাসীর।


খুলনার পার্ক দুটি খুলবে কবে
স্টাফ রিপোর্টার
উদ্বেগ কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে খুলনার সামগ্রিক পরিবেশ। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টা শিথিল ছিল কারফিউ। আগের দিন বৃহস্পতিবার শিথিল ছিল ১৪ ঘণ্টা। কারফিউ শিথিলের সময় খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে স্বাভাবিক হচ্ছে নগরীর পরিবেশ। কিন্তু নগরবাসীর প্রধান দুই বিনোদন কেন্দ্র জাতিসংঘ শিশু পার্ক ও হাদিস পার্ক এখনও তালাবদ্ধ। গত কয়েক দিনের ট্রমা কাটিয়ে শিশুরা বাইরে বের হলেও খেলার জায়গা পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে খুলনায় তেমন সহিংসতা হয়নি। তার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর হওয়ায় গত শুক্রবার থেকে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক ও জাতিসংঘ শিশু পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতকাল বিকেল পর্যন্ত পার্ক দুটি বন্ধ ছিল।
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, নগরীতে পার্ক রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে খালিশপুরে একটি আধুনিক শিশু পার্ক এবং ময়ূর নদের তীরে লিনিয়ার পার্ক ইজারা দেওয়া রয়েছে। উচ্চমূল্যের প্রবেশ ফির কারণে সেখানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের যাতায়াত কম।

নগরীর নিরালা, সোনাডাঙ্গা ও গোলকমনি পার্ক রয়েছে শুধু নামেই। সেখানে বিনোদনের কোনো পরিবেশ নেই। নগরীতে শিশুদের বিনোদন উপযোগী একমাত্র উন্মুক্ত পার্ক জাতিসংঘ শিশু পার্ক। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় করে অসংখ্য শিশু-কিশোর। ছুটির দিনে এ সংখ্যা সহস্রাধিক ছাড়িয়ে যায়।
এ ছাড়া বিশাল পুকুর, শহীদ মিনার ও বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি ঘেরা হাদিস পার্কে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যান অনেকে। ছুটির দিনে সেখানে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্রধান পার্ক দুটি তালাবদ্ধ থাকায় ছুটির দিনে বেড়ানোর জায়গা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনার বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকেলে জাতিসংঘ পার্কের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে রিকশা ও ইজিবাইকে করে অভিভাবকরা আসছেন। কিন্তু তালাবদ্ধ গেট থেকে মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছেন তারা।

নগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা সেজুতি খানম বলেন, সারাদিন ঘরে থাকতে থাকতে শিশুরা অস্থির হয়ে ওঠে। ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকায় খুব বিরক্ত করে। তাই পার্কে নিয়ে এসেছি। এখন দেখি পার্ক বন্ধ। বাজার, ঘাট, অফিস– সবকিছু খুললে পার্ক খুলতে সমস্যা কোথায়?
জাতিসংঘ পার্ক ও হাদিস পার্কে প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণ ও শরীরচর্চা করতেন নগরীর অনেক প্রবীণ নাগরিক। তাদেরই একজন শেখপাড়ার বাসিন্দা সোহরাব আলী। তিনি বলেন, ফজরের নামাজ শেষে এলাকার অনেকেই হাদিস পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চায় অংশ নিতেন। পার্ক বন্ধ থাকায় এখন সড়কে হাঁটাহাঁটি করেন। কিন্তু সড়কে শরীরচর্চা খুবই অনিরাপদ।
কেসিসির প্রধান নিরাপত্তা সুপার সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান, পার্ক খোলার নির্দেশনা এখনও পাননি। নির্দেশ পেলেই তারা খুলে দেবেন।


আমাকে শিখাতে আসবেন না- মমতা
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
বাংলাদেশে কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সৃষ্ট সহিংসতার প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাংলাদেশে সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়ে সম্প্রতি বক্তব্য রাখেন মমতা। তার এ বক্তব্যের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তির জবাবে মমতা বলেছেন- আমাকে শিখাতে আসবেন না। শনিবার এ খবর দিয়েছে অনলাইন আউটলুক ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, মমতা একজন সাংবাদিককে বলেছেন- কেন্দ্রীয় সরকারের কাঠামো আমি খুব ভালভাবে জানি। আমি সাতবারের এমপি। দু’বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলাম। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি খুব ভালভাবে জানি আমি।
তাদের উচিত না আমাকে শিক্ষা দেয়া। পক্ষান্তরে তাদের উচিত ‘সিস্টেম’ জানা। এর আগে ২১শে জুলাই তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের আয়োজনে কলকাতায় বার্ষিক শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মমতা। সেখানে তিনি বলেন- বাংলাদেশ যেহেতু একটি সার্বভৌম দেশ, তাই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলা আমার উচিত হবে না। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে পারি, যদি অসহায় মানুষগুলো পশ্চিমবঙ্গে এসে দরজায় কড়া নাড়েন, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আশ্রয় দেবো। প্রতিবেশী কোনো দেশ যদি টালমাটাল হয় তাহলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার বিধান আছে জাতিসংঘের রেজ্যুলুশনে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে। তার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই মন্তব্য করেন। এর জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যথাযথ সম্মান রেখে আমি বলতে চাই যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমাদের খুবই ভাল এবং উষ্ণ সম্পর্ক আছে। কিন্তু তার এই বক্তব্য সংশয় সৃষ্টির একটি সুযোগ করতে পারে। এ ইস্যুতে আমরা ভারত সরকারের কাছে একটি নোট পাঠিয়েছি। এর দু’দিন পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে, ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, সংবিধানের ৭ম ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারকে যেসব দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার তালিকা অনুযায়ী পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্ক রক্ষায় একমাত্র অনুমোদিত।


আমরা জিততে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের দল না জিতলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বড় ধরনের যুদ্ধ লেগে যাবে। এমনকি সেটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ট্রাম্পের বাসভবন মার-এ-লাগোতে যান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুও সঙ্গে ছিলেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘আমি ইসরায়েলের প্রতি সব সময়ই ইতিবাচক ছিলাম যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে। আমি অনেকগুলো কাজ করেছি: গোলান মালভূমিকে স্বীকৃতি দিয়েছি (ইসরায়েলের অংশ হিসেবে), জেরুসালেমকে রাজধানী করেছি— প্রকৃতপক্ষে আমরা সেখানে আমাদের দূতাবাস স্থাপন করেছি…এবং ইরানের পারমাণবিক চুক্তিও করেছিলাম।’
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বাইডেন প্রশাসন ইরান ইস্যুতে কোনো কিছুই করেনি। আমরা ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরও হয়ে এসেছিলাম, যা এক কথায় অসাধারণ একটি বিষয় ছিল। হয়তো ইসরায়েলের জন্য আমি যা করেছি তার মধ্যে সবচেয়ে সেরা কাজ ছিল এটি। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন এই ইস্যুতে কোনো কিছুই করেনি। তিনি (কমলা হ্যারিস) তার চেয়েও (বাইডেন) খারাপ।’

রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা জিতি, তাহলে বিষয়টি হবে খুবই সহজ। কিন্তু আমরা যদি না জিতি, তাহলে আপনারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন, এমনকি সেটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও হতে পারে।’


রোজ কীভাবে ও কতটা পরিমাণে ছোলা খাওয়া ভালো?
মিলি রহমান
অনেকেরই সকালে নিয়ম করে মাঠে বা পার্কে দৌড়ানোর অভ্যাস আছে। তাদের অনেকেই সকালে ভেজানো ছোলা খান। ছোলায় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ফাইবার, ক্যালশিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন রয়েছে । ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম থাকায় স্বাস্থ্য সচেতন অনেকের কাছে ছোলার মতো খাবারের কদর বেশি। তাই বলে মুঠো মুঠো কাঁচা ছোলা খাওয়া কি ঠিক? পুষ্টিবিদরা বলছেন, সারা দিনে এক মুঠো ছোলা খাওয়াই যথেষ্ট। নিয়মিত ভেজানো ছোলা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. ছোলায় ক্যালশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বেশি। এসব উপাদান হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। বয়সকালে হাড়ের নমনীয়তা ধরে রাখতেও এই উপাদানগুলি জরুরি। আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিয়োপোরোসিসের সমস্যা প্রতিরোধ করতে চাইলে নিয়মিত ভেজানো ছোলা খান।

২. ঋতু পরিবর্তনের এই সময় সর্দিকাশি, সংক্রমণজনিত সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে ঘন ঘন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করতে সাহায্য করে ভেজানো ছোলা।

৩.যারা শরীরচর্চা করে দেহের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে চাইছেন তারা ডায়েটে ভেজানো ছোলা যোগ করতে পারেন। ছোলাতে যে পরিমাণ ফাইবার থাকে, তা মেদ ঝরানোর জন্য যথেষ্ট।

৪. অনেক নারী রক্তশূন্যতায় ভোগেন। ছোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই নিয়মিত ভেজানো ছোলা খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

৫. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভেজানো ছোলা উপকারী। কারণ ছোলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। যা সহজেই রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। এ ছাড়া ছোলায় থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার সামগ্রিক ভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনে বছরে আয় ২ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখছে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট (কালো জাতের ছাগল)। বিশ্বখ্যাত কালো জাতের ছাগল পালন করে এ জেলার কৃষি পরিবারসহ অসচ্ছল পরিবারেও ফিরেছে সচ্ছলতা। এ জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দেখা মিলবে ব্ল্যাক ব্যাঙ্গল গোট বা কালো জাতের ছাগল।

দেশের স্থানীয় জাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মানের দিক থেকে বিশ্বসেরা হিসেবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইও ২০১৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত।

আন্তর্জাতিক বাজারে এই ছাগল ‘কুষ্টিয়া গ্রেড’ হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অংশ চুয়াডাঙ্গা জেলায় এই ছাগল বেশি পালন হওয়াতে জেলা প্রশাসন থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্র্যান্ডিং হিসেবে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ ঘোষণা করা হয়েছে। গুণগত মানের চামড়া ও সুস্বাদু মাংসের জন্য সারা পৃথিবীতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের যেমন খ্যাতি রয়েছে তেমনি যে কোনো পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেয়া ও বছরে দুবারে ৩-৪টি বাচ্চা প্রদানের কারণে দারিদ্র বিমোচনে বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

শুধুমাত্র (ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট) কালো জাতের ছাগলই নয়, হরিয়ানা, যমুনাপাড়ী, তোতামুখি ও বিটল জাতের ছাগলও পালন করে আসছে এ জেলার মানুষেরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে কয়েক প্রজাতির ছাগল দেখতে পাওয়া গেলেও এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।

এই ছাগল পালনে বাড়তি তেমন খরচ না থাকায় খুব সহজেই এর দেখভাল করতে পারেন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও। অনেকেরই জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে এই কালো জাতের ছাগল লালন-পালন করে। চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে মূল সড়ক পেরিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং মেঠো পথেও দেখা যায় ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের। কোথাও উঠানে, কোথাও বা বাড়ির মাচায় চলছে ছাগল লালন-পালন। অনেক খামারি ২০-৩০টি ছাগল পালন করে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করছেন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হাসানুজ্জামান নামের এক ছাগল পালনকারী বলেন, সারা বছরই কৃষি কাজের পাশাপাশি ছাগল পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার বাড়িতে ৩০টির অধিক ছাগল রয়েছে। এই ছাগল দেড় বছরের মধ্যে আট থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। এরা বাড়ির আশপাশের গাছের পাতা, সবজির বর্য, ঘাস ও বিচুলি খেয়েই বড় হয়। তাই এদের পালতে বাড়তি কোনো খরচেরও দরকার হয়না।

কালো জাতের ছাগল পালন করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন লিমা থাতুন। স্বামী মনোয়ার হোসেন ও তিন সন্তান নিয়ে তার সংসার। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। স্বামীর ১ বিঘা জমিতে কৃষিকাজ আর অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে চলে সংসার। এ অবস্থায় লিমা ওয়েভ ফাউন্ডেশন থেকে ছাগল কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ২টি কালো ছাগি ক্রয় করেন এবং ১০টি ছাগলের জন্য মাচাযুক্ত ঘর তৈরি করেন। ছাগি দুটি প্রথমেই একটি করে খাসি বাচ্চা প্রসব করে এবং বছর দেড়েকের মধ্যে লিমা খাসি দুটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ছাগল খামারী মিনারুল ইসলাম জানান, মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে দুইটি ছাগল থেকে বর্তমানে ৫০টির অধিক ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের (কালো জাতের ছাগল) মালিক।

তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন করে আমার জীবন বদলে গেছে। ঋণ নিয়ে মাত্র দুটি ছাগল কিনে পালন করতে শুরু করি। এখন আমার ৫০টির বেশি ছাগল রয়েছে। ছাগল ও দুধ বিক্রি করে প্রতি বছরে ভালো পরিমানের টাকা আয় হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ছাগল উৎপাদন হয়ে থাকে। এর থেকে ২৩ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়। বর্তমানে বাজারে ছাগলের মাংসের দাম প্রকার ভেদে ৯৫০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলায় ছাগলের মাংস ও চামড়া বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও ছাগলের চামড়া বিক্রি করেও মোটা অংকের বৈদেশীক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা ছাগল উন্নয়ন খামারের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরমান আলী জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিশ্ববিখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জাত সংরক্ষণে ১৯৯৬ সালে চুয়াডাঙ্গায় ছাগল উন্নয়ন খামার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর এ খামার থেকে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নির্ধারিত মূল্যে পাঠা-ছাগি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ খামারে পাঠা-ছাগি মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ছাগল পালন করা হয়। এর ফলে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাত সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জন্য একটি অভয়াশ্রম বলা যায়। এখানকার জলবায়ু ও অনুকূল আবহাওয়া হওয়ার কারণে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে এটা সব থেকে উপযোগী এলাকা। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল (কালো জাত) হলো চুয়াডাঙ্গার ব্রান্ড। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে এই ছাগলের অভয়আশ্রম বলে মনে করি। বিশ্বের মধ্যে ১০০টি ছাগল গবেষণা করে দেখা গেছে এই কালো জাতের ছাগলই সব থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ। চুয়াডাঙ্গার ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগোলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় দেশে এবং দেশের বাইরে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি চুয়াডাঙ্গা জেলার ঐতিহ্য। গ্রামের বেশির ভাগ নারীরা তাদের আয়ের উৎস হিসেবেও এই ছাগল পালনে ভূমিকা রয়েছে। এ জেলায় ছাগলের মাংস ও চামড়া বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

কুষ্টিয়ায় মরিচ চাষিদের মুখে হাসি
নিজস্ব প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় এ বছর বৈরী আবহাওয়ার পরও কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হচ্ছে। ফলে ঝাল মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে ফুটেছে মিষ্টি হাসি। এবার মরিচ চাষে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কয়েকগুণ লাভের মুখ দেখছেন তারা।

কুষ্টিয়ায় চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৭৫২ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে জেলার কৃষি প্রধান উপজেলা দৌলতপুরে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে। বৈরী ও প্রতিকূল আবহাওয়ার পরও মরিচের ফলন ভালো হচ্ছে। প্রতিবিঘা জমিতে মচির চাষে তাদের খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমান বাজার দর ২০০ টাকা কেজি হওয়ায় চাষিরা অতিরিক্ত লাভবান হলেও কাঁচা মরিচের কেজি ১০০ টাকা দরে নেমে আসলে তাতেও চাষিদের উৎপাদন খরচের কয়েকগুণ লাভ হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

জেলার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়া কাঞ্চননগর গ্রামের সফল মরিচ চাষি রানা হোসেন জানান, এ বছর মরিচ চাষে লাভবান হয়েছেন তিনি। বর্তমানে ২০০ টাকা কেজি দরে পাইকার বাজারে মরিচ বিক্রয় হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ৪০০টাকা কেজি দরেও বিক্রয় হয়েছে। তাই লাভের অঙ্কটা এ বছর উৎপাদন খরচের বেশ কয়েকগুণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দৌলতপুরে মৌসুমের শুরুতে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও বর্তমানে মরিচ চাষের উপযোগী সময় বিরাজ করছে। মরিচের উৎপাদন বৃদ্ধিতে চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে চাষিরা মরিচ চাষে লাভবান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম।

মরিচের ঝালে চাষিরা খুশি হলেও অখুশিতে ভোক্তারা। তারপরও দেশের প্রাণ চাষিদের মুখে হাসি থাকলে খুশিতে ভরে থাকবে বাংলাদেশ, এমনটি মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

র্যাম্প নির্মাণে ত্রুটি, ব্যয়ের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি
নিজস্ব প্রতিনিধি
ধীরগতিতে চলছে চুয়াডাঙ্গায় নির্মাণাধীন রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ। চলতি বছরের ৩০ জুন চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪০ শতাংশ। মাঝপথে এতে নির্মাণে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বেড়েছে সংশোধন ব্যয়। এতে ওভারপাসে উঠতে সংযোগ পথ অনেকটা খাড়াখাড়ি হচ্ছিল। এজন্য র্যাম্পের দৈর্ঘ্য আরো ১১২ মিটার বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ফলে উন্নয়ন ভোগান্তি বাড়লো আরো এক বছর। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বাকি কাজ শেষ হবে।

জানা যায়, ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার (ওভারপাস) নির্মাণকাজ গত বছরের (২০২৩ সালের) ১২ আগস্ট শহরের একাডেমি মোড়ে উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি সোলায়মান হক জোয়াদ্দার ছেলুন। এরপর শহরের প্রবেশদার বাসটার্মিনাল থেকে একাডেমি মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে মূল সড়কের বেশির অংশ ঠিকাদাররা ঘিরে রেখেছে।

এতে রাস্তাটি এতোটাই শরু হয়ে গেছে, যান চলাচল করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। দুই পাশে রাস্তা না বাড়ানোর কারণে মাটির রাস্তায় ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কে চলাচলরত বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ পথচারী চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাটি কাঁদা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে পুরো রাস্তা ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যায়।
অপরদিকে ট্রেন আসা যাওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ এ সড়কের রেলগেট বন্ধ রাখায় ভোগান্তির মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ সময় রাস্তার দুই ধারে রোদ গরম ও বৃষ্টিতে ১৫-২০ মিনিট যানবাহন আটকা পড়ে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার প্রধান সড়কটি রাত ও দিনের অধিকাংশ সময় রেললাইনের গেট পড়ে থাকায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটে। জনসাধারণকে পড়তে হয় দীর্ঘ যানজটের কবলে। যানজট কমানো ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনসহ নানা সমস্যার সমাধানে চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলবাজার এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা চলছে।

২০২২ সালের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে। ঢাকার বনানীর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ৭৪৮ দশমিক ৬৯৬ মিটার আয়তনের এ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৫ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার টাকা। প্রথম কার্যাদাশে সময় ছিল চলতি বছরের গেল জুন মাস পর্যন্ত। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। কাজ শুরুর পর প্রথমদিকে বেশ দ্রুত গতিতেই চলছিল নির্মাণকাজ। ধীরে ধীরে অজ্ঞাত কারণে ঝিমিয়ে পড়ে এই নির্মাণকাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্মাণকাজ চলাকালেই বিপত্তি দেখা দেয় ওভারপাসের নকশার র্যাম্পের আয়তন নিয়ে। দুই প্রান্তের র্যাম্পের নকশায় প্রথমে আয়তন ধরা হয়েছিল ৩৩০ মিটার। এতে ওভারপাসে উঠতে সংযোগ পথ অনেকটা খাড়াখাড়ি হচ্ছিল। এজন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পাঠানো হয়।

সংশোধিত নকশায় ওভারপাসে উঠতে সংযোগ সড়ক অর্থাৎ র্যাম্পের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। দুই প্রান্তে র্যাম্পের আয়তন বেড়েছে আরো ১১২ মিটার। এতে নতুন করে আরো ব্যয় বেড়েছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। এ অবকাঠামো নির্মাণে এখন মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৬ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার টাকায়। সেইসঙ্গে সময়ও বেড়েছে আগামী ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

ব্যয় ও সময়ের সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। স্থানীয় ও পথচারীদের অভিযোগ, ধীরগতির কাজে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন তারা। দ্রুতই উন্নয়নের ভোগান্তি লাঘবের দাবি তাদের।

চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ জানান, চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রবেশদার এটি। সদর উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়ন এই এলাকায়। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কিছুদিন আগে পথচারীদের মন বোঝানোর জন্য দুই সাইডে মাটি ও ইট দিয়ে রোলার করা হয়। পরে বৃষ্টিতে সড়কটি কাঁদা পানিতে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এখন রাস্তাটিতে আরো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সাইড রাস্তা নির্মাণ করে জনগণের ভোগান্তি কমানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ইজিবাইক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, এই রাস্তায় সহজে চলাচল করা যাচ্ছে না। আবার যদি কাজ শেষ হতে আরো ১ বছর লেগে যায়, তাহলে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। দ্রুত কাজ শেষ হলে চলাচলে গতি ফিরবে। তবুও রেলওয়ে ওভারপাসের জন্য দিন গুনছে জেলাবাসী। ভোগান্তি পেরিয়ে স্বস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ জানান, এখন চলাচল করতে কিছুটা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু ওভারপাসের কাজ শেষ হলে সে সমস্যা আর থাকবে না। তখন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। তখন মানুষের কর্মঘণ্টাও বাঁচবে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার কারণে নির্মাণকাজের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। দুই সাইডে রাস্তার কাজ অল্প দিনের মধ্যে শুরু হবে। ওভারপাসের কাজ এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজের জন্য সময় রয়েছে আগামী বছরের (২০২৫) জুন মাস পর্যন্ত। আশা করছি দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে।

খুলনা কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার, ছুটি বাতিল
স্টাফ রিপোর্টার
সম্প্রতি দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে দুষ্কৃতকারীদের নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর খুলনা জেলা কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কারাগার ও এর আশপাশের এলাকায়। বাতিল করা হয়েছে কারারক্ষীসহ কর্মরতদের ছুটি। বন্ধ রাখা হয়েছে কারাবন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ।

শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. রফিকুল কাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারাগারের প্রধান ফটকসহ সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। কারাগার এলাকায় চলাচলে বিশেষ নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

কারাগার সূত্র জানায়, খুলনা কারাগারে বন্দির ধারণ ক্ষমতা ৬৭৬ জন। বর্তমানে এ কারাগারে ১ হাজার ৪২১ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এবং নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরাও রয়েছেন।

খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. রফিকুল কাদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কারাগারে কর্মরত কারারক্ষীসহ সব স্টাফের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারাবন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের মোবাইলে কথপোকথন এবং সাক্ষাৎও বন্ধ রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দিদের ওপর সার্বক্ষণিক বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কারাগারের অভ্যন্তরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সবাই নিরবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কারাগারের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশংকা নেই।’

দুর্ভোগের শেষ নেই খুলনা মহানগরীর ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষদের
স্টাফ রিপোর্টার
দুর্ভোগের শেষ নেই খুলনা মহানগরীর ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষদের। প্রতিদিন দুপুরে রূপসা নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। ফলে বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করে। বৃষ্টি আর আর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় এই দুটি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ড্রেন উপচে পানি প্রবেশ করে বাসাবাড়ির মধ্যে। ড্রেনের বর্জ্যে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এ দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ষাটের দশকে নির্মিত স্লুইচ গেটগুলোর অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন দুপুরে রূপসা নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। তাছাড়া, অপরিকল্পিত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা, উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারের ধীরগতিসহ খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না।

ভুক্তভোগীরা জানান, নদীর জোয়ারের পানিতে নাকাল খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোডের বাসাবাড়ি, দোকান, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়। বিশেষ করে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর টুটপাড়া মেইনরোড, বড় খালপাড়, মোল্লাপাড়া, জিন্নাহপাড়া, টিবি ক্রসরোডসহ ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকে এসব এলাকা। পানিবন্দি এসব এলাকার মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

নগরীর টুটপাড়া বড়খালপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা আমাদের প্রতিদিনের চিত্র। প্রতিদিন জোয়ারের সময় রূপসা নদীর পানিতে টুটপাড়া বড়খালপাড় এলাকা ডুবে যায়। এর সঙ্গে খালের আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়ি প্লাবিত হয়। হাঁটু সমান এই পানি থাকে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘রূপসা নদীর তলদেশ পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া ড্রেনগুলোর তলদেশও ময়লা-আবর্জনা ও পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। রূপসা নদীর পলি খনন ও ড্রেনের তলদেশের মাটি অপসারণ করা না হলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যা রয়ে যাবে।’

নগরীর দিলখোলা রোডর বাসিন্দা দিনমজুর মো. দুলাল বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের ৩ মাস এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় আমাদের। বর্তমানে প্রতিদিন দুপুর আড়াইটা থেকে বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করে। সেই পানি সন্ধ্যা ৬টা-৭টা পর্যন্ত থাকে। আবার রাত আড়াইটা থেকে পানি উঠতে শুরু করে। দুই দফায় প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা পানিবন্দি থাকেন তারা। ফলে অমানবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি দিনে অধিকাংশ সময় পার হয় পানির হাত থেকে আসবাবপত্র বাঁচাতে।’

গৃহবধূ কোহিনুর বেগম বলেন, ‘নোংরা পানির কারণে রোগ ব্যাধির আশঙ্কাতো আছেই তারপরও সাপ, পোকামাকড়, ড্রেনের ময়লা ঘরে প্রবেশ করে। রান্না ঘরে হাঁটু সমান পানি আবার রাইস কুকারে রান্না করতে গেলে বিদ্যুৎ শর্টের ভয় রয়েছে। অধিকাংশ দিনই শুকনো খাবার খেতে হচ্ছে।’

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধারাবাহিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে মূল যে সমস্যাগুলো হছে- সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তারা উদাসীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং কোনো প্রকার জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতার মধ্যে নেই। যে কারণে স্লুইচগেটগুলো একেবারেই অচল এবং জোয়ারের পানি ঘরে উঠে যায়। একেবারে ঘর, বাথরুম, টয়লেট সবমিলে একাকার হয়ে যায়। মানুষের জীবন শুধু অসহনীয় নয়, অসহনীয়তারও চরম পর্যায়ে ছাড়িয়ে গেছে। এ অঞ্চলের মানুষ কেমন করে বসবাস করে এটা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আরিফ হোসেন মিঠু বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া, আমতলা, মোল্লাপাড়া, মুজাহিদপাড়া এবং মতিয়াখালী এই পাঁচটা এলাকা প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। ৩-৪ বছর ধরে এমন হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এর একটা ব্যবস্থা করার আশ্বাস সবাই দিয়েছেন। কিন্তু আমরা সমাধান পাচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো মাহাবুব ব্রাদার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি স্লুইচ গেট ভেঙে ফেলেছে। আর এদের কাজ এতো ধীরগতি, যার কারণে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। মেসার্স সেলিম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও বাঁধ দিয়ে কাজ করছে। আমার বাড়িতেও দীর্ঘদিন পানি উঠছে, আমি নিজেই অসুবিধায় আছি। আমার জনগণও অসুবিধায় আছে।’

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘চলমান উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। খুলনা মহানগরীর পানি অপসারণের জন্য ৭টি পয়েন্টে ১৯টি স্লুইচ গেট ও ৩৮টি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি স্লুইচ গেটে কাজ চলছে। নগরীর পানি অপসারণের জন্য রূপসায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বুস্টার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার সমস্যা কাটবে বলে আশা করছি।’

মুরগি চুরির অপবাদে মা-মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় মুরগি চুরির অপবাদে মা লাইলি বেগম ও তার কিশোরী মেয়েকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামে নির্যাতন করা হয় তাদের। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তপু বিশ্বাস জানান, তাদের নির্যাতন করা হয়নি।

শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরী বলেন, ‘আমার মা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। গত বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাজারে যাচ্ছিলাম। এসময় স্থানীয় আসরাফ আলী আমাকে ডেকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। মুরগি চুরি করেছি বলে তিনি আমাকে মারধর করেন। পরে তারা ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তপু বিশ্বাসকে ডেকে আনেন। তপু বিশ্বাস এসে কোনো কথা না শুনে প্রথমে লাঠি দিয়ে আমাকে মারধর করেন। পরে হাত-পা বেঁধে পায়ের তলায় পেটাতে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে মা আসলে, তাকেও বেঁধে মারধর করেন তপু বিশ্বাস। মুরগি চুরির জরিমানা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, না হলে আবারও মারধর করা হবে বলে হুমকি দেন। মারধর শেষে আমার গলায় ধারালো দা ধরে মুরগি চুরি করেছি বলে স্বীকারোক্তি দিতে বলেন। প্রাণ বাঁচাতে আমি মুরগি চুরি করেছি বলে স্বীকারোক্তি দেই। আমি মুরগি চুরি করিনি। আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।’

হাসপাতালে ভর্তি কিশোরীর আহত মা লাইলি বেগম বলেন, ‘ইউপি সদস্য তপু বিশ্বাস আমার মেয়েকে মারপিট করেছে। ডেকে নিয়ে আমাকেও মারধর করেছে। আলাদা ঘরের মধ্যে বসিয়ে হাত বেঁধে মারধর করেছে। আমার বাচ্চা মেয়েকে যেভাবে পিটিয়েছে তা কোনো মা সহ্য করতে পারে না। আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য তপু বিশ্বাস বলেন, ‘স্থানীয়রা মুরগি চোর ধরেছে শুনে আমি থানার তদন্ত ওসিকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে। ঘটনাস্থলে যারা ছিলেন তাদের সমন্বয়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে শুনি, রাতে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আসলে তাদের নির্যাতন করা হয়নি।’

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. সানজানা বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার মা-মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের অবস্থা এখন ভালো।’

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নড়াইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক ৫
নিজস্ব প্রতিনিধি
নড়াইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুলাই) দিনগত রাতে সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন, নড়াইলের নড়াগাতি থানার টোনা গ্রামের মুরাদ মোল্যা (২৮), খুলনার কয়রা থানার চরমুখা গ্রামের আব্দুর রউফ (৪০), ভোলা সদরের হনি কারলিয়া গ্রামের সবুজ মোল্যা (৫৬), খুলনার খালিশপুরের শুভ রায় (২৪) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার কলশকাঠি গ্রামের আবু সাঈদ মোল্যা (২৫)।
পুলিশ জানায়, রাতে কুন্ডুপাড়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এসময় টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দুজন পালিয়ে যান। পরে নানা ধরনের সরঞ্জাম ও মোটরসাইকেলসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা হয়েছে।

নড়াইলে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার গোবিন্দনগর গ্রাম সংলগ্ন ভক্তডাঙ্গা বিলের মধ্যবর্তী সরকারি খুলনা-কালিয়া ওয়াপদা বড় খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

খাল বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণে ঘেরমালিক শিব বর্মন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করে প্রায় এক বছর নিজের সুবিধামতো খালের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে খালের পানিপ্রবাহ নষ্ট করে চলেছেন ঘেরমালিকের সংঘবদ্ধ দল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার প্রান্তিক চাষিরা। তারা অতিদ্রুত এই রাস্তা অপসারণ পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণের কারণে ফসলি জমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা।
এদিকে সরকারি খালে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ঘেরমালিক শিব বর্মন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেননি। তবে অভিযোগ আসায় রাস্তাটি কেটে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনু সাহা বলেন, সরকারি খাল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কারও ব্যক্তিস্বার্থে খালে রাস্তা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মৎস্য অফিসারকে সরেজমিনে গিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খালের মুখ বন্ধ করলো পাউবো, হুমকিতে দুই হাজার বিঘা জমির ফসল
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
সরকারি খালের মুখ বন্ধ করে গড়াই নদী শাসন (ড্রেজিং) করেছে কুষ্টিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হুমকিতে পড়েছে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, এনায়েতপুর ও এতমামপুর গ্রামের অন্তত দুই হাজার বিঘা কৃষি জমি। ঝুঁকিতে রয়েছে অর্ধশত পুকুর।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বার বার বলার পরও পাউবো অপরিকল্পিতভাবে নদী শাসন করেছে। বন্ধ করে দিয়েছে খালের মুখ। এতে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসলসহ জমি প্লাবিত হয়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক। তারা দ্রুত বালু অপসারণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোবিন্দপুর গ্রামের কোলের মাঠ থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ড্রেনেজ খাল রয়েছে। তা দিয়ে গোবিন্দপুর, এনায়েতপুর ও এতমামপুর গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা কৃষি জমিতে পানি যাওয়া-আসা করে। তবে প্রায় দুই মাস আগে গড়াই নদী শাসনের নামে ড্রেজিংকৃত বালু ফেলে ওই খালের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। আর কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল প্লাবিত হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে অন্তত ৫০টি পুকুর।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পানিতে স্রোত নেই। সদ্য রোপণ করা ধানের চারা ডুবে গেছে। পাটক্ষেতে হাঁটু পানি। আর খালের মাথায় প্রায় ৩০০ মিটার চওড়া বালুর স্তূপ রয়েছে।

এসময় গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মো. টুটুল জানান, মাঠে পুকুরসহ তার প্রায় ১৮ বিঘা জমি রয়েছে। তার মধ্যে ৭ বিঘা জমিতে তিনদিন আগে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। তবে গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে চারা পানিতে ডুবে গেছে।

তার ভাষ্য, দুমাস আগে পাউবো বালু ফেলে খালের মুখ ভরাট করেছে। সেজন্য পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় ধান ও পাটক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। অন্তত দুই হাজার বিঘা জমি হুমকিতে পড়েছে।

কৃষক লিয়াকত আলী জানান, দিন ১৫ পরেই পাট কাটা শুরু হবে। তবে পাটের জমিতে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। পানির কারণে পাটের মাথা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। তিনি দ্রুত পানি অপসারণের দাবি জানান।

শহিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, বালুর কারণে প্রায় দুই হাজার বিঘা তিন ফসলি জমি হুমকিতে পড়েছে। তিনি খালের মুখ থেকে বালুর স্তূপ সরানোর দাবি জানান।

তবে দুই মাস ধরে খালের মুখ বন্ধের বিষয়টি জানেন না বলে জানান কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ড্রেজার) মো. জিনারুল।
তিনি জানান, নদী শাসনের সময় খালের মুখ ভরাট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বালু সরানোর জন্য চেয়ারম্যানের লোকদের নিজস্ব ভ্যেকু দিয়েছিলেন।

তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর এই বক্তব্য অস্বীকার করে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, তাকে খালের মুখ বন্ধ ও জলাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে সবাই।
তবে পাউবোর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বালু অপসারণ করে পানিপ্রবাহ সচল করার আশ্বাস দেন কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ।

সাবেক এমপি বাবুর উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবুর উদ্যোগে তার নিজ বাস ভবনে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক, ও সাবেক হুইপ এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার ৬ষ্ট মৃত্যু বার্ষিকীতে দিনব্যাপি কুরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিযাবেত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, পাইকগাছা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনিছুর রহমান মুক্ত, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন ফিরোজ বুলু, এ্যাড. মুজিবুর রহমান, যুবনেতা এসএম আজিজুল হাকিম, জামাল হোসেন হাসান মেম্বর, আরেফিন আলী আনিচ মোল্ল্যা, কেডি বাবু, দিপংকর রায়, সাংবাদিক আজিজ, মিজানুর রহমান মিজান, আলাউদ্দিন সোহাগ, বাবুল আক্তার, বাবু মান্না, ইসহাক শেখ, শেখ জুলি, ছাত্রনেতা রায়হান পারভেজ, রনি, মিথুন, সবুজ, মানিক, করিম, আসাদ, বিকাশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সুজা একজন দক্ষ সাংগঠনিক ও কর্মী বান্ধব সাহসী নেতা ছিলেন: সিটি মেয়র
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, মোস্তফা রশিদী সুজা একজন দক্ষ সাংগঠনিক ও কর্মী বান্ধব সাহসী নেতা ছিলেন। তিনি বহুগুণে গুণান্বিত দূরদর্শী নেতা ছিলেন। দলের দুঃসময়ে আমরা দু’জনে একসাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগকে সাজিয়েছি। সুজা কখনও কোন রক্তচক্ষুকে ভয় করেননি। তিনি সুজার রাজনৈতিক উত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সুজা এবং আমি পাশাপাশি দুটি ইউনিয়নের কমিশনার নির্বাচিত হই। সে সময়ে আওয়ামী লীগের উপরে চরম জুলুম চলছিলো। ১৯৮১ সালে নেত্রী দেশে ফিরে আসার পরে মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সে কাউন্সিলে আমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং সুজাকে সহ-সভাপতি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা বিবেচনা করে নেত্রী সুজাকে জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। অতঃপর সুজা খুলনা-৪ আসন থেকে এবং আমি বাগেরহাট-৩ আসন থেকে একইসাথে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এই সংসদে সুজাকে হুইপ এবং আমাকে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। এভাবেই খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগকে আমরা বিএনপি-জামায়াতের আগ্রাসন থেকে বের করে এনেছি। একইসাথে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খুলনার উন্নয়ন করেছি। আজ সুজার শূন্যতা প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা অনুভব করছি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সুজার রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং আদর্শকে অনুসরণ করে সংগঠনকে সাজিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে দেশকে জামায়াত-শিবির জঙ্গীমুক্ত করতে হবে।
গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ। এসময়ে বক্তৃতা করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারী, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মিজানুর রহমান মিজান, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুস্পুত্র ও নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন বাবু, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের পুত্র এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ন, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. কাজী বাদশা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. এম এম মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল সিংহ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সরফুদ্দিন বিশ^াস বাচ্চু, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, শেখ মো. ফারুক আহমেদ, সরদার আবু সালেহ, সাবেক সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব মিয়া, হোসনে আরা চম্পা, মানিকুজ্জামান অশোক, প্যানেল মেয়র এ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু, চৌধুরী মোহাম্মদ রায়হান ফরিদ, শেখ মো. আবু হানিফ, এ্যাড. সেলিনা আক্তার পিয়া ও মো. পারভেজ হাওলাদার।
মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য অসিত বরণ বিশ^াসের পরিচালনায় এসময়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মল্লিক আবিদ হোসেন কবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, এ্যাড. রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, বি এম এ সালাম, অধ্যা. এ্যাড. বাবু নিমাই চন্দ্র রায়, এ্যাড. রজব আলী সরদার, রফিকুর রহমান রিপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, কামরুজ্জামাল জামাল, এ্যাড. ফরিদ আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ কামাল, শেখ মো. আনোয়ার হোসেন, কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু, জোবায়ের আহমেদ খান জবা, এম এ রিয়াজ কচি, এ্যাড. নব কুমার চক্রবর্তী, রকিবুল ইসলাম লাবু, কাজী শামীম আহসান, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, মোজাফফর হোসেন মোল্যা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান বাবলু, কামরুল ইসলাম বাবলু, হাফেজ মো. শামীম, মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, মো. খায়রুল আলম, তসলিম আহমেদ আশা, শেখ মনিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ফ ম সালাম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, মোসা. সামসুন নাহার, পাপিয়া সারওয়ার শিউলি, মো. জামিল খান, শেখ আবিদ উল্লাহ, বাবুল সরদার বাদল, মঈনুল ইসলাম নাসির, আব্দুল হাই পলাশ, নুর ইসলাম, চ ম মুজিবর রহমান, কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার চালু, মো. ফায়েজুল ইসলাম টিটো, মো. আজম খান, মো. ইউসুফ আলী খান, মুন্সি মোত্তালিব মিয়া, মুন্সি সেলিম হোসেন, অহিদুল ইসলাম পলাশ, মো. শিহাব উদ্দিন, জাফর ইকবাল মিলন, মো. আশরাফুজ্জামান বাবুল, নাজনিন নাহার কনা, সফিকুর রহমান পলাশ, এম এ নাসিম, শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, ইঞ্জিঃ মাহফুজুর রহমান সোহাগ, এম এম আজিজুর রহমান রাসেল, এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, খান সাইফুল ইসলাম, মো. পারভেজ হাওলাদার, এ্যাড. শামীম আহমেদ পলাশ, মনোয়ারা খাতুন শিউলি, এ্যাড. আব্দুল লতিফ, এ্যাড. রাবেয়া ওয়ালী করবী, কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম প্রিন্স, কাউন্সিলর জিয়াউল আহসান টিটু, হুমায়ুন কবীর ববি, মুন্সি নাহিদুজ্জামান, মো. আমির হোসেন, জাকির সরদার, দেব দুলাল বাড়ই বাপ্পী, জেসমিন সুলতানা শম্পা, রিনি বেগম, নাসরিন আক্তার, নুর জাহান রুমি, নূরিনা রহমান বিউটি, সাবিহা ইসলাম আঙ্গুরা, রোকেয়া রহমান, শবনম সাবা, খাদিজা কবীর তুলি, নাছরিন ইসলাম তন্দ্রা, আইরিন আক্তার নিপা, রেজওয়ানা প্রধান, আফরোজা জেসমিন বিথী, চিশতী মুস্তারী বানু, শবনম মুস্তারী বকুল, এ্যাড. ফারজানা রহমান, এ্যাড. তিতাস, শিমু আক্তার, শেখ রেজাউল করিম রেজা, তরিকুল ইসলাম সুমন, মো. জিলহাজ¦ হাওলাদার, মো. আমিরুল ইসলাম বাবু, ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হোসেন, তানভির রহমান আকাশ, মাহমুদুর রহমান রাজেশ, আশিকুজ্জামান তানভির, সালমান ফারসি, ওমর কামালসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
স্মরণ সভা শেষে মরহুম এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ খ ম জাকারিয়া।
এর আগে সকাল ৯টায় নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে মরহুমের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দিনব্যাপী কোরআন খানি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০নং ওয়ার্ডের সকল মসজিদে বাদ আছর মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতির সুস্থ্যতা কামনায় খুলনা মহানগর নেতৃবৃন্দ
খবর বিজ্ঞপ্তি
বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং এশিয়ান টেলিভিশন ও এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধাা আলহাজ্ব মোঃ হারুন উর রশিদ সিআইপি অসুস্থ্য অবস্থায় ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার আশু রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি দান করেছেন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা মহানগর নেতৃবৃন্দ। বিবৃতি প্রদানকারী নেতৃবৃন্দ হলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ আলমগীর হোসেন, খুলনা মহানগর আহবায়ক মোঃ মোস্তফা কামাল, সিনিঃ যুগ্ম আহবায়ক এম আসাদুজ্জামান মুন্না, যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ এম এ শেখ জিহাদ, মোঃ মহিদুল ইসলাম নান্নু, মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টু, মোঃ হুমায়ুন কবীর নিয়াজ, মল্লিক রফিকুল ইসলাম লিটন, সদস্যবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লিয়াকত আলী, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম রাফি, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা শেখ মোক্তার উদ্দিন, সরদার সাইদী হাসান বাবু, ইয়াসমিন আহম্মেদ অরিন, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী শরিফুল ইসলাম মিঠু, মোঃ রাশেদুল ইসলাম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম হিরু, মোঃ আকরাম মোল্লা, মোঃ জুয়েল আরমান, মোঃ সজীব হোসেন সুরুজ, মোঃ মোস্তফা কামাল রাজা, মোঃ ফিরোজ মিয়া, মোঃ সুমন হাচান, শেখ আব্দুল হালিম, মোঃ পাপ্পু, মোঃ ফিরোজ ফারাজী, খান জাহিদুর রহমান জুয়েল, আরুপ হোসেন সোহাগ, শেখ জুবায়ের রহমান, মোঃ ফোরকান শেখ, দেলোয়ার হোসেন ফারাজী, মোঃ মাছুম শেখ, খাদিমুল ইসলাম মিজু, ইরানী পারভিন, মল্লিক আজিজুর রহমান টিটু, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ জাহিদুর রহমান, মোঃ আশিকুর রহমান, মোঃ কলিম, মোঃ শহীদুল ইসলাম, আরমান ব্যাপারীসহ সংগঠনের খুলনা মহানগরের নেতৃবৃন্দ।

আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচী
খবর বিজ্ঞপ্তি
আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর উদ্যোগে শনিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ব্রিজের পাশে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচী উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মশিউজ্জামান খান। আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সহ-সভাপতি মোঃ শাহাজাহান জোমাদ্দার এবং সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের এর সার্বিক তত্বাবধানে খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে তিন শতাধিক ফলজ, ঔষধি ও বনজ বৃক্ষ রোপন করা হবে। বৃক্ষ রোপন কালে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের প্রকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষ রোপনের গুরুত্ব অপরিসিম। সেকারনে আমাদের সকলকে নিজ নিজ আঙ্গিনায় ও খালি জায়গায় প্রতিবছর বৃক্ষ রোপন ও পরির্চযা করা প্রয়োজন।
সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচী উদ্বোধন কালে অন্যান্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রোটাঃ সৈয়দ হাফিজুর রহমান, কবি সৈয়দ আলী হাকিম, ওমর ফারুক কচি, সরদার আবু তাহের, হাসান মোল্লা, মো: শাহজাহান জমাদ্দার, অধ্যক্ষ আরিফ বিল্লাহ, ইকবাল হাসান তুহিন, মিজানুর রহমান, ইঞ্জি: নাজমুল হুদা, মনির হোসেন, ইঞ্জি: সেলিমুল আজাদ, ফিরোজ আহমেদ, মীর কাওসার মিজু, রোটাঃ আবেদ হোসন সোহাগ, রুহুল আমিন মিঠু, মুজাহিদ রহমান ফাইয়াদ, চিশতি মাহামুদ হাসান, এম এম হাসান, এ্যাডঃ জেনারুল ইসলাম, মোঃ হাফিজুর রহমান, কামরুল ইসলাম কচি, মনির উজ জামান লাভলু, আরিব আল আহমেদ, জি এম ফারুক কচি, রিয়াজুল কবির, মাসুদুল হক, মাসুদ পারভেজ, আশরাফুল ইসলাম মানিক প্রমুখ।

উন্নয়ন কমিটি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাজী স্বপনের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন
খবর বিজ্ঞপ্তি
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ মরহুম এ্যাড. মোহাম্মদ আলীর পুত্র সাতরাস্তা মোড়স্থ টাইটান প্লাজার মালিক আলহাজ্ব হাফিজ মহম্মদ স্বপন (৬৫) দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর গত ২৯ অক্টোবর ’২৩ রবিবার বেলা ১টায় নগরীর ডালমিলস্থ নিজস্ব বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না …. রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র, ১ কন্যা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের নামাজে জানাজা গতকাল বাদ এশা কুদরাতিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সম্পন্ন হয়ে টুটপাড়া কবরস্থানে তাঁর পিতার পায়ের কাছে দাফন করা হয়।
খুলনা উন্নয়নের দাবীতে আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রণী সৈনিক অকুতোভয় নিবেদিতপ্রাণ উন্নয়ন কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হাফিজ মহম্মদ স্বপনের মৃত্যুতে গভীর শোক, তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালিদ হোসেন, মহাসচিব প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন, সহ-সভাপতি কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, এ্যাড. অলোকানন্দা দাস, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, মোঃ মোজাম্মেল হক, শওকত হোসেন, এফ এম ইকবাল, এফ এম আকরাম হোসেন খোকন, যুগ্ম মহাসচিব যুগ্ম মহাসচিব সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শেখ আব্দুল হালিম, আলহাজ্ব শেখ মোঃ আবু সুফিয়ান, প্রচার সম্পাদক শেখ আইনুল হক, নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী, মোঃ আব্দুল জলিল, হুমায়ুন কবির হিমু, নাজমুল তারেক তুষার, এস এম হাফিজু রহমান তারেক, শাহ জাফর মাহমুদ মেহেতা, মোঃ রফিকুল ইসলাম হাওলাদার, মোঃ শাহ আলম, মোঃ আমির হোসেন, মোঃ হাসান শেখ, মোঃ বসিরুজ্জামান, মাওলানা মোস্তফা আহমেদ, হাফেজ মোঃ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

মডার্ণ ফার্নিচার মোড়ের সংযোগ সড়ক খুলে দেয়ার অনুরোধ খুলনা উন্নয়ন কমিটি’র
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোড, ফেরীঘাট থেকে রূপসা পর্যন্ত অনেকগুলো সংযোগ সড়ক বিদ্যমান। যার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মডার্ণ ফার্নিচার মোড় দু’টি সংযোগ সড়ক আছে, একটি দক্ষিণ দিকে মৌলভীপাড়া-পূর্ব বানিয়াখামার-দোলখোলাএবং অপরটি উত্তর দিকে বাইতিপাড়া-মিজাপুর গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ বন্ধ করায় এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্রছাত্রীদের চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে। সংযোগ সড়কটি বন্ধ থাকায় পথচারীদের টিবি বাউন্ডারী রোড অথবা সিটি কলেজ মোড় হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। রিকসা-গাড়ীতে আরও ঘুরপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে ঐ দুটি সংযোগে যানজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকার ভুক্তভুগী বাসিন্দরা কেএমপি কমিশনার, স্থানীয় কমিশনারসহ ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিকট আবেদন-নিবেদন করা সত্বেও সংযোগ সড়কটি খুলে না দিয়ে বর্তমানে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দুর্গতি লাঘবের প্রত্যাশায় মাননীয় মেয়র ও খুলনা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য’র বরাবর উল্লিখিত সংযোগ সড়কটি খুলে দেবার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির পক্ষে খসভাপতি খালিদ হোসেন ও মহাসচিব প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন।
অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন আছিয়া-সাত্তার ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খুলনা ট্রেনিং এন্ড রীহ্যাবিলিটেশন সেন্টার অব দি ব্লাইন্ড, খুলনা জেলা মটর সাইকেল গ্যারেজ ম্যাকানিক সমিতি ও খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতি’র নেতৃবৃন্দ। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাবেক মহাসচিব হায়দার গাজী সালাউদ্দিন রুনু, সহ-সভাপতি এ্যাড. অলোকানন্দা দাস, কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, শওকত হোসেন, অরবিন্দ সাহা, যুগ্ম মহাসচিব মহেন্দ্র নাথ সেন, শেখ আব্দুল হালিম, আলহাজ্ব শেখ মোঃ আবু সুফিয়ান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ডাঃ সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, প্রচার সম্পাদক শেখ আইনুল হক, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল খালেক সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন খোকন, কবি সৈয়দ আলী হাকিম, উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী সদস্য এস এম সেলিম বুলবুল, আলহাজ্ব হাফিজ মাহমুদ স্বপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল জলিল, শাহ জাফর মাহমুদ মেহেতা, মোঃ কামরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান খোকন, আশিক ইকবাল, সুশান্ত কুমার ভাদুড়ী, তুষার কান্তি পাল, এম এম কামাল, হাফিজুর রহমান তারেক, তালুকদার হেলালুজ্জামান, সরদার মোশাররফ হোসেন, মোঃ মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোঃ ছলেমান খান, সাইদুর রহমান, নজরুল ইসলাম, শামীম আজাদ, মোঃ সোহেল রানা প্রমুখ।
অপর এক বিবৃতিতে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

কপিলমুনিতে চা ও মুদি দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি
কপিলমুনিতে দাহ্য পদার্থের বিক্রয় বিপদজনক জায়গায় চলে যাচ্ছে। মুদি দোকানে এখন পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে, অবাধে বিক্রি হচ্ছে চায়ের দোকানেও। মুদি ও চায়ের দোকানে স্পর্শকাতর এসব পদার্থের মজুদ ও ক্রয় বিক্রয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই, ফলে হরহামেশায় বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল। আর এ কারণে যেকোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে দেখাযায়, কপিলমুনি-পাইকগাছা মেইন সড়কের কাশিমনগর থেকে মামুদকাটি বাজার মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার রাস্থার দু’ধারে প্রায় অর্ধশতাধিক চা ও মোদি দোকানে পেট্রোল-ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। কোমল পানীয়র বিভিন্ন রকমের বোতলে ভরে এসব দোকানে টেবিলের উপর থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পেট্রোল-ডিজেল। অনুমোদন হীন এসবের মজুদ ও বিক্রয়ের কারণ জানতে চাইলে কোন চা ও মুদি দোকানি এর সদোত্তর দিতে পারেননি।
জানাযায়, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলসহ নানা দাহ্য পদার্থ বিক্রির ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এরা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে এসব দাহ্যপদার্থ মজুদ ও বিক্রি করেই চলেছে। মোটর বাইক চালক আমির আলী জানান, যেখানে সেখানে পেট্রোল-ডিজেল বিক্রি হচ্ছে এটা খুবই বিপদজনক। মাহেন্দ্র চালক আব্দুল কাদের জানান, মুদি ও চায়ের দোকানে দাহ্যপদার্থ বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হওয়া দরকার। কিন্তু কেন যে প্রশাসন নিরব থাকে এটা বুঝি না। একটি সূত্র জানায়, কপিলমুনি ও হরিঢালী ফাঁড়ী পুলিশ এসব দোকানীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে থাকে।

উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাড. অলোকা নন্দা দাসের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন
খবর বিজ্ঞপ্তি
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি, প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত, খুলনা পিপি অ্যাড. অলোকানন্দা দাস (৬৯) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ জুলাই বুধবার পরলোক গমন করেন। খুলনার বিভিন্ন উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ন্যায়সঙ্গত দাবী-আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ অলোকানন্দা দাসের মৃত্যুতে উন্নয়ন কমিটির সহকর্মীরা গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালিদ হোসেন, মহাসচিব প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, মোজাম্মেল হক, শওকত হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শেখ আব্দুল হালিম, আলহাজ্ব শেখ মোঃ আবু সুফিয়ান, প্রচার সম্পাদক শেখ আইনুল হক, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এস এম আকরাম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল তারেক তুষার, আইন সম্পাদক অ্যাড. মামনুর রশীদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এস এম সেলিম বুলবুল, সাহিত্য সম্পাদক হাফিজুর রহমান তারেক, শ্রম সম্পাদক মোঃ হযরত আলী, মহিলা সম্পাদক ববি ইসলাম, নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাসমত আলী, প্রফেসর সাইদুল হাসান, শাহ্ জাফর মাহমুদ মেহেতা, তালুকদার মোঃ হেলালুজ্জামান, মোঃ নজরুল ইসলাম, সাইদুর রহমান সাইদ, মোঃ আজিজুল হক, আহম্মদ আলী খান, এস এম তামজিদ হোসেন সৌরভ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

কেইউজে এর নির্বাহী সভায় বক্তারা
বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখনির মাধ্যমে নৈরাজ্য মোকাবেলা করে দেশকে রক্ষা করতে হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি
দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে। বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখনির মাধ্যমে দেশজুড়ে নৈরাজ্য মোকাবেলা করে দেশকে রক্ষা করতে হবে। বক্তারা বলেন, নৈরাজ্যকালে নাশকতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি সাংবাদিকরা। নির্মমভাবে সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে। করা হয়েছে নির্যাতন। সাংবাদিকতার কাজে যারা বাঁধাগ্রস্থ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নবম ওয়েজবোর্ড সংশোধনসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এভঅবে বললেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।
শনিবার বেলা ১১ টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাটের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেনের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো: আমিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি কাজী শামীম আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিলন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সাগর সরকার ও নির্বাহী সদস্য নেয়ামুল হোসেন কচি, লিয়াকত হোসেন, উত্তম কুমার সরকার প্রমুখ।
সভায় আগামী খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ চেয়ারম্যান হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা ও এনামুল হক এবং বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(খুলনার জন্য) নির্বাচন পরিচালনার জন্য এস এম জাহিদ হোসেন চেয়ারম্যান সুনীল দাসকে সদস্য করে কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধান সংশোধনী কমিটিসহ বাৎসরিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।সভায় খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নকে সংঘবদ্ধ করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ করার আহবান করা হয়।

মহেশপুরে ২৪ বছর ধরে ক্রিকেট ব্যাট বানাচ্ছেন ৩ ভাই
মহেশপুর(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পল্লীতে গড়ে তোলা হয়েছে হাতে তৈরি ক্রিকেট ব্যাট তৈরির কারখানা। আপন তিন ভাই ৩টি কারখানা থেকে প্রতিদিন ২ শতাধিক ছোট-বড় ব্যাট তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। আর এই ব্যাট দিয়ে খেলে অনেকে হয়েছেন বড় মাপের ক্রিকেটার। গত ২৪ বছর ধরে তারা এই ব্যাট তৈরির কাজ করছেন। কর্মসংস্থান করেছেন ১০-১৫জনের। উপজেলার বাথানগাছি গ্রামের রাজেন্দ্রনাথ, সাধন দাস ও শ্যামল দাস গড়ে তুলেছেন এই ব্যাট কারখানা। সরেজমিন উপজেলার মান্দাড়বাড়ীয়া ইউপির বাথানগাছি মিস্ত্রি পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়িতে পাশাপাশি তিনটি ছোট কারখানা। কোথাও পড়ে আছে কাঠ, কোথাও ছোট ছোট কাটিং মেশিন, ১৫জন কর্মচারীর কেউ বা ব্যাটের কাঠ পরিষ্কার করছেন। কেউ বা ব্যাটে কাভার পরাচ্ছেন।
কথা হয় একটি কারখানার মালিক রাজেন্দ্রনাথের সাথে। তিনি জানান, গত ২৪ বছর ধরে তারা তিন ভাই তিনটি কারখানা পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন এই কারখানা থেকে ১০০ থেকে ১৫০টি বিভিন্ন ধরনের ক্রিকেট ব্যাট তৈরি করা হচ্ছে। তাদের কর্মচারী আছে ১৫জন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রেতারা তাদের অগ্রিম ব্যাট অর্ডার দেন। প্রকার ভেদে ৫০টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত পাইকারী দরে তারা ব্যাট তৈরি করেন। একটি ব্যাটে গড়ে ৪০-৫০ টাকা লাভ থাকে বলে তিনি জানান।
রাজেন্দ্রনাথ আরো জানান, তারা মুলত ঝিনাইদহ আরাপপুর থেকে ব্যাট তৈরি কাঠ সংগ্রহ করে থাকেন। এর পর কাঠগুলো বাড়িতে এনে ভাল করে শুকিয়ে নেন। তার পর এগুলো ছোট কার্টার মেশিন, পরিষ্কার করার মেশিনে কাজ করে আটা দিয়ে ব্যাটগুলো সেট করা হয়। এরপর এগুলো ভালভাবে শুকানোর পর তার উপর স্টীকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হয়।
তিনি আরো জানান, হাতে এই ব্যাট তৈরি করে তিনি আজ পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন, ৩ বিঘা জমি ও মোটরসাইকেল কিনেছেন। ক্রিকেট ব্যাট তৈরি কারখানায় কর্মরত কর্মচারীরা জানান, তারা অনেক দিন ধরে এই ব্যাট তৈরির সাথে জড়িত। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা হাজিরায় কাজ করেন। এখানে প্রতিদিন ছোট-বড় সাইজের ব্যাট তৈরি করা হয়। যারা ক্রিকেট খেলেন তারা প্রতিনিয়ত এখান থেকে ব্যাট কিনে নিয়ে যায়। এছাড়াও ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এই কারখানা থেকে ব্যাট কিনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। শ্যামল দাস জানান, তাদের এই কারখানা বড় করতে চান। তাদের কারখানায় তৈরিকৃত ব্যাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারি না। তবে সরকার কিংবা যদি বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে তাদের আর্থিক সহযোগিতা করলে এই কারখানা বড় আকারে করতে পারতেন।
স্থানীয় সমাজসেবক হারুন অর রশিদ ও সঞ্জিত কুমার জানান, তাদের গ্রামে তৈরি ক্রিকেট ব্যাটের ব্যাপক চাহিদা। এখানে সম্পুর্ণ হাতে তৈরি করা হয় ব্যাট। ভালমানের কাঠ দিয়ে তৈরি করার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এই গ্রামে এসে ব্যাট কিনে নিয়ে যান।
তারা আরও বলেন সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক সহযোগিতা করলে এই কারখানা বড় আকারে করতে পারলে এখানে অনেকের কর্মসংস্থান হবে।

নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘ
খবর বিজ্ঞপ্তি
দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘ (বিএনএফডব্লিউএ) শনিবার সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। প্রায় ৫০০ পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আটা, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয়।
ঢাকাস্থ নাবিক কলোনী, মিরপুর-১৪’ তে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু, পঙ্গু, বয়স্ক নারী-পুরুষসহ অসহায়, গরিব ও দুঃস্থ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট এ সময় উপস্থিত সকলের খোঁজ খবর নেন এবং গরিব-দুঃস্থ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার আশ¡াস প্রদান করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘ মানুষের কল্যাণে সর্বদা সহায়তা প্রদান করে আসছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, অধিনায়ক বানৌজা হাজী মহসীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


ইটপাটকেলের আঘাতে আবু সাঈদের মৃত্যু: এজাহারে পুলিশ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ১১ দিনেও জমা দেননি চিকিৎসক। তার মৃত্যুর ঘটনায় তাজহাট থানায় একটি মামলা করেছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বিভূতিভূষণ রায়। ঘটনার পরদিন পেনাল কোডের (১৪৩/১৮/৬/৩৩২/ ৩৩৩/৩৫৩/৩৭৯/৪৩৫/ ৪২৭/৩০২/৩৪) ধারায় মামলাটি করা হয়।
এজাহারে গুলিতে সাঈদ মারা গেছেন—এমন কোনও তথ্য নেই। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইটপাটকেলের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে। আসামি হিসেবে কারও নাম নেই। অজ্ঞাত দুই-তিন হাজার আন্দোলনকারীকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতা সাধারণ/মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে গুরুতর জখম, চুরি, ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন, অগ্নিসংযোগ ও নিরীহ ছাত্রকে হত্যা করার মতো অপরাধ করেছে। উচ্ছৃঙ্খল দুই-তিন হাজার আন্দোলনকারী ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্ত, তাদের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির সমর্থিত নেতাকর্মীও রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মারপিট করে মারাত্মক আহত করে তারা। সড়ক অবরোধে থাকা উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগী রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনরত দুর্বৃত্ত বিভিন্ন দিক থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ও তাদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশও এপিসি গাড়ির মধ্য থেকে কং/১১৮৬ সোহেল নামীয় সরকারি ইস্যুকৃত শটগান থেকে ১৬৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ফায়ার করে। সংঘর্ষে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থীকে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখা যায়। তখন তার সহপাঠীরা তাকে ধরাধরি করে চিকিৎসার জন্য বিকাল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ছাত্রের নাম আবু সাঈদ (২৩), বাবা মকবুল হোসেন, গ্রাম জাফরপাড়া বাবনপুর, থানা পীরগঞ্জ, জেলা রংপুর।’ এজাহারের বিষয়ে জানতে এসআই বিভূতিভূষণ রায়কে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
তবে এই এজাহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিজেদের দোষ ঢাকতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে পুলিশ। আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করলেও এজাহারে ইটপাটকেলের আঘাতের কথা উল্লেখ করেছে। প্রকাশ্যে বুকে গুলির যে ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারা বিশ্ব দেখলো, সেটি কী তাহলে মিথ্যা। তার পুরো শরীর ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এ ছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না, ভিডিও দেখলে তার প্রমাণ মিলবে। এতে গুলি বর্ষণকারী পুলিশ সদস্য এবং গুলি করার নির্দেশদাতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এটি সাজানো এজাহার।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘আমরা ভিডিওতে দেখেছি আবু সাঈদকে টার্গেট করে গুলি করেছে পুলিশ। আমি তার লাশ দেখেছি। সারা শরীরে অসংখ্য গুলি আর রাবার বুলেটের চিহ্ন ছিল। ১১ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া আশ্চর্যজনক। এ নিয়ে বিস্মিত হচ্ছি। হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যের বিচার না হলে পুলিশ বাহিনী ও সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তবে আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’
গুলিবিদ্ধ হয়ে সাঈদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রংপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক সাজু বাসফোর। তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ সাঈদকে আমিসহ কয়েকজন মিলে হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন গুলিবিদ্ধ সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম তখনও পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছুড়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমরা বেঁচে যাই। ওই অবস্থায় সাঈদকে নিয়ে প্রথমে একটি রিকশায় পরে আরেকটি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে আনছিলাম। পথে পথে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছির। শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখেছি। এখন মামলার এজাহারে ইটপাটকেলের আঘাতের কথা বলা পরিহাস ছাড়া কিছুই নয়। আমরা সঠিক তদন্তের দাবি জানাই।’

সাঈদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেফিন তিতু বলেন, ‘সাঈদের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যাই। তার গায়ে কালো একটি টি-শার্ট ছিল। সেটি উঠিয়ে দেখেছি, পুরো শরীর গুলি আর রাবার বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। কোনোভাবেই ইটপাটকেলের আঘাতে মারা যায়নি। তার ঝাঁঝরা শরীরের ছবি ও ভিডিও আমাদের কাছে আছে। তাকে টার্গেট করে গুলি করেছিল পুলিশ। ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’

সাঈদকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমরা এর বিচার চাই। তদন্ত করে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

বেরোবির তদন্ত কমিটি গঠন:

সাঈদ নিহতের ঘটনায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. বিজন মোহন চাকীকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কমিটির আহ্বায়ক মতিউর রহমান বলেন, ‘এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তারপরও তদন্তকাজ শুরু করেছি আমরা। ইতোমধ্যে সেদিনের ঘটনার ভিডিও এবং সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে কমিটির সদস্যদের নিয়ে আরও তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

পুলিশের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি:

একই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকীকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পরদিন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত হবে। এসবের মধ্যে আছে পুলিশের ওপর হামলা, ঘটনার কারণ ও সাঈদের মারা যাওয়ার বিষয়। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

পুলিশের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে আবু সাঈদ দুই পক্ষের ইটপাটকেলের আঘাতে মারা গেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের কেউ গুলি করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। সেদিনের ঘটনার ভিডিও এবং সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর জানা যাবে, আসলে কী ঘটেছে। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১১ দিনেও দেওয়া হয়নি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন:

সাঈদের লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিকুল ইসলাম। ১১ দিনেও প্রতিবেদন না দেওয়ার কারণ জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহ মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ছুটিতে আছেন। সোমবার কাজে যোগ দেবেন। আশা করছি, কাজে যোগ দেওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন তিনি।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৬ জুলাই বিকাল ৩টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামের দিনমজুর মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে।

সাঈদের বাবা-মাকে ঢাকায় ডেকে নেওয়া হয়েছে:

স্বজন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাঈদের বাড়িতে এসে তার বাবা-মাকে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার জন্য যেতে বলেন। শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই আবু হোসেন, বোন সুমি আখতার, ভাবি সাবিনা আকতার ঢাকায় রওনা হয়েছেন।

কোটা আন্দোলন : আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী যে ব্যাপক সংঘর্ষ-সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ। সরকার মনে করছে, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ‘পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ’ করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে সরকার যে ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে এর কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ওপর এর ‘নেতিবাচক’ প্রভাব পড়তে পারে। তারা মনে করছেন, বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, এই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে তা মনে হচ্ছে। কারণ, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হাতে এখন যেসব ‘প্রমাণ’ আছে, তা দিয়ে তারা ‘খুব সহজেই নীতি-নির্ধারকদের ওপর বিভিন্নরকম চাপ প্রয়োগ’ করতে পারবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি গুলি ব্যবহারের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ। এক বিবৃতির মাধ্যমে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। একইভাবে ঢাকায় ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সরাসরি এই উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বাংলাদেশে যা ঘটছে, যে গণগ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। সব সহিংস কর্মকাণ্ডের তদন্ত স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে হওয়া উচিত। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত, যা হবে সংলাপের উপযোগী।’

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউনের বিস্তারিত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে প্রকাশ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমসহ সব মানুষকে মুক্তভাবে যোগাযোগের জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সরকারকে অবশ্যই অবিলম্বে পূর্ণ ইন্টারনেট সুবিধা পুনর্বহাল করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও মান নিশ্চিত করতে বলা হয়।

ওইদিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বলেছে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ছয় দিনের যোগাযোগ বিধিনিষেধের মধ্যেও কর্তৃপক্ষ ‘বেআইনিভাবে বল প্রয়োগ অব্যাহত’ রেখেছে।

সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তিনটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী ও মৃদু প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর ডেপ্রোজ মুচেনা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আসা ভিডিও এবং ছবির ক্রমাগত যাচাই ও বিশ্লেষণে সেখানকার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারের ভয়াবহ মানবাধিকার রেকর্ড এবং বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন করা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কর্মকাণ্ডে আশ্বস্ত হওয়া যায় না যে ইন্টারনেট বন্ধ করে (যেটি এখনো আংশিক বহাল আছে) আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।’

জাতিসঙ্ঘ ও অ্যামনেস্টি বিবৃতি দেয়ার আগেই বিবৃতি দেয় নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

গত ২২ জুলাই সোমবারের সেই বিবৃতিতে সংস্থাটির ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধিতাকারী যে কারো ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঢালাওভাবে নিপীড়ন চালানোর ঘটনা বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। এবং, এবারো আমরা সেই একই ধারাবাহিকতা দেখছি, যা প্রয়োগ করা হয়েছে নিরস্ত্র আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর।’

‘প্রভাবশালী সরকারগুলোর এখন সময় হয়েছে, শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগ করার। যাতে তিনি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করেন।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এম হুমায়ুন কবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘যারা বিবৃতি দিয়েছে, তারা সবগুলোই বিশ্বাসযোগ্য।’

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এসব বিবৃতির ফলে একটা ‘নেতিবাচক’ চাপ যে তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন সরকার সেটিকে কিভাবে সামাল দিবে, সেটাই দেখার বিষয়।

দেশগুলোর অবস্থান: বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য সবাইকে সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৪ জুলাই বুধবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান দিয়েছি।’

ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশন গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে যে গত সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ে বাংলাদেশের মানুষ যে ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে, তারা দেখে তারা স্তম্ভিত।

‘এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর জন্য যারা দায়ী এবং এসব ঘটনায় যাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, সবাইকে যেন যথাযথা প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে বিচার হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্মুক্ত করার কথাও বলা হয় কানাডিয়ান হাইকমিশনের বিবৃতিতে।

গত ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীন সব সময়ই বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা চায়।

বাংলাদেশে চলমান কোটা আন্দোলন ইস্যুতে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণেরই নিজেদের এই সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা আছে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলে না।’

এদিকে, গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র রান্ধীর জয়সওয়াল কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে বলেন, তারা আশাবাদী যে বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

প্রভাব কী হতে পারে: বাংলাদেশ ইস্যুতে চীন ও ভারতের অবস্থান পশ্চিমা দেশগুলোর মতো নয়। বাংলাদেশে চলমান এই অস্থিরতাকে ঘিরে চীন ও ভারত ‘অভিন্ন’ সুরে কথা বলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের এই অভিন্ন অবস্থান ‘খুব বিস্ময়কর’ নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হাতে যেসব তথ্যাদি আছে, সেগুলো দিয়ে তারা চাপ সৃষ্টি করলেও বাংলাদেশ সরকার তা আমলে নিবে না বলে তার ধারণা।

‘আন্তর্জাতিকভাবে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থনকে তারা যথেষ্ট বলে মনে করে। সেই কারণেই তাদের পক্ষে এ ধরনের একটা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ক্ষমতায় টিকের থাকার কথা বিবেচনা করা সম্ভব,’ বলেন তিনি।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘পশ্চিমের সাথে তার (শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ) দূরত্বের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় রকমের উপাদান হিসেবে কাজ করবে। তারা কোন ধরনের অবস্থান নেবে, তা আমরা দেখবো।’

‘বাংলাদেশের নীতিনির্ধাকরদের ওপর চাপ তৈরি হবে। আজকে বা এই সপ্তাহের মাঝেই হবে, তা বলছি না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রভাব প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবো বলে আমার ধারণা।’

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন যে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে চলমান এই আন্দোলন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চললেও সেটা নিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বাংলাদেশের উচিৎ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জোর দেয়া।

‘সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মাঝে জঙ্গি ঢুকে পড়েছিল। কোটা আন্দোলনের মাঝে তারা ঢুকেছে, সেটা যদি সরকার প্রমাণ করে দেখাতে পারে, তাহলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে নিয়ে এই সমালোচনা থাকবে নাৃবাংলাদেশের ভেতরের মানুষও বুঝতে পারবে,” বলেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবীরও মনে করেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ বাড়তে থাকলে চাপ হবে।’

গত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও পশ্চিমারা এনিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেনি। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপটকে ‘ভিন্ন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন হুমায়ূন কবীর।

‘শুরুতে এটি ছিল ছাত্রদের অরাজনৈতিক আন্দোলন। পরে এটিকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢুকে গেছে।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আন্দোলন নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি শুরুতেই মোকাবেলা করতে পারতো সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক সামিয়া জামান বিবিসিকে বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যে বল প্রয়োগ করেছে, তা দরকার ছিল না। সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় এই অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

‘এর পেছেন সরকারের দায় আছে। তারা তা এড়াতে পারে না। রায় ঘোষণা আরো আগে করা যেত। রায়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করায় অন্যান্য গোষ্ঠী এখানে আসার সুযোগ পেয়েছে।’

তবে চীন-ভারতের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের ফারাক সম্পর্কে তার বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমরা দুইটা ভাগে নিজেদেরকে ভাগ করে ফেলেছি। সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে এসেছিৃ এই ইস্যুতে আশেপাশের দেশগুলো যে অবস্থান নিচ্ছে, সেখানে তাদের স্বার্থ জড়িত।’

এক নজরে ঘটনাপ্রবাহ: গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ফলে, পুনরায় কোটা ব্যবস্থা বহাল হয়।

এরপরই শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শুরু করে। কিন্তু দেশজুড়ে প্রতিবাদ জোরালো হতে শুরু করে গত ৩০ জুন থেকে। গত এক সপ্তাহে তা প্রকট হয়ে ওঠে।

এই সময়ের মাঝে সারা দেশে অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। এই হতাহতদের মাঝে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী, পুলিশ, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ সবাই আছেন।

প্রাণহানির পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় দেশের সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আনতে শুরুতে পুলিশ, তারপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সবশেষে সামরিক বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, দেশব্যাপী মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ পর্যন্ত জারি করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রভাবে প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পূর্বনির্ধারিত স্পেন ও ব্রাজিল সফর বাতিল করেছেন এবং পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। তারপরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

সূত্র : বিবিসি

সম্পাদকীয়==============
শিক্ষা খাতে চলছে অচলাবস্থা: দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিন

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। আন্দোলনের তীব্রতায় গত ১৬ জুলাই এই বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর ১২ দিন পার হয়েছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কারো কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছে। কিন্তু পরিবেশ স্বাভাবিক হতে রাজনৈতিক পর্যায়ে যেসব কর্মকাণ্ড চালানো দরকার তা অনুপস্থিত। বরং এর বিপরীত কাজ করা হচ্ছে। করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের সব শিক্ষার্থী শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ক্ষতির কোনো সীমা-পরিসীমা থাকেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। এবার করা হলো আন্দোলনের কারণে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ষাণ¥াসিক পরীক্ষা স্থগিত। স্থগিত আছে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির কার্যক্রম। নতুন সেশনের ক্লাস শুরু হচ্ছে না। এ ছাড়া চলমান এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা আগামী পয়লা আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই অবস্থা। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাও স্থগিত। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম আটকে আছে। বলা যায়, শিক্ষা খাতে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে একটি প্রজন্ম ন্যূনতম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে যেতে পারে। এর ফল হবে সুদূরপ্রসারী। এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জানাশোনার দিক থেকে যে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে তা সারাজীবনেও তারা ঘুচাতে পারবে না। পরে শত চেষ্টা করেও এই ব্যবধান আর পূরণ করা সম্ভব হবে না। চরম ক্ষতির মুখে পড়বে আমাদের জাতি ও দেশ। একটি সহযোগী দৈনিককে শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এখনো এগুলো খুলে দেয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।
একজন শিক্ষাবিদ দৈনিকটিকে বলেছেন, শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। দেশের ভবিষ্যৎ পিছিয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পরিবেশ আছে। দ্রুত এগুলো খুলে দেয়া উচিত। তিনি মনে করেন, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দেয়া উচিত। কিন্তু মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কোনো স্তরে শিক্ষা খাতে ক্ষতির বিষয় নিয়ে আলোচনা নেই। বরং আন্দোলনে নাশকতার বিষয়টি বড় করে তুলে দৃশ্যত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে মোটেও অনুকূল নয়। আন্দোলনকারীরা ৯ দফা দাবি দিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে। এ নিয়ে সরকারের তরফে কোনো সাড়া দেয়া হয়নি। উল্টো, আন্দোলনের তিন সমন্বয়কারীকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এটি কারো জন্য কোনোভাবেই কল্যাণ বয়ে আনবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি সুচিন্তিত হস্তক্ষেপের দাবি রাখে। অন্যথায় ফের বড় ভুল হবে বলে মনে হয়।

ফুলতলা ও দাকোপ উপজেলায় আ. লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার ফুলতলা ও দাকোপ উপজেলায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর এখন এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।

ফুলতলা উপজেলায় ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দাকোপ উপজেলায় নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপে বিভক্ত।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র চন্দ গত ৬ জুলাই ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন। কিন্তু ওই সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন ও তার অনুসারীদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল হাজরাসহ মন্ত্রীর অনুসারী নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনে নারায়ন চন্দ্র চন্দ নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর আকরাম হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী ও তার অনুসারীরা আকরামের বিরোধিতা করেছিলেন।

মূলত এ দুটি নির্বাচনের পর এখন দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড করছেন। দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ভূমিমন্ত্রীর পক্ষে রয়েছেন ফুলতলার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বি এম এ সালাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তারিক হাসান মিন্টু, জেলা সদস্য বিলকিস আক্তার ধারা, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মৃণাল হাজরা, জামিরা ইউনিয়ন সভাপতি শাহাদাত হোসেন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শাহাবাজ মোল্লা, ফুলতলা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মোল্লা হেদায়েত হোসেন লিটু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মঈনুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

উপজেলা চেয়ারম্যানের গ্রুপে রয়েছেন এই উপজেলার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. আসলাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আশরাফ হোসেন আশু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের রিপন, দামোদর ইউনিয়ন সভাপতি ঈসমাইল হোসেন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা সাইদুল ইসলাম, ফুলতলা ইউনিয়ন সভাপতি আলী আজম মোহন, মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শামসুন্নাহার, সদস্য সচিব শাপলা সুলতানা লিলি, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস কে সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল হাজরা বলেন, শেখ আকরাম হোসেন ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর ৩ বার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি সবসময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরোধিতা এবং নিজস্ব বলয় তৈরি করে চলেছেন। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন। তিনি ও তার অনুসারীরা দলকে ঐক্যবদ্ধ চান না।

তবে শেখ আকরাম হোসেন বলেন, গত ৬ জুলাইয়ের সভায় আমাকে ডাকা হয়নি। মন্ত্রী তার পক্ষের লোকজনকে ডেকে সভা করেছেন। তারা সবসময় আমাদেরকে বাদ দিয়ে সবকিছু করেন। দলের নেতা-কর্মীদের আমি বিভক্ত করিনি, বরং তারাই দলকে বিভক্ত করে রেখেছেন।

দাকোপ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে উপজেলা কমিটির সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপে প্রকাশ্যেই বিভক্ত। গত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ননী গোপালের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন না আবুল হোসেনের অনুসারীরা। আবার উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্য ননী গোপাল উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেনকে সমর্থন দেননি। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগের সদস্য সাইফুল ইসলাম গাজীকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন।

মূলত উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে দাকোপে দলের মধ্যে বিভক্তি বেড়েছে। এখন সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান কেউ কারও অনুষ্ঠানে যান না। বরং আলাদা অনুষ্ঠানে একে অপরকে ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেন।

সংসদ সদস্য ননী গোপালের নেতৃত্বাধীন গ্রুপে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসিত বরণ সাহা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম কামরুজ্জামান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিহির মণ্ডল, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মানস মুকুল রায়, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জালাল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন সরদার প্রমুখ।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ রায়, সাবেক সহ-সভাপতি দীপংকর রায়, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের ও পঞ্চানন মণ্ডল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম রুহুল আমিন, ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির, ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব কুমার রায়, কৃষক লীগের সভাপতি শেখ গোলাম হোসেন, শ্রমিক লীগের সভাপতি গোবিন্দ বিশ্বাস, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গৌরপদ বাছাড়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জি এম রেজা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শরীফ প্রমুখ।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, নেতা কেন্দ্রিক বিভক্তি শুধু দাকোপে নয়, আরও অনেক জায়গাতেই আছে। তবে এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না বলে দাবি তার।
উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন বলেন, আমি দলের সবাইকে নিয়ে নেতৃত্ব দেই। দলের মধ্যে ছোটখাট মতপার্থক্য আছে, এটা সবখানেই থাকে। ব্যাপক কোনো কোন্দল নেই।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের ২ মাস পরও উপকূলে হাহাকার
স্টাফ রিপোর্টার
ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের দুই মাস পার হলেও খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলজুড়ে চলছে হাহাকার। কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপসহ খুলনা অঞ্চলের উপকূলজুড়ে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। চারদিক লবণ পানিতে সয়লাব হওয়ায় সুপেয় পানির জন্য বৃষ্টিই ভরসা। কিন্তু বর্ষা মৌসুমেও নেই প্রত্যাশিত বৃষ্টি। পানিবন্দি হওয়ার কারণে শিশুদের খেলার মতো জায়গাও নেই। নেই নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাও। খোলা জায়গা ও নদীর তীরে মল ত্যাগের ফলে পরিবেশ আরও দূষিত হয়ে উঠছে। শিশু ও গর্ভবতী নারীরা পুষ্টি সংকটে ভুগতে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, পুষ্টিকর খাদ্য সংকট আছে। কিন্তু তার প্রভাব এখনও দেখা যাচ্ছে না। রিমালের আঘাতের দুই মাসেও স্বাভাবিক হতে পারেনি খুলনার উপকূলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় চার লাখ মানুষ।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের তেলিখালী গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, রিমালের আঘাতে বসত ঘর, গোয়াল ঘর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গৃহপালিত পশু পাখিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৪টি হাঁস ও ৭টি মুরগি ছিল। যার সহায়তায় বছরে ১০-১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত হতো। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চলতো। রিমালে আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন টানাপোড়েন চলছে। সরকারি বেসরকারি সহায়তা পেলেও ৩০ হাজার টাকা লোন করতে হয়েছে। এর কিস্তি পরিশোধে চাপ রয়েছে। লোনায় সয়লাব সব, এখন দিনের আয় দিনে নিশ্চিত করতে কষ্ট করতে হচ্ছে। কিন্তু দিনের প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লোনের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হচ্ছে। এসএসসিতে ভালো ফলাফল করার পরও মেয়েকে শহরের ভালো কলেজে ভর্তি করাতে পারিনি। অর্থাভাবে তাকে গ্রামের কলেজেই রাখতে হয়েছে।

তেলিখালির পিয়া বেগম জানান, স্বামীর আয়ের পাশাপাশি ২০টি হাঁস ও ১৫টি মুরগি পালনের মাধ্যমে বার্ষিক একটা বড় সাপোর্ট হতো। এখন রিমালের আঘাতে সব শেষ। ঋণ করে ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও সংসার চালাতে পারছেন না। ২ ছেলে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। হাঁস মুরগি দিয়ে পুষ্টি চাহিদা মেটাতো। এখন লবণের কারণে খাবারই পাওয়া যাচ্ছে না, পুষ্টি নিয়ে চিন্তা করাই কঠিন।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ হাসান তেলিখালির ভাঙা বাঁধ দেখিয়ে বলে, এই বাঁধ ভেঙে এই এলাকা লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এই জমিতে খেলতাম। কিন্তু এখন খেলার জায়গা নেই। খাবার পানিরও সংকট। লবণ পানিতে সমস্যা হয়। ফুলবাড়ি বাজার থেকে পানি কিনে আনতে হয়।

তেলিখালির নিবাসী সাইফুল বিশ্বাস জানান, তিন বিঘা জমিতে মাছ চাষ ও ফসল চাষাবাদ করে ভালোই কাটছিল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতেও নিজের ঘেরের মাছ, জমির সবজিতে কোনোভাবে দিন পার করছিলেন। কিন্তু প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল তার সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গোটা জমিতে এখন লবণের আগ্রাসন। তেলিখালীর এই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ভেসে যায় ঘেরের মাছ, নষ্ট হয় ফসল ও সবজির ক্ষেত। রিং বাঁধ তৈরি করে নোনা পানি প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা চললেও কৃষিপ্রধান এলাকার কৃষকরা সর্বস্বান্ত হন।

ক্ষতিগ্রস্ত তেলিখালীর মোস্তফা গাজী ও জাহানারা বেগম দম্পতি গত ১২ জুলাই নতুনভাবে ঘর তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। জাহানারা বেগম বলেন, এক ঝড়ে দেড় লাখ টাকা ঋণ করতে হল। সরকারি-বেসরকারিভাবে কিছু টিন ও টাকা পেয়েছি। আগের ঘরটি ভালোই ছিল। ফসল-মাছ কিছুই নেই।

ফুলবাগী বাজার এলাকার আব্দুর রশিদ শেখ (৫২) বলেন, রিমালে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বাচ্চাদের একটু মাছ মুখে দেব তা-ও পারতেছি না। লবণের কারণে একটা সবজির চারাও হচ্ছে না।

গোপী পাগলা শ্মশানঘাট এলাকার সালমা বিশ্বাস ও ইউসুফ বিশ্বাস বলেন, দেলুটি ইউনিয়নজুড়ে খাবার পানির কষ্ট। বৃষ্টি হলে কয়দিন চলে। ঝড়ে সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। আমাদের এখন না খেয়ে মরার অবস্থা।

বিগরদানা গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া (৪৩) বলেন, দেলুটির সব বাড়ি ও ক্ষেতে শাক-সবজিসহ অন্য ফসল হতো। রিমালের তাণ্ডবে তেলিখালীসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। নোনা পানি আর ঝড়ে সব কিছু নষ্ট হয়েছে। এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে কষ্ট করতে হচ্ছে। শেষ রক্ষা হবে কি না জানি না। কারণ চেষ্টা করেও আগাতে পারছি না।

পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রামচন্দ্র টিকাদার বলেন, ঝড়ে আমার মাছের খামার, ফসল সব শেষ। আগামীতে পরিবার নিয়ে কেমনে বাঁচব জানি না। আগের মৌসুমে এখানে তরমুজ চাষে পাঁচ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এবার নোনা পানিতে জমি নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। দুর্গম এলাকা, রাস্তাঘাটও ভালো না।

ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম খুলনার সভাপতি ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ইউআরপি ডিসিপ্লিনের প্রধান ড. তুষার কান্তি রায় বলেন, যেকোনো দুর্যোগে ভুক্তভোগীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি তাদের জীবন-জীবিকাকে পাল্টে দেয়। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রথমে টেকসই অবকাঠামো প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠী। এসব ক্ষতি মোকাবিলায় বিদ্যমান রূপরেখা, নীতির বাস্তবায়ন করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে খুলনার ৬৮টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ড কমবেশি ক্ষতির শিকার হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ৭৬ হাজার ৯০৪টি। ৫৫টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙেছে ও উপচে পানি ঢুকেছে। ১২ হাজার ৭১৫.৫ হেক্টর জমির ফসল, পাঁচ হাজার ৫৭৫টি মাছের ও চিংড়ি ঘের, তিন হাজার ৩০০ পুকুর ভেসে গেছে। আর দুর্গত মানুষের সংখ্যা চার লাখ ৫২ হাজার ২০০ জন।

জোয়ারের পানিতে ডুবছে ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক
মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ফেরির পূর্বপাশের পন্টুন সংযোগ সড়ক ডুবে গেছে। শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরের জোয়ারে পানগুছি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সংযোগ সড়কটি ডুবে যায়। ২ ঘণ্টার বেশি সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে সড়কটি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দিনগত রাত ১টার দিকের জোয়ারেও একইভাবে ডুবে যায় সংযোগ সড়কটি। গেল চারদিন ধরে জোয়ারে ডুবছে ফেরির সংযোগ সড়ক। এতে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অতি দ্রুত সংযোগ সড়কটি উঁচু করে ভোগান্তির নিরসন করার দাবি জানিয়েছেন যানবাহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউনুস শেখ নামের এক পিকআপ চালক বলেন, ‘জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক ডুবে যায়। ফেরিতে উঠতে যেয়ে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। লবণ পানিতে গাড়ির ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়।’ বুলু নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘গেল চারদিন ধরে প্রতি জোয়ারে দুই তিন ঘণ্টা ধরে পানিতে নিমজ্জিত থাকছে সংযোগ সড়কটি। ফেরি পারাপারে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে, অনেক সময় পানিতে ভিজে যেতে হয়। আর খানাখন্দের মধ্যেও পড়তে হয় আমাদের। অতিদ্রুত এটা ঠিল করা দরকার।’

আবু রাজ্জাক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই ডোবে ফেরির সংযোগ সড়ক। আসলে এর একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। আর কতদিন মানুষ ভুগবে। যেভাবে হোক ফেরি চলাচল, ফেরিতে মানুষ ওঠানামা ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হবে।’

এদিকে সড়ক বিভাগ বলছে, নদীতে সব সময় একই পরিমাণের পানি থাকে না, কখনও অনেক বেশি, আবার কখনও অনেক কম পানি থাকে নদীতে। যার কারণে ও সংযোগ সড়ক বেশি উঁচু করা যায় না।
সড়ক বিভাগ, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘জোয়ারের পানির বিষয়টি মাথায় রেখে সংযোগ সড়ক যদি অনেক উঁচু করা হয়, তাহলে ভাটার সময় পন্টুনে যানবাহন ও পথচারীদের ওঠানামায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। জোয়ার ও ভাটা দুটি বিষয় মাথায় রেখে সংযোগ সড়ক ও পন্টুন করতে হয়। জোয়ার ও ভাটার কারিগরি বিষয় মাথায় রেখে সংযোগ সড়কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে যে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মোঃ আতিকুজ্জামান, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টায় এ্যাসোসিয়েশনের পলাশপোলস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এস এম মহিদার রহমানের সভাপতিতে এবং এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ তৌফিকুজ্জামান লিটু’র সঞ্চালনায় সভায় পূর্ববর্তী সভার রেজুলেশন পাঠ ও অনুমোদন, সকল উপজেলা কমিটি গঠন, এ্যাসোসিশেয়নের নিজস্ব প্রেস জ্যাকেট ও ফেস্টুন, আয়-ব্যয় হিসাব প্রসঙ্গ, নতুন সদস্য অন্তভর্ূূক্তিসহ বিবিধ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক অনির্বাণ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি জি এম সোহরাব হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক দেশের কন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শহিদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাফেজ মোঃ আবুল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আতিকুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক ও দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আবীর হোসেন লিয়ন, কার্যকরী সদস্য দৈনিক আজকের জনবানী পত্রিকার শ্যামনগর প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান লিটন, দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি শেখ আব্দুল আলিম, দৈনিক বাংলাদেশ নিউজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুস সামাদ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটির সদস্য দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার আশাশুনি প্রতিনিধি জি এম মুজিবর রহমান, দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আমিরুল ইসলাম, দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এস এম রজব আলী, দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ কামাল উদ্দীন সরদার, সাপ্তাহিক নির্ভীক সংবাদ পত্রিকার সহ-সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান, দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার মোঃ অহিদুজ্জামান, দৈনিক মানবতার কন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ শফিকুল ইসলাম, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ হাফিজুর রহমান, দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল মতিন, দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি শেখ মখফুর রহমান জান্টু, দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার এস এম হায়দার আলি, দৈনিক আজকের জনবানী পত্রিকার ব্যুরো চিফ মোঃ আতিয়ার রহমান, সাপ্তাহিক পাক্ষিক নির্ভীক পত্রিকার মোঃ জাকির হোসেন জনি, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার জি এম মনিরুজ্জামান, দৈনিক সত্যকন্ঠ পত্রিকার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার শ্যামনগর প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল্যাহ গাজী প্রমুখ।