Home আঞ্চলিক রূপসায় নৌকা মাঝি সংঘের পুনঃ নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

রূপসায় নৌকা মাঝি সংঘের পুনঃ নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

45

স্টাফ রিপোর্টার
পূর্ব ও পশ্চিম রূপসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা মাঝি সংঘ (রেজি নং-২৬৮) এর শ্রমিকরা পূনঃ নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৫টায় রূপসা প্রেসক্লাব অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি প্রার্থী রেজা মাহমুদ বেপারি এর ছেলে ফয়সাল মাহামুদ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রয়ারী ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার ভিতর দিয়ে অনুষ্ঠিত হল আমাদের প্রাণের সংগঠন পূর্ব-পশ্চিম রূপসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা মাঝি সংঘ এর ত্রি-বাষিক নিবাচন। নির্বাচন পরবর্তী নির্বাচন কমিশনারের নানা তালবাহানার কারনে ফলাফল ঘোষনা স্থগিত হয়ে যায়। এর পরপর নানা রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশনার আজ অবধি আমাদের নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারনে আমরা সকলে হতাশ হয়ে আপনাদের মাধ্যমে আমরা পূনরাই নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সভাপতি প্রার্থী রেজা ব্যাপারী ছাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছে।

১৭৬ ভোটের মধ্যে গননায় পেয়েছে ৯৩ ভোট তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হালিম গাভী মার্কা নিয়ে ৮২ ভোট পায়। কিছুক্ষণের মধ্যে ভোটের রেজাল্ট পাল্টে যায়। আমরা টাকা জমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করে ব্যালট পেপার দেখতে চাইলে নিবাচন কমিশনার ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল ব্যালট পেপার দেখাতে ব্যর্থ হন। আমরা আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় এমপি মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে পূন:নির্বাচনের দাবি করছি।

অভিযোগে হারেজ শেখ সধারণ সম্পাদক প্রার্থী জনান, নির্বাচন কমিশনারের ঘোষিত ফলাফলে আমি পাই ৮৮ ভোট অপর প্রার্থী সাহাদাত পায় ৮৫ ভোট। ৩ ভোট পচা, এই হলো ১৭৬ ভোট। নিশ্চিত বিজয়ের ঘোষনা শুনে নির্বাচন কমিশনারের অনুরোধে মিষ্টি আনতে যাই। মিষ্টি এনে শুনতে পাই ভোটের ফলাফল পাল্টে গেছে। তখন আমি চ্যালেঞ্জ করে ব্যালট পেপার দেখতে চাই। তখনই শুরু হয় নির্বাচন কমিনারের তালবাহানা। আমরা আপনাদের মাধ্যমে এমপি মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট অবিলম্বে পূন:নির্বাচনের দাবি করছি।

সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী রোকন হাওলাদার জানান, ফলাফল ঘোষানার এক পর্যায়ে আমি হাতি মার্কা নিয়ে পেয়েছি ৩৭ ভোট অপর প্রার্থী গোলাপ মার্কা নিয়ে ২২ ভোট ঘোষনার সাথে সাথে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল জানতে পারলাম না। যে কারনে আমরা আপনাদের মাধ্যমে পূন:নির্বাচনের জন্য এমপি সাহেবের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী রোকন হাওলাদারের বোন শাহিনুর আক্তার টুনটুনি আমার ভায়ের এজেন্ট হিসাবে ভোটকেন্দ্রে সারাদিন উপস্থিত থেকে নিবাচন কমিশনারের নানা রকম অপতৎপরতা পক্ষপাত মূলক আচরণ আমার দৃষ্টিগোচর হয়। আমি এই ঘটনার তিব্র প্রতিবাদ জানাই। আর তখনই ঘটে যত বিপত্তি। শুরু হয় মরার উপর খাড়ার ঘা। আপনারা অবগত আছেন য়ে আমাদের প্রতিটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় মাঝিপাড়া এলাকায়।

এবারই তার ব্যতিক্রম ঘটে। অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার আমাদের সেই নিবাচনকে নিয়ে যায় রূপসা রেলমাঠে। নির্বাচন পরবর্তীতে ভোটের ফলাফল না পেয়ে আমরা চলে যায় এমপি’র খুলনাস্থ কার্যালয়ে।

আমি সবার পক্ষ থেকে এমপি সাহেবকে অভিযোগ গুলো জানাই। তিনি সবকিছু শুনে পূনরাই নির্বাচন দেবেন বলে আমাদের আশ্বস্থ করেন। আমরা এমপি সাহেবের আশ্বাস পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসি। তারপর আজ থেকে ৭ দিন অতিবাহিত হলেও নির্বচনের কোন ব্যবস্থা না হওায়ায় আমরা হতাশ জীবন-যাপন করছি। যে কারনে আমরা সম্মিলিত ভাবে আপনাদের স্মরণাপন্ন হয়ে পূনরাই একটি সুষ্ঠ অবাধ ও নিরপেক্ষ নিবাচন অনুষ্ঠানের জন্য এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ-সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রেজা মাহামুদ ব্যাপারী, আইুব আলী ফকির, শামিম বেপারি, রোকন হাওলাদার, আমীর হোসেন, শাহ আলম ফকির, শফিক বেপারি, শাহিনুর আক্তার টুনটনি, সেলিম ব্যাপারী, রানা বেপারি সহ ইউনিয়নের অন্যান্য সদ্যবৃন্দ।