অনলাইন ডেস্ক ।।
যুদ্ধের প্রায় দুই বছরের মাথায় অর্থ ও অস্ত্রের সংকটে পড়া ইউক্রেনকে সহায়তায় এবার রাশিয়ার সম্পদের দিকে চোখ ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। পশ্চিমা এসব দেশে গচ্ছিত রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী এসব বৈদেশিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকলেও তা বাজেয়াপ্তের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে ওয়াশিংটন। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট এল. ইয়েলেন বলেছেন, কংগ্রেসের পদক্ষেপ ছাড়া তহবিল জব্দ করা যুক্তরাষ্ট্রে আইনত বৈধ নয়। এ ছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে অর্থ জব্দ করার নজির সৃষ্টি করলে বিশ্বের অনেক দেশই তাদের তহবিল নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে বা ডলারে রাখতে চাইবে না।
বাইডেন প্রশাসন জি৭ দেশগুলোর সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে কর্তৃত্ব দেওয়া কিংবা তহবিল ব্যবহার করার জন্য কংগ্রেসের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত কিনা– এ নিয়েও কাজ শুরু করেছে। এ ধরনের আইন পাসের জন্য কংগ্রেসে সমর্থনও তৈরি করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ সম্পদ বাজেয়াপ্তের কর্তৃত্ব পাওয়ার বিষয়ে আশান্বিত করছে বাইডেন প্রশাসনকে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়েছে অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকার, কূটনীতিক এবং আইনজীবীদের মধ্যে। কর্মকর্তারা বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং জাপানকে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি কৌশল উপস্থাপনের জন্য চাপ দিচ্ছে। সেদিন রুশ হামলার দুই বছর পূর্তি হবে।
আলোচনায় থাকা এই বিপুল রুশ সম্পদ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মস্কোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইউক্রেনে হামলার পর নিষেধাজ্ঞার জেরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং জাপানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রিজার্ভের নিয়ন্ত্রণ হারায় মস্কো।
সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কভাবে আইনি বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হবে। বাইডেন এখনও কৌশলপত্রে সই করেননি। নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে, অর্থ সরাসরি ইউক্রেনে পাঠানো হবে, নাকি অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা হবে।
এই তহবিল কোন কোন খাতে ব্যয় করতে পারবে ইউক্রেন, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে সহায়তার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় এসব আলোচনা এখন আরও জরুরি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এর আগে জানায়, বাইডেন প্রশাসন মনে করে রাশিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কার্যকর।
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, রুশ সম্পদই এখন তহবিলের বিকল্প উৎস।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হুভার ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ফিলিপ জেলিকো বলেছেন, অন্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাছ থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা নজিরবিহীন ঘটনা হবে। প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এটি করা হলে মামলা এবং প্রতিশোধের পথে এগোবে রাশিয়া।
এরই মধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত শুরু করেছে। জার্মানি চলতি সপ্তাহে রাশিয়ান আর্থিক সংস্থার ফ্রাঙ্কফুর্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৭৯ কোটি ডলার জব্দ করেছে।
ধারণা করা হয়, রুশ সম্পদের খুব কম পরিমাণই আছে যুক্তরাষ্ট্রে। এটা সম্ভবত ৫০০ কোটি ডলার হবে। তবে রাশিয়ার বৈদেশিক রিজার্ভের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে মার্কিন ডলারে রয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার আমানতের সিংহভাগ সুইজারল্যান্ড এবং বেলজিয়ামসহ ইউরোপে রয়েছে। সেসব দেশ জি৭-এর সদস্য নয়। ফলে কীভাবে সেই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়, তা নিয়েও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এসব দেশে থাকা রিজার্ভ ইউরো এবং অন্য মুদ্রায় রাখা হয়েছে।










































