Home আঞ্চলিক খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের শারিরিক ও মানুষিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্দোলনে

খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের শারিরিক ও মানুষিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্দোলনে

13

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি।।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ শিক্ষার্থীরা আর এই শিক্ষার্থীরা যখন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে তখন বুঝতে বাকি থাকে না প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে দূনীতি-অনিময়, অসমাজিক কার্যক্রম, অধিনস্থ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শারিরিক ও মানুষিকভাবে নির্যাতিত ও লাঞ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানের সরকারি সম্পদ নষ্ট সব মিলিয়ে বিষ্ফরণ আকার ধারণ করে অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবীতে আন্দোলনে শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী। আর এ সকল অভিযোগ খুলনার তেলিগাতী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম কর্তৃক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শারিরিক ও মানুষিকভাবে লাঞ্চিত, তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দূনীতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম সরবারহ না করায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চাপা ক্ষোভ থেকে গতকাল ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ঘটে যায় এ অনাকাংখিত ঘটনা।

খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে একে পর এক ঘটনা-দূর্ঘটনার জন্ম দিয়েই চলেছে। অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম নিজেকে বিশেষ একটি জেলার এবং বিশেষ ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার দাপটে সকল অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে যা ইচ্ছা তাই করে আসছে। তার দুর্ণীতি-অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে যারাই প্রতিবাদ বা মুখ খুলেছে তাদের উপর চলে শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন। এমনটি বলেছে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচার ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের একাধিক সুত্র জানিয়েছে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ১৯৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেকু দিয়ে ফেলে কিছু গাছ বিক্রয়ের অভিযোগের তদন্ত কমিটির প্রধান দিঘলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভুমি) মোঃ জাকির হোসেন ৬ ডিসেম্বর বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্ত কমিটির নিকট ছাপাই স্বাক্ষ দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ কিছু অনুসারিদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজন করেন ভূরিভোজের। ভোজের তালিকায় সিনিয়র শিক্ষকদের নাম না থাকায় ঘটনার সুত্রপাত। বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলাম কর্তৃক শারিরিক ও মানুষিকভাবে নির্যাতিতসহ প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণার্থী ক্লাস বর্জন করে অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন করে চলে অবস্থান কর্মসুচি।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা জানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূনীর্তি-অনিয়ম, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় কাচামালসহ প্রয়োজনীয় টুলস্ না দিয়ে তাদের নিজেদের টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো, প্রশিক্ষণার্থীদের কাচামালের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রতিষ্ঠানের টাকা খরচ করে প্রতিনিয়ত ভূরিভোজ এবং অধ্যক্ষ কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী শারিরিক ও মানুষিকভাবে লঞ্চিত করায় তাদের এ আন্দোলন। তারা বলেন খুলনার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীরা জানায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে অপসারণের জন্য গণস্বক্ষরকৃত একটি রেজুলেশন ডিজি বরাবর দেওয়া হচ্ছে। তারা আশা করছে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে প্রতিষ্ঠানসহ এলাকাবাসীর দাবী পুরণ করবে
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থী রাকিবুল ইসলাম জানায়, অধ্যক্ষের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরিন ব্যপার। আমরা প্রশিক্ষণার্থীরা এখানে প্রশিক্ষনের জন্য আসি। সেই প্রশিক্ষনের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ না করে যখন শুনি প্রতিনিয়ত ভিতরের এবং বাহিরের গেষ্টদের নিয়ে ভুরিভোজ করে। অথচ আমাদের প্রশিক্ষণের জন্য কাঁচামালসহ অন্যন্যা সরঞ্জাম আমাদের টাকা দিয়ে কিনে আমাদেরকে প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে।
উৎভুত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায় আমি অফিসের কাজে বাহিরে আছি আমি কিছুই জানিনা। তার বিরুদ্ধে উঠে আসা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যা কিছুই শুনেছেন সব কিছুই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এছাড়াও অধ্যক্ষ কাজী বরকতুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের সরকারি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মঈনুল ইসলামকে অকর্থ্যভাষায় গালিগালাজ করে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি প্রদানে গত ৩/১০/২০২৩ তারিখে খুলনা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ‘‘ক’’ অঞ্চলে মামলা করেন কাজী মঈনুল ইসলাম। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার ড্রাইভার আমিনুল সরদারকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ ও শারিরিকভাবে লঞ্চিত করা, গাড়ীর কাজ না করিয়ে ভাউচার করে সমন্বয় করার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানের ড্রাইভার আমিনুল সরদার।

২নং ওয়ার্ডের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সাথে মতবিনিময়

খুলনা-৩ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন কেসিসি ২নং ওয়ার্ডের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি ওয়ার্ডের ২২টি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তিনি কেসিসি ২নং ওয়ার্ডের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কবর জিয়ারত করেন। এছাড়া তিনি মুন্সিবাড়ী কবরস্থান, চৌধুরী বাড়ী কবরস্থান, মীরবাড়ী কবরস্থান, মোল্যাবাড়ী কবরস্থান, শেখ বাড়ী কবরস্থানসহ বিভিন্ন কবরস্থান জিয়ারত করে দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি রংমিল জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে ওয়ার্ডের ২২টি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী, খানজহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিছুর রহমান, মহানগর আ’লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, কেসিসি ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান মুকুল, থানা আ’লীগ নেতা আঃ জলিল হাওলাদার, সুরুজ্জামান হানিফ, মনির শিকদার, শেখ কামাল আহমেদ, মো. সেলিম রেজা, সায়েদুর রহমান, হাবিবুর রহমান, মোঃ শাকিল আহমেদ, থানা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমান রুপম, ওলিয়ার রহমান রাজু, ৬রং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ প্রিন্স, সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ টুকু, সাইফুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক, মুন্সি জহুরুল হক, মহানগর স্বেচ্চাসেবকলীগ নেতা মোঃ ফয়সাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম রাসেল, কেসিসি ২নংওয়ার্ডে মুন্সি সিরাজুল হক, মুন্সি আঃ কাদের, আ’লীগ নেতা লিয়াকত মুন্সি, মোঃ বক্কার, মোঃ গফুর ফকির, ডাঃ মারুফ, আবু নাঈম, কামরুজ্জামান, মুক্তা বেগম, নার্গিস খানম, নাছির উদ্দিন, আঃ আওয়াল, কামাল মুন্সি, মোহন মুন্সি, মনির হোসেন দারা, মাসুদ পারভেজ সোহেল, পারভেজ আলম, নীলা নাসির, পারভীন, সেলিনা আক্তার, পাশা চৌধুরী, রাব্বি শিকদার, মনিরুল ইসলাম মানো, ছাত্রলীগ নেতা শেখ সুমন, মেহেদী, জাহিদ মোল্যা, মিলন, শেখ সোহেল, আলামিন, জাহিদুর রহমান, সাইমন তুষারসহ খানজাহান আলী থানা, কেসিনি ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিল। সকাল ১১টায় তিনি এ্যাযাক্রা জুট মিলের শ্রমিক আলী হোসেনের স্ত্রীর জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি সকাল সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ীগেট আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।