শামীম খান জনী,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
শীত মৌসুম আসলেই অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠে ইট ভাটা। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় এসব ইটভাটা। এসব ইটভাটায় জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন গাছের কাঠ। প্রায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার মন কাঠ পোড়ানো হয়। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে,তেমনি নষ্ট হচ্ছে আবাদী জমি, উজার হচ্ছে গাছ পালা,ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রকৃতি। তবে সচেতন মহল বলছে প্রশাসন ,প্ররিবেশ অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কোন অভিযানও চোখে পড়ে না। ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপট ছাড়াও বিশেল ব্যবস্থায় এসব ইটভাটা চলছে বলে মন্তব্য করছেন তারা।
তথ্যমতে মহেশপুর উপজেলায় ২৫/৩০ টি ইটভাটা রয়েছে। যার একটির অনুমোদন থাকলেও বাকি গুলোর কোন অনুমোদন নেই। প্রভাবশালী রাজনীতিকরা প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়ে ক্ষমতার জোরে ইটভাটা তৈরি করছে। সচেতন মহলের অভিযোগ,যেখানে সেখানে ইটভাটা তৈরী হওয়ায় আবাদী জমি গুলো নষ্ঠ হচ্ছে।একটি ইটভাটা তৈরি করতে কমপক্ষে ৪/৫ একর জমির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মাটির প্রয়োজন হলে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে আবাদী জমির উপরের এক থেকে দেড়ফুট মাটি কেটে ইট তৈরী করে।
এতে ফসলী জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়। শুধু তাই নয় ইটভাটার নির্গত কালো ধোয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট ও আবাদি জমির ফসল নষ্ঠ হচ্ছে। ইটভাটার অনুমতিপত্রের শর্তনুযায়ী কয়লা ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। বিশেষ করে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ছাড়াও বাঁশের মোথা ব্যবহারের ফলে বাঁশঝার উজার হচ্ছে।
ইটপোড়ানো নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সনের ১৭নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে আবাদি জমিতে কোন ইটভাটা তৈরী করা যাবে না।এছাড়াও কাঠ পােড়ানো যাবে না। অথচ সকল ইটভাটায় কয়লার বদলে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসন লোকজন জরিমানা আদায় করলেও ইটভাটা বন্ধ করে না। ফলে প্রভাবশালীরা প্রতি বছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরী করছে।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কের মেডিকেল অফিসার হাবিব জানান, ইটভাটার নির্গত কালো ধোয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট,হাপানী,ক্যান্সারসহ নান রোগের সৃষ্টি হয়। তাছারা অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্রাইডের কারণে ফসল ও এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। অনতি বিলস্বে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক পদক্ষে জরুরি। এদিকে অনুমোদন বিহীন ইটভাটা গুলো চালু হলেও অদ্যবদি ,প্রশাসন ,পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার কোন অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতি বছর ইটভাটা মালিক পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করেন মালিক সমিতি। এ টাকা দিয়েই সব দপ্তরকে ম্যানেজ করতে হয়।
ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান জানান,জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে কিন্তু অনুমোদন মেলেনি। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই ইটভাটা গুলো চালানো হয় বলে জানান তিনি। ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মনতাসীর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে তার ব্যবহিত মোবাইল ফোনে একাদিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।









































