বিশেষ প্রতিনিধি ॥
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে। উভয় পক্ষ স্থানীয় চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলার অনুসারী।
আহতরা হলেন- উপজেলার সড়াবাড়িয়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, ইউপি সদস্য চান্নু হোসেন, ইদ্রিস খাঁ, ইউনুস খাঁ, কামরুল বিশ^াস, ওহাব বিশ^াস, রিয়াজুল বিশ^াস ও আলী আহমদ। এদের মধ্যে ইউপি সদস্য চান্নু হোসেন, ইদ্রিস খাঁসহ ৪ জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আহম্মদ আলী ও ইউপি সদস্য চান্নুর সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে আলী আহমদের দুই সমর্থককে মারধর করে ইউপি সদস্য চান্নুর লোকজন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে চান্নু মেম্বরের লোকজনকে প্রতিহত করতে আসে প্রতিপক্ষরা। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের আহত হন অন্তত ১০ জন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নিয়ে যায়।
হামলায় আহত আলী আহমদ জানান, ইউপি সদস্য চান্নু তাকে মারধর করেছে। ইউপি সদস্য চান্নু প্রতিবন্ধী কার্ড করা নিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যকে চান্নুকে ডেকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে। এরপর থেকে মেম্বর গ্রুপিং করছে। এই গ্রুপিং করার কারণে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
ইউপি সদস্য চান্নুর সমর্থক ইউনুস খাঁ জানান, তারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাথে মিশে এখন চলে যাচ্ছে বিএনপিতে। এখন তারা বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে যাচ্ছে সেই কথা বলতে গিয়েছিলাম। এজন্য তাদের উপর হামলা করেছে।
কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, ইউপি সদস্য চান্নু রামচন্দ্রপুর বাজারে দুইজনকে মারধর করে। এরই সুত্র ধরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত। উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। আপাতত এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।










































