মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
মোংলায় ঢাকাইয়া ঘের নামের সাড়ে ৩শ বিঘার চিংড়ি ঘের নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮আগষ্ট অনুষ্ঠিত এক শোক সমাবেশে উপজেলার সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারদারের এক বক্তব্যে এ অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকাইয়া চিংড়ি ঘের ও একই এলাকার শুক্কুর শেখের চিংড়ি ঘের উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার ভাইপোরা জোরপূর্বক দখল করে খাচ্ছেন। এনিয়ে স্থানীয় সমবায় ভিত্তিক ঘের মালিক ও আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিবেধের সৃষ্টি হয়। এই বিবেধকে ঘিরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ঢাকাইয়া চিংড়ি ঘেরে গিয়ে দেখা যায়, যার যার জমি সেই সেই সমবায় ভিত্তিতে তারা ঘের করছেন। ৪৬জন অংশীদার সমবায় ভিত্তিতে এ ঘেরে চিংড়ি চাষ করছেন। এ সময় কথা হয় ঢাকাইয়া ঘেরের চিংড়ি চাষী বরিশালের বাসিন্দা মিজান খাঁনের সাথে। তিনি বলেন, এই ঘেরে তার ১শ বিঘা জমি রয়েছে। এছাড়া ঘেরটিতে স্থানীয় বাসিন্দা খবির আলী শেখের ১২বিঘা, টিপু হাওলাদারের ২৬বিঘা, আলতাফ হোসেনের ৮বিঘা, আব্দুল হাইয়ের ৩০বিঘা, অশিনি মন্ডলের ১৫বিঘা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদের ১৬বিঘাসহ ৪৬ জনের সাড়ে ৩শ বিঘা জমি রয়েছে। তারা দীর্ঘ ২০বছর ধরে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে এ সমবায় চিংড়ি ঘের করে আসছেন। আর ঘেরটি পরিচালনা করছেন মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল।
জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উৎপল কুমার মন্ডল বলেন, ২০বছর ধরে সমবায় ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে এই ঘেরটি করা হচ্ছে। এখানে জোর জবর করে এককভাবে করার কোন সুযোগ নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ও তার ভাইপো টিপু ও প্রিন্সরা জোরপূর্বক ঘের খাচ্ছে, এ কথার কোন ভিত্তি নেই। সুন্দরবন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে গিয়ে তাদের জড়িয়ে যে কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত। এতে দলে বিবেধ সৃষ্টি হবে।
চিংড়ি ঘেরের অংশীদার সুখরঞ্জন, আব্দুল হাই ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এই চিংড়ি ঘেরটি মিঠাখালী ইউনিয়নের মধ্যে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদারের বাড়ী সোনাইলতলা ইউনিয়নে। তার তো এখানে আসার প্রশ্নই ওঠেনা এবং তাকে আমরা কখনো এখানে আসতেও দেখিনি। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আরও সচেতন হয়ে বক্তব্য দেয়া উচিত উল্লেখ করে তারা এসব নোংরা রাজনীতি করে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে দলে বিবেধ সৃষ্টি না করতে সবাইকে অনুরোধ জানান।
ঘের ব্যবসায়ী টিপু হাওলাদার বলেন, ঢাকাইয়া ঘের নামে পরিচিত সাড়ে ৩শ বিঘার চিংড়ি ঘেরে ২৬বিঘা ও একই এলাকার ঘের ব্যবসায়ী শুকুর শেখের ২শ বিঘার ঘেরের মধ্যে ১শ বিঘা জমি লীজ নিয়ে তিনি চিংড়ি চাষ করছেন। তাকে জড়িয়ে সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যাচার করেছেন।
চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী শুক্কুর শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার জমি কেউ দখল করে খাচ্ছেন না। তার অর্ধেক জমি লিজ নিয়ে টিপু হাওলাদার সমান অংশীদার ভিত্তিতে চিংড়ি ঘের করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদারকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য রাখা হচ্ছে তা আদৌ সঠিক নয়।
এদিকে সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার বলেন, গত ২৮আগষ্ট শোক সভার সমাবেশে যে বক্তব্য তা ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দিয়েছি। তা নিয়ে প্রতিপক্ষরা নোংরা রাজনীতি করছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, তাকে ও তার ভাইপোদের জড়িয়ে সুন্দরবন ইউপি ইকরাম ইজারাদার যে বক্তব্য দিয়েছে তা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক ছাড়া কিছুই না।











































