নিজস্ব প্রতিনিধি।।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সাধারণের মধ্যে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তার নাম মনে আসতেই মনে পড়ে প্রশস্ত মুখাবয়বের উজ্জ্বল শানিত দৃষ্টির অকুতোভয় এক স্বাধীনচেতা মুখের ছবি। যার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের সঙ্গে একেকটি উপাখ্যান। তিনি যেভাবে মানুষের সঙ্গে অকপটে মিশে আপন করে নিতেন, ঠিক একইভাবে প্রকৃতির সঙ্গেও তার ছিল ঘনিষ্ঠ মিতালি। টুঙ্গিপাড়ার এমন অনেক স্থান আছে, যেগুলো এখনো বঙ্গবন্ধু বিয়োগের স্মৃতি বয়ে বেড়ায়। এখনো সেই জায়গাগুলো বঙ্গবন্ধু শূন্য প্রান্তরে শ্রোতার অজান্তে ডুকরে কেঁদে ওঠে। এমনি এক স্মৃতিবিজড়িত জায়গার নাম ‘খান সাহেবের পুকুর’।
খান সাহেবের পুকুর নামটি বঙ্গবন্ধুর ছোট দাদার একমাত্র ছেলে খান সাহেব শেখ মোশাররফের নামকরণে করা হয়। পুকুরটি বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ার বাড়ির উত্তর- পশ্চিম কোণে অবস্থিত। চারপাশের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শ্যামলিমা গাছপালা আর সবুজাভ রং-মিশ্রিত পানি জীবিত বঙ্গবন্ধুর থেকে শহিদ বঙ্গবন্ধুকে বেশি মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের বুলেটের নির্মম আঘাতে জাতির পিতার সপরিবারে শাহাদতবরণের পর টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। পরে খান সাহেবের পুকুরের পানি দিয়ে তাকে শেষ গোসল দেওয়া হয়।
জানা যায়, সে সময়ে শেখ পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বি শেখ আব্দুল মান্নান বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে স্বাক্ষর সাপেক্ষে লাশ গ্রহণ করেন। পরে শেখ বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মৌলভি শেখ আব্দুল হালিমের অনেক অনুরোধের পর সেই আগত সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গোসলের অনুমতি দেন। তখন গিমাডাঙ্গা গ্রামের লুৎফর শেখ বালতি ভরে বঙ্গবন্ধুর গোসলের জন্য পানি নিয়ে আসেন। সে সময়ে প্রতিবেশী মন্নাফ মিয়া, ইদ্রিস কাজীসহ কয়েকজন বঙ্গবন্ধুকে এই পুকুরের পানি দিয়ে গোসল করান।
তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ আমলে শান বাঁধানো ঘাট থাকলেও বর্তমানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কালের বিবর্তনে এখন পুকুরটিতে শোভা পাচ্ছে আধুনিককালের পাকা ঘাট। পুকুর পাড়েই বঙ্গবন্ধু আপন দাদা শেখ আব্দুল হামিদ, দাদি শেখ হামিদুন্নেছা, ছোট দাদা খান সাহেব শেখ আবদুর রশিদ ও তার ছেলে খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেনসহ একাধিক সদস্যের কবর রয়েছে। চারপাশের সবুজ গাছপালা আর স্থির থাকা স্বচ্ছ পানি এখনো এখানে আগত অতিথির মনে বঙ্গবন্ধু বিয়োগের ব্যথার পুনর্জাগরণ ঘটায়।
বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকেই গোপালগঞ্জের বাস ধরে টুঙ্গিপাড়া আসা যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে টুঙ্গিপাড়া যাওয়া যায়। গুলিস্তান থেকে টুঙ্গিপাড়ার দূরত্ব ১৬৩ কিলোমিটার। গুলিস্তান বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, দোলা, পালকি, ওয়েলকাম, ইমাদ, গোল্ডেন লাইন, সেবা গ্রিন লাইন ও কমফোর্ট লাইন নামের বাসে টুঙ্গিপাড়া যেতে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। প্রতি ১৫ মিনিট পরপর বাস পাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। টুঙ্গিপাড়া এসে বঙ্গবন্ধুর সমাধি থেকে মাত্র ৫০-৬০ গজ দূরেই এই স্মৃতিময় পুকুরে চলে আসা যাবে।
কোথায় থাকবেন:
টুঙ্গিপাড়ায় বাঘিয়ার নদীর তীরবর্তী ‘মধুমতি’ নামে পর্যটন মোটেল আছে। গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে এখানে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। রুমের ভাড়া ননএসি টুইন বেড ১ হাজার ৩০০ টাকা ও এসি টুইন বেড ২ হাজার টাকা। এছাড়া ডরমিটরি বেডে ৪০০ টাকায় থাকার সুযোগ রয়েছে। ডরমিটরির প্রতি রুমে চারজন করে থাকার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া রাতযাপনের জন্য চাইলে গোপালগঞ্জ শহরেও থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে হোটেল সোহাগ, রোহান, রাজ, জিমি, লুচি, শম্পা, শিমুলসহ বেশকটি হোটেল রয়েছে। রুমের ভাড়া গুনতে হবে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা।










































