Home আঞ্চলিক জালিয়াতির অভিযোগে যশোরের আইনজীবী সাসপেন্ড

জালিয়াতির অভিযোগে যশোরের আইনজীবী সাসপেন্ড

7


যশোর অফিস:


যশোরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিচারকের হাতে ধরা পড়ার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে সৈয়দ কবীর হোসেন জনিকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সমিতির নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া আদালত থেকে মুক্তির পর সমিতি ভবনে আসা এক আসামিকে অবরুদ্ধ করে টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তাকে শোকজও করা হয়।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম ইদ্রিস আলী।
এর আগে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আকরাম হোসেন অভিযুক্ত জনির বিরুদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দেন। তিনি দশ দিনের মধ্যে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা আদালতকে জানানোর জন্যও নির্দেশ দেন জেলা আইনজীবী সমিতিকে।


জনির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাদী পরে আইনজীবী হিসেবে আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেন। আদালত কোতোয়ালী থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে থানা নিয়মিত মামলা রুজু করে। মামলা নম্বর জিআর ২৪৪/২০। এ মামলায় তিন আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আসামিরা হলেন, ফয়েজ ইসলাম ইভান, মুক্তা ইসলাম ও উম্মে আসমা তন্দ্রা। এরপর জনি বাদী পরে আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও ভোল পাল্টে আসামি পে কাজ শুরু করেন; যা আইনজীবী হিসেবে তিনি করতে পারেন না। গত ৩ জুন ভার্চুয়াল কোর্টে ওই তিন আসামির জামিন শুনানি হয়। আইনজীবী জনি আসামিদের মুক্তির জন্য ‘বাদী ও আসামি পরে সাথে মীমাংসা হয়েছে’ মর্মে একটি জাল এফিডেভিট আদালতে উপস্থাপন করেন। এফিডেভিটে মামলার এজাহারকারী হিসেবে ইয়াসিন আরাফাত নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত প্রমাণ পান, ওই মামলার বাদী ইয়াসিন নন, উম্মে সালমা শিখা। শুধুই তা-ই নয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে ভার্চুয়াল আদালত না মেনে নিজে ও একজন ভুয়া বাদী এনে বিচারকের খাস কামরায় এসে মামলা নিষ্পত্তির জন্য পীড়াপীড়ি করেন। এই পর্যায়ে বিচারক তার জালিয়াতি ধরে ফেলে জেলা আইনজীবী সমিতিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।


অন্যদিকে, মামলাটির আসামি উম্মে আসমা তন্দ্রা জামিনে বেরিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতিতে পৃথক একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তাদের তিনজনকে ‘আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিনে বের করে দেবেন’ মর্মে সাত হাজার টাকা দাবি করেন আইনজীবী জনি। কিন্তু তারা প্রতারণার শিকার হন। পরে আইনজীবী জনি ওই নারীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরমধ্যে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়েও নেন। বাকি ১৫ হাজার টাকার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে জীবননাশের হুমকি দিতে থাকেন জনি।


এসব অভিযোগের প্রেেিত সমিতির প থেকে ৭ জুন আইনজীবী জনিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে বৃহস্পতিবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।