আলমগীর হোসেন ,কেশবপুর ।।
যশােরের কেশবপুর আবহাওয়া ভালাে থাকায় এ বছর ফুটছে প্রচুর পরিমান আমের মুকুল। আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করায় নানা ফুলের সঙ্গে ছড়াচ্ছে সুবাসিত সৌরভ। কবির ভাষায় ‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আমের মুকুল। বনে বনে ফুল ফুটছে, দােলে নবীন পাতা।’ এ যেন বসন্ত জাগ্রত দ্বার।
আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা। বয়ছে মৌমাছিরও গুঞ্জন। বাগানের সারি সারি গাছে স্নিগ্ধতার মধ্যেই শােভা ছড়াচ্ছে সােনালি মুকুল। সুরভিত মুকুলের গন্ধে পাল্টিয়ে দিয়েছে এ অঞ্চলের বাতাস। তাই দক্ষিণা বাতাসে দােল খাচ্ছে আম চাষীদের স্বপ্ন। সােনালি স্বপ্নে ভাসছেন তারা। এদিকে বছর ঘুরে আবারাে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে আম প্রেমীদের মন।
বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আকাশ বাতাস মৌ মৌ গন্ধে মাতােয়ারা করে তুলেছে। কােথাও কােথও হলুদ রঙের মুকুল আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ব্যাপারিরা আম বাগানের দরদাম হাকাচ্ছেন । আর বাগানের মালিকরা আমের ভালাে ফলন পেতে ছত্রাক নাশক প্রয়ােগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আম চাষীরা খুশি হলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শীত বিদায় নেয়ার আগেই আমের মুকুল আসা ভালাে নয়। এখন ঘন কুয়াশা পড়লে বা বৃষ্টি হলে গাছে আগে ভাগে আসা আমের মুকুল চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা ফলনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছরে আম চাষ হয়েছে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে মজিদপুর, সাগরদাঁড়ি, পাঁজিয়া, মঙ্গলকােট, ত্রিমােহিনী ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নে বেশি আমের বাগান রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকুলে থাকা ও আমের ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরেই আবাদ বাড়ছে। আমের উৎপাদন যাতে বৃদ্ধি পায় এ জন্য কৃষি বিভাগ থেকে আম চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে আমরুপালি, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙা, মল্লিকা, হিমসাগর, থাই, গােপালভােগ, বারি ১০, দেশি, বেনারসি, সিতাভােগ ও রসে ভরা বােম্বাই জাতের আম আবাদ করা হয়। এর মধ্যে হিমসাগর, ফজলি, আমরুপালি ও ল্যাংড়ার চাহিদা বেশি।
উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা গ্রামের গ্রামপুলিশ আব্দুল কাদের, লুৎফর রহমান, হাজ্বী জালাল উদ্দিন, হাবিবুর রহমান হবিসহ আরও অনেকেই আমের আবাদ করেছেন। তারা জানান, কয়েক বছর ধরে এ গ্রামে আমের আবাদ করা হয়। কােন প্রাকৃতিক দুর্যােগ না হলে গাছে যে পরিমানে মুকুল এসেছে, তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আম ধরবে। পাঁজিয়া ইউনিয়নের আব্দুল বারিক (আম বারিক), রফিকুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, রহমত আলী, নাসির উদ্দিনসহ আরও অনকেই আমের আবাদ করেছেন। তারা জানান, ফসলি চাষের জমি রেখে তাদের মতাে এ অঞ্চলে অনকেই আম বাগান করেছেন। এবার ঘন কুয়াশা কম থাকায় আগে ভাগেই গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ কারণে নিয়মিত গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শওকত আলী,মাষ্টার আব্দুস সালাম, মাফুজুর রহমান, আব্দুল খালেক (ট্যাম) শহিদুল ইসলাম ও আব্দুস সাত্তার মােল্লা বলেন, আবহাওয়া ভালাে থাকায় অধিকাংশ গাছে আমের মুকুল এসেছে। রােগ-বালাইয়ের হাত থেকে আমের মুকুলকে রক্ষা করতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেছেন।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, আম গাছে মুকুল আসার আগে পােকা দমনের জন্য চাষীদের ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ উপজেলার অধিকাংশ আম গাছে মুকুল ভালােভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এছাড়া কােন প্রাকৃতিক দুর্যােগ না হলে গত বছরের তুলনায় এবার আমের উৎপাদন বেশি হবে।










































