হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ৫: বায়তুল মোকাররম এলাকা রণক্ষেত্র

13

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভকালে রাজধানীর পল্টনের বায়তুল মোকাররম এলাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমসহ ওই এলাকায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করলে তাতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া হেফাজতে

ইসলামের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হাটহাজারীতে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন। পল্টন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইন উপড়ে ফেলে ও আগুন জ¦ালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করা হয়েছে। সেখানে মারা গেছে একজন।

পল্টন এলাকায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহতদের মধ্যে অন্তত ৭০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে ১৫ জন সংবাদকর্মী আহত হন। দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক আহত রুবেলকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের আটক করতে অভিযান শুরু করে। রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের অবস্থানের এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ। এসব ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেছেন, আন্দোলনকারীর মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। যদি এটা মসজিদ না হতো তা হলে তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। আজ যে পরিমাণ ইট-পাটকেল পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা কয়েক ট্রাক হবে। মসজিদের ভেতরে এত ইট কীভাবে এলো সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। জুমার নামাজের পরই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটের সামনে ফাঁকা জায়গায় হেফাজতের কর্মীরা জড়ো হন এবং মোদিবিরোধী সেøাগান দিতে থাকেন। তারা এ সময় জুতা বিক্ষোভও করে। বিক্ষোভের সময় তারা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ গেট দিয়ে রাজপথে যাওয়ার চেষ্টা করলে গেটেই তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এতে বিক্ষোভকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানোসহ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। তারাও লাঠি হাতে হেজাফতের কর্মীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় হেফাজতকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে দফায় দফায় বেরিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের সময় উত্তর গেটের সামনে রাখা ছয়টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের অনেকের হাতে সবুজ রঙের লাঠিসোটা দেখা গেছে। পুলিশ উত্তর গেটে ফাঁকা করে দিলে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, সচিবালয়, পল্টন এলাকা, জিপিও ও বায়তুল মোকাররম এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণে নেয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। তারাও জড়ো হয়ে সেøাগান দিতে থাকে। বেলা ৩টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে থাকে। এরই ফাঁকে হেফাজতের ইসলামীর কর্মীরা বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। লাঠি হাতে তখন যুবলীগের কর্মীরা তাদের ওপর ফের চড়াও হয়। এ সময় কয়েকজন হেফাজতকর্মীকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

উত্তেজনার শুরুতে মসজিদের উত্তর গেটে থাকা ফটো সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের ভেতরে হেফাজতের এক শিশু সমর্থক ঢুকে পড়লে তাকে ধরে পিটুনি দেয় যুবলীগের কর্মীরা। দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক রুবেল বলেন, ‘ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার সময় ২০-২৫ জন যুবক দৌড়ে আসে এবং আমাকে পেটাতে থাকে। এ সময় একজন কোমরে পিস্তল ঠেকিয়ে আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। তারা সবাই যুবলীগের কর্মী ছিল বলে আমার ধারণা।’ উত্তর গেটে পুড়ে যাওয়া ছয়টি মোটরসাইকেলের একটির মালিক ছিলেন বরগুনার বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঋণ করে ৯৮ হাজার নিয়ে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’

চট্টগ্রাম :

পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে হঠাৎ হাটহাজারী থানা, ভুমি অফিস ও ডাক বাংলোসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে হেফাজত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছুড়লে এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে এ ঘটনার পর হেফাজত নেতাকর্মীরা মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নিয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। হাটহাজারীতে প্রচুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়নের পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, থানায় হামলার পর তারা ভুমি অফিসে ঢুকেও ভাঙচুর করে। ভূমি অফিসের ফাইল-আসবাবপত্র সব জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভূমি অফিসের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। শুধু ভূমি অফিস নয়, উপজেলার ডাক বাংলোতে ঢুকেও ব্যাপক ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৮-৯ জনকে আহত অবস্থায় আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজন মারা যান।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দীন তালুকদার জানান, হাটহাজারীতে গুলিবিদ্ধ ৮-৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন মারা গেছেন। যারা মারা গেছেন তাদের চারজনের মধ্যে তিনজন মাদ্রাসা ছাত্র এবং একজন পথচারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের ২৬ নম্বর অর্থোপেডিক সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার মো. রবিউল ইসলাম, মাদারীপুরের মো. মেহরাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহের মো. আব্দুল্লাহ মিজান ও হাটহাজারীর মো. জসিম। অন্যদিকে হেফাজতের চারজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হঠাৎ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে একদল যুবক। ১৫-২০ জনের একটি দল ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে পালিয়ে যায়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির জানান, হাটহাজারীতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাশের সঙ্গে থাকা স্বজনরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভ‚ঁইয়া বলেন, ১৫-২০ জনের একটি দল হঠাৎ এসে হাসপাতালে হামলা চালায়, ভাঙচুর করেন। এ সময় জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড সর্দার মো. এনায়েত আহত হন। এ ছাড়া চারজনের মৃত্যুর পর চমেক হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের লাশের সামনে গিয়ে মোনাজাত করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহারসহ হেফাজত নেতারা।

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এ সময় তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। পুলিশ অতি উৎসাহিত হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর টিয়াল শেল ও গুলি ছুড়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা র’ এজেন্ট আর সরকারের পেটোয়া বাহিনী ইচ্ছাকৃত এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত যারা আছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। আর যদি বিচার করা না হয় তা হলে হেফাজত ইসলাম জানে কীভাবে বিচার করতে হয়। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের প্রধান সড়ক টিএ রোডে মাদ্রাসার ছাত্ররা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে।

বিকালে শহরের কাউতলী এলাকার দাতিয়ারা গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে আশিক (২৫) গুরুতর আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধরা লাশ নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে লাশ নিয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। তবে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনা জানেন না বলে জানিয়েছেন।

হামলাকারীরা শহরের প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে বিক্ষুব্ধরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেল স্টেশনে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেল স্টেশনের সিগন্যাল, মাস্টার রুম ও কন্ট্রোল রুমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে। সব মালামাল একত্রিত করে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেল লাইনের সিøপার তুলে ফেলে বিক্ষুব্ধরা। সিগন্যাল বক্স ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে প্রবেশ করার সময় বিক্ষুব্ধরা পাথর নিক্ষেপ করলে ট্রেনটি ফিরে যায়। জেলা পরিষদ কার্যালয় বিকালে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। শহরের কাউতলী, ভাদুঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সড়কে আগুন ধরিয়ে রাস্তায় অবরোধ করা হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ^রোড, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহিলপুর, নন্দনপুর, মজলিশপুর ও ঘাটুরাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। শহরের জেলা পরিষদ, পৌর মুক্ত মঞ্চ, পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে ফেলে। স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা ও সড়ক সজ্জিতকরণ ব্যানার-ফেস্টুন ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। উগ্র বিক্ষুব্ধরা নরেন্দ্র মোদিবিরোধী সেøাগান দেয়। এক সময় বিক্ষুব্ধরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা জজের বাস ভবনের মূল ফটকে হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ ৫ শতাধিক লোক জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে গ্যারেজে থাকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা ভবনের নিচতলার জানালা।

ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ :

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, বিকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ীর হানিফ উড়াল সড়কে অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় মাদ্রাসার ছাত্ররা। উড়াল সড়কের কয়েকটি জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন তারা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলম বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার পর থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার মাদ্রাসার ছাত্ররা সড়কে অবস্থান নেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী অংশে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেখা যায়, শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র সেখানে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে অবস্থান করছেন। হানিফ উড়াল সড়কের কয়েক জায়গায় টায়ারের আগুন জ্বলছিল। যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে যাত্রাবাড়ীর মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। আবার কেউ কেউ হানিফ উড়াল সড়ক ধরে হেঁটে হেঁটে এগোচ্ছে।

-বিশেষ প্রতিনিধি