Home আঞ্চলিক সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে: জনউদ্যোগ

সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে: জনউদ্যোগ

11

স্টাফ রিপোর্টার।।

আমরা সবার আগে বাঙালি, তারপর আমাদের ধর্ম। কখনোই ধর্ম আমাদের বাঙালি পরিচয়ের আগে হতে পারে না। একের পর এক হামলা আর লুটপাটের পর দেখা যায় প্রশাসন প্রায় নিশ্চুপ থাকে। প্রশাসনের ভিতরেই সাম্প্রদায়িকতা ঘাপটি মেরে আছে। তাদেরকেও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এক ধর্মের মানুষ সে যদি নিজের ধর্ম মানে তাহলে সে অন্যধর্মের মানুষের ওপর আক্রমণ করতে পারেন না । আমরা কথায় কথায় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে দাবি করি; আসলে কতটা নিরপেক্ষ তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। একের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েই যাচ্ছে। কারা হামলা করছে, এদের পিছনে আসলে ইন্ধন দিচ্ছে কারা তা তদন্ত করা হোক,তদন্ত করে তাদেরকে বের করে বিচার করা হোক এবং তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করা হোক। জনউদ্যোগ,খুলনার সম্প্রীতির বন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে জনউদ্যোগ, খুলনার আহবানে নড়াইলসহ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে সম্প্রীতির বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ,খুলনার নারী সেলের আহবায়ক এ্যাডঃ শামীমা সুলতানা শীলু। সূচনা বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবুল ফজল। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আফম মহসীন, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি মফিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, গণসংহতির মনির হোসেন, বাসদের সনজিত মন্ডল, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়কারী এ্যাডঃ মোমিনুল ইসলাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শাহিন জামান পণ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহানগর সভাপতি বীরেন্দ্র নাথ ঘোষ, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু, বোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দাস, ভারতশ্বরী আশ্রমের মহারাজ ধ্রুব, পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন,দলিতের ধরা দেবী দাস, সোনালী প্রতিবন্ধী সংস্থার ইসরাত আরা হীরা, সুন্দরবণ লায়ন্স ক্লাবের রিজনাল চেয়ারপারসন দিলারা নাসরীন, আনোয়ারা পারভীন, টিইউসির এস এম চন্দন, কয়রার নিশিীত মিস্ত্রী, শেখ আইনুল হক, অপরাজিতার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার মন্ডল, ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ,অশোক কুমার সেন,ডাঃ সুদেব মন্ডল, মানস রায়, বিশ্বজিৎ দে মিঠু, নিরুপমা গোলদার,উজ্জল ব্যানার্জী, দলিতের প্রদীপ কুমার দাস,খুলনা আর্ট স্কুলের পরিচালক বিধান চন্দ্ররায় প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি হ্যাক করে, ভূয়া আইডি তৈরি করে সাম্প্রদায়িক উষ্কানীমূলক পোস্ট দিয়ে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা হচ্ছে। যারা এটা করছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সব ধরণের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে সংখ্যালঘুদের ইস্পাতের মতো কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই লড়াই করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে উঠে আমরা কাজ করতে পারছি না। বাংলাদেশে বিশেষত ১৯৭৫-এর পর থেকে রাজনীতিতে একটা সাম্প্রদায়িক দল লালন-পালন হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, হামলাকারীদের পিছনে কারা আছে এবং কারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি লুট করেছে তা তদন্ত করে বের করা হোক। সরকার যদি জঙ্গি দমন করতে পারে তাহলে এদেরকেও দমন করা সম্ভব। বক্তারা ,সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের দ্রুত বিচার করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানান।