Home আঞ্চলিক যশোরে অনলাইন গেম আসক্তি বাড়ছে, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

যশোরে অনলাইন গেম আসক্তি বাড়ছে, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

6

যশোর অফিস।।
করোনা মহামারির দুই বছরে যশোরে উঠতি বয়সীদের অনলাইন গেম আসক্তি বেড়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। অনলাইন গেমের নেশায় বুদ শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় ঘটছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না আসক্তরা। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

এমনই এক কিশোরকে নিয়ে ‘মহাবিপদে’ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সৈয়দপাড়া গ্রামের এক অভিভাবক। তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে শেকলে বেঁধে রেখেও মোবাইল গেম আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এর আগে মোবাইলে গেম খেলতে নিষেধ করায় আরেক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করে। শুধু ঝিকরগাছার এই দুটি ঘটনা নয়, এমন অসংখ্য পরিবার তাদের সন্তানের মোবাইল ফোন আসক্তি নিয়ে বিপাকে আছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছার মল্লিকপুরে মোবাইলে গেম খেলতে নিষেধ করায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তৌফিক হাসান (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্র।

সকালে তৌফিক বাড়ির পাশে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল। সে সময়ে তার বাবা গেম খেলতে নিষেধ করে বকাঝকা করে মাঠে চলে যান। কিছুক্ষণ পরে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

সম্প্রতি ঝিকরগাছার সৈয়দপাড়া গ্রামের এক অভিভাবক তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বিপদে পড়েছেন। ছেলেকে শেকলে বেঁধে রেখেও মোবাইল গেম আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ওই কিশোরের বাবা বলেন, কোভিড মহামারি শুরুর বছর এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ত তার ছেলে। স্কুল যখন বন্ধ হয়ে গেল, তখনই ধরল মোবাইলে অনলাইন গেমের নেশা। পাবজি, ফ্রি ফায়ার, এসব খেলার নেশা হয়ে গেল। মানা করলে শুনত না। নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে খেলত। অনেক বকাঝকা করেও খেলা ছাড়াতে পারিনি। এখন আর সে নিয়ন্ত্রণে নেই।

তিনি বলেন, আসক্তি এতটাই প্রবল যে মোবাইল ফোন কেড়ে নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সামলাতে না পেরে তাকে বেঁধে রাখা হয়। এ অবস্থায় তাকে স্কুলেও পাঠাতে পারছি না। একেবারে পাগলের মতো করে। সুস্থ করার জন্য ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার ওষুধ দিয়েছে। সেটা খাওয়াচ্ছি। ওই কিশোর জানায়, বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে শুরু করেছিল, এখন না খেললে ভালো লাগে না। দুই ভাইবোনের মধ্যে ছেলেটি ছোট। বোনের বিয়ে হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক বলেন, করোনা মহামারিতে মানুষ ঘরবন্দি ছিল। এ সময় তারা মানুষের সঙ্গে খুব কম মিশতে পেরেছে। ঘরে বসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাসে করতে গিয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে তারা অনলাইন নানা গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তারা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদেরকে সুস্থ করতে হলে ‘কাউন্সেলিং’ করতে হবে। মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ দিতে হবে। অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।

এদিকে, ৮ মে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুসারে, ২০১২ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রায় ৯.৩৭ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ২০১৬ সালে শিক্ষার্থীদের ৩৫ শতাংশ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের, অর্থাৎ কিশোর-কিশোরী। মহামারির সময় এটি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।