Home আঞ্চলিক মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব আমডাঙ্গার মানুষ, চোখের সামনে নদীতে বিলীন মসজিদ

মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব আমডাঙ্গার মানুষ, চোখের সামনে নদীতে বিলীন মসজিদ

1



নড়াইল প্রতিনিধি ||

নড়াইলের লোহাগড়ায় মধুমতি নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক আকারে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে মধুমতি নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, কয়েক শ একর ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত কয়েক দিন ধরে মধুমতি নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আমডাঙ্গা এলাকায় নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে অন্তত ২০টি পরিবারের বসতভিটা। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে যতদূর চোখ যায়, ভাঙনের চিহ্ন। নদীর মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে নারকেল, সুপারি ও কলাগাছের অগ্রভাগ তীব্র স্রোতে দোল খাচ্ছে। নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া বসতভিটার শেষ চিহ্ন হিসেবে রয়ে গেছে বসতির আঙিনা ও আশপাশের কিছু গাছপালা।


ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলশিক্ষিকা মমতাজ বেগম জানান, মধুমতি নদীর ভাঙনের দৃশ্য আমডাঙ্গা এলাকার মানুষের কাছে অতি পরিচিত। বর্ষা এলেই মধুমতির ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। গত এক দশকের অব্যাহত ভাঙনে শত শত একর ফসলি জমি, অসংখ্য বসতবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে অধিকাংশ মানুষ আজ নিঃস্ব। ভাঙনের তীব্রতা বাড়লে প্রতিবছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না।

আমডাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী অহিদুল মুনসী বলেন, বর্ষা মৌসুমে তার বসতবাড়ি মধুমতি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিন বছরে তার বাড়ি দুইবার ভেঙেছে। এ বছর তার মতো এলাকার অন্তত অর্ধশত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

একই গ্রামের ইনসান মোল্যা বলেন, এ বছর নদীতে তার ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি সবকিছুই বিলীন হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একতলা মসজিদটি চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেননি। বর্তমানে এলাকায় নামাজ পড়ার মতো কোনো মসজিদ নেই।

জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম মধুমতি নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে আমডাঙ্গা গ্রামের অধিকাংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে মধুমতি নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। তবে আমডাঙ্গা এলাকায় ভাঙন রোধে ১ হাজার ৭০০ মিটার স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প প্রণয়ন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।