Home খেলাধুলা যে ভুল দেখছেন সাদমান

যে ভুল দেখছেন সাদমান

3


ক্রীড়া প্রতিবেদক।।

প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি সবসময় একরকম হয় না। মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করা। প্রথম দিন যেভাবে ব্যাটিং করে রান তুলেছে, তাতে সেটি সম্ভবও ছিল! তবে দ্বিতীয় দিনে ভোজবাজির মতো পাল্টে গেছে সবকিছু। ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে ২৭২ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুরে দ্বিতীয় দিনে ইনিংসের শুরুটা করেন সাদমান ও লিটন জুটি। আগের দিনই শতকের সুবাস পেয়েছেন সাদমান। ১ রান দূরে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান। তবে ১০০ করার পর নিজের ইনিংসকে বেশিদূর টানতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন ব্যক্তিগত ১০৫ রানে। দ্বিতীয় দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাদমান জানালেন, শুরুতে তার উইকেট না হারালে পরিস্থিতি অন্যরকমও হতে পারত। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সকালে আমাদের আর্লি উইকেটটা পড়ে। কারণ, আমি আর লিটন যখন ব্যাটিং করছিলাম, আমি যদি কিছুক্ষণ খেলতে পারতাম বা আরেকটু বড় (নিজের ইনিংস) করতে পারতাম, হয়তো পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতো। হয়তো ওখানেই একটা ভুল হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বলার মতো রান করেছেন শুধু সাদমানই। টপঅর্ডারে তানজিদ (৭), মুমিনুল (২৮) কিংবা শান্তর (১৯) মতো ব্যাটারের কাছে প্রত্যাশা থাকে সবসময়ই বেশি। তবে তারা কেউই ফিফটি করতে পারেননি। প্রথম দিনেই তানজিদ, মুমিনুল ও শান্তর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় বাংলাদেশ; তাও ১১০ রানের মধ্যে। সাদমান মনে করেন, বড় দলীয় স্কোর পেতে টপঅর্ডারকেও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের আরও ভালো করা উচিত। আমরা যদি টপঅর্ডারে স্কোরটা ১৫০, ১৭০ বা ২০০ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারি, তাহলে হয়তো দলের রান ৪৫০-৫০০-তে গিয়ে পৌঁছাত। আমাদের ভুল হয়ে গেছে। চেষ্টা থাকবে, ইনশাআল্লাহ, পরেরবার এমন পরিস্থিতি এলে যতটা সম্ভব ইনিংস বড় করার।’ ওপেনিং জুটির কাছেও প্রত্যাশা অনেক সাদমানের। তিনি মনে করেন, নতুন বলের চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে তাদেরই। এতে নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করাটা সহজ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘ওপেনার হিসেবে আমরা যদি নতুন বলটা ভালোভাবে সামলাতে পারি, তাহলে নিচের ব্যাটারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। চেষ্টা থাকবে, সামনে যে ম্যাচগুলো আছে, সেখানে ওপেনিংয়ে ভালো জুটি গড়ার। তামিমের (তানজিদ) সঙ্গে আমরা কথা বলি, কীভাবে জুটি গড়ে রানটা এগিয়ে নেওয়া যায় এবং ভালো অবস্থানে থাকা যায়।’

স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও। আলোকস্বল্পতার কারণে আগেভাগেই খেলা শেষ হয়েছে এদিন। ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে তারা। শেষ সময়ে তাইজুল জোড়া আঘাত হেনেছেন; এতেই লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। এছাড়া আরেক স্পিনার মিরাজ নিয়েছেন ক্যাম্পবেলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। নিজ দলের স্পিনারদের এগিয়ে রেখে সাদমান বলেন, ‘আমাদের স্পিনাররা অনেক অভিজ্ঞ। মিরাজের যে বলটা হয়েছে, হয়তো তখন বলটা নতুন ছিল, যার কারণে এমন হয়েছে। মিরাজ আর তাইজুল ভাই যেভাবে বল করছেন, তারা ভালো জায়গায় বল করছেন।’ তৃতীয় দিনে সফরকারীদের দ্রুত অলআউট করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাদমান আরও বলেন, ‘যত লিড নেওয়া যায়, তত আমাদের জন্য ভালো। যেভাবে বোলিং হচ্ছে, কাল (আজ) সকালে যদি আমরা দ্রুত উইকেট নিতে পারি এবং ভালো বল করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি অলআউট করে দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।’