Home খেলাধুলা তাইজুল-মিরাজে আশার আলো

তাইজুল-মিরাজে আশার আলো

2


ক্রীড়া প্রতিবেদক

৪০০ রান করার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। তবে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তাতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থাকতেই অলআউট হতে হয়েছে তাদের। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করেছে বাংলাদেশ। তবে এদিন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন সাদমান ইসলাম।

আলোকস্বল্পতায় মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের পুরোটা সময় খেলা হয়নি। তবে দিনটা ছিল টাইগারদেরই।৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান করেছিল তারা। দ্বিতীয় দিনের চিত্রটা আবার একেবারে ভিন্ন। এদিন স্কোরকার্ডে ৫৯ রান জমা করতেই বাকি সবকটি উইকেট হারিয়েছে তারা। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। বাংলাদেশের চেয়ে ১৩৮ রানে পিছিয়ে থেকে আজ তৃতীয় দিন শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ৪৩ ও জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন।

প্রথম দিনশেষেই সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তেই ছিলেন সাদমান। এজন্য ১ রান দরকার ছিল তার। এদিন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় শতক তুলে নিয়েছেন তিনি। তবে তিন অংক ছোঁয়ার পর নিজের ইনিংসকে আর বেশিদূর টানতে পারেননি। ১০৫ রানে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে তাকে। সাদমানের ২৩৪ বলের ইনিংসটি সাঁজানো ছিল ১১টি বাউন্ডারিতে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে একমাত্র সাদমানই ছিলেন উজ্জ্বল। বাকিরা নিষ্প্রভ। দিনের শুরুতে দলীয় ২২১ রানে সাদমানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপরই যেন হুড়মুড়িয়ে পড়ে ব্যাটিং বিভাগ। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। ১৯ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৯৭.৪ ওভারে ২৭২ রানে থামে তাদের প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় দিনে ২৩.৪ ওভার উইকেটে টিকে থাকতে পারে বাংলাদেশ। সাদমান ছাড়া বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাওহিদের (৪২)।

মিরপুরের উইকেটে প্রথম দিনে পেসারদের বলে মুভমেন্ট দেখা গেছে। আবার স্পিনাররাও উইকেট থেকে ভালো টার্ন পেয়েছেন। দ্বিতীয় দিনে ক্যারিবীয়দের হয়ে সফল বোলার ছিলেন জোমেল ওয়ারিক্যান। ৩৪ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনার ৫৩ রানে নিয়েছেন মোট ৫ উইকেট। আরেক বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপ ও ডানহাতি পেসার শামার জোসেফ সমানসংখ্যক দুটি করে উইকেট তুলে নেন।

ব্যাটিং বিপর্যয় ভুলে বোলিংয়ে নিজেদের মেলে ধরার প্রত্যয় ছিল বাংলাদেশের। তাতে সফলও তারা! উইকেট শিকারের শুরুটা করেন হাসান মাহমুদ। দলীয় ২৯ রানে ব্রেন্ডন কিংকে (১৫) ফেরান তিনি। তবে শুরুর ধাক্কাটা বেশ ভালোভাবেই সামলে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যান ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় উইকেটে পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা চালিয়ে যান জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন মিরাজ। ব্যক্তিগত ৫৪ রান করা ক্যাম্পবেল ফিরলে ভাঙে ৬১ রানের জুটি। আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টি- সবমিলিয়ে মাঝে ১ ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। এরপর খেলা আবার শুরু হলে বাংলাদেশকে জোড়া উইকেট উপহার দেন তাইজুল ইসলাম। এক ওভারে কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুর উইকেট তুলে নেন তিনি। দলীয় ৯৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা। আলোকস্বল্পতার কারণে দ্বিতীয় দিনেও আগেভাগেই খেলা শেষ হয়েছে। এদিন খেলা হয়েছে ৭১.৪ ওভার। চন্দরপল ও গ্রিভস জুটির অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানে ভর করে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৪ রানে দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।