ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার ডুমুরিয়ায় ২৯ নম্বর পোল্ডারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে অবৈধভাবে পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে পাঁচটি পাইপ বসানোর কারণে বাঁধের ভেতর নোনাপানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাঁধের মাঝখানে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ। গুটুদিয়া ইউনিয়নের টিকাবুনিয়া গ্রাম-সংলগ্ন জুটমিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে পাইপগুলো বসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভরাটকাজে ব্যবহারের জন্য ভদ্রা নদীর পলিযুক্ত জোয়ারের পানি বাঁধের ভেতর ঢোকানো হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানিতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও বিল নোনাপানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে ধস শুরু হয়েছে এবং বাঁধের ওপর বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে জোয়ারের পানির চাপে পুরো বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হতে পারে। নোনাপানির প্রভাবে এলাকার প্রায় ৫০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে এবং কয়েক হাজার ফলদ ও বনজ সম্পদ উজাড় হয়েছে। হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে শিশুসহ গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।
পাউবোর আওতাধীন এই বাঁধের ওপর জনগুরুত্ব বিবেচনায় এলজিইডি পাকা সড়ক নির্মাণ করেছিল। বর্তমানে সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলাসহ ডুমুরিয়া সদর, শরাফপুর, মাগুরখালী, সাহস ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এবং জুটমিলের শ্রমিকবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় পণ্যবাহী ট্রাক-পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ১৫-২০ কিলোমিটার পথ ঘুর যাতায়াত করতে হচ্ছে।
গুটুদিয়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু জানান, জুটমিল এলাকায় জমি কিনে তা ভরাটের জন্য ৫০০ মিটারের মধ্যে বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে পাঁচটি জায়গায় পাইপ বসানো হয়েছে। এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ সড়কের ভেতর বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয় এবং বাঁধের অংশ ধসে পড়ে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে বাঁধের পাশ ঘেঁষে শুধু হালকা যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজনের বক্তব্য পাওয়া গেলেও সংবাদে সংশ্লিষ্টদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে খুলনা পাউবোর (বিভাগ-১) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডুমুরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকারও জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।











































