Home জাতীয় সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশায় পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন

সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশায় পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন

2

ঢাকা অফিস।।

সুরের মূর্ছনায় নতুন বছরকে বরণ করে নিল দেশবাসী। রাজধানীর রমনা বটমূলে প্রভাতি আয়োজনের পাশাপাশি দেশব্যাপী ছিল বৈশাখের আয়োজন। দুই বছর বিরতির পর এ আয়োজনে অংশ নিয়েছিল হাজারো মানুষ। নতুন বছরে সব জীর্ণতা আর গোঁড়ামি পেছনে ফেলে সহজ-সুন্দরের পথে চলুক মাতৃভূমি, আসুক সমৃদ্ধি–এটাই প্রত্যাশা সবার।

বসন্তের রূপ বদলে শুরু হলো খরতাপের বৈশাখ। গ্রাম বা শহর সব জায়গায় উৎসবের রং। প্রকৃতিতে নানান ফুলের মনমাতানো রূপ-গন্ধে নারী যেমন রাঙাচ্ছেন নিজেকে, তেমনি আবেশ ছড়িয়েছেন সবাইকে। দুই বছর পর, এই রঙের মেলায় যোগ দিয়েছেন নানান বয়সী মানুষ।

দুই বছর ঘরবন্দি থাকার পর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সবাই মিলেছে উৎসবের মেলায়। নববর্ষ উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে ছিল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি। সকালে রমনা বটমূলের অনুষ্ঠানস্থলে আগতদের আসতে হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে।
অনুষ্ঠানস্থলে আগতদের মতে, রমনা বটমূলের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে রমনা বটমূলের এই সাংস্কৃতিক মিলনমেলা সবাইকে পরিতৃপ্ত করে, বাঙালিত্বে সামগ্রিকতা দান করে। তাই এগিয়ে যেতে হলে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলা নতুন বছর ১৪২৯ উদ্‌যাপনে হাসি আর আনন্দে মাতে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নগরবাসী। পূর্বনির্ধারিত সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় টিএসসি থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। পাখাওয়ালা মাছ, ঘোড়া, টেপা পুতুল, পাখিসহ মোট চারটি মোটিভ শোভা পায় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এতে নানা রঙের মুখোশ আর প্রতিকৃতি হাতে অংশ নেন নগরবাসী। টানা দুই বছরের অতৃপ্তি আর হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যম আর উদ্দীপনায় জেগে ওঠে নগরবাসী।
নতুন বর্ষকে বরণ করে নিতে মঙ্গল শোভাযাত্রায় আসা এক বৃদ্ধ বলেন, ‘আগে আমরা ছেলে-মেয়েদের হাত ধরে নিয়ে আসতাম এখন ছেলে-মেয়েরা আমাদের হাত ধরে নিয়ে আসে।’ অপর এক তরুণী বলেন, এ অনুষ্ঠান সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

 

বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ বাঙালির মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে হাজার মাইল পেরিয়ে ছুটে আসেন বিদেশি নাগরিকরা। বাঙালির শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশীদার হতে পেরে প্রকাশ করেন উচ্ছ্বাস।
স্মরণকালের নাতিদীর্ঘ শোভাযাত্রা উৎসবপ্রিয় বাঙালির মনে কিছুটা অতৃপ্তি তৈরি করলেও অংশ নিতে পারার আনন্দের কাছে হার মেনেছে সব হতাশা। সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক শক্তি রুখে দিতে সৃষ্ট হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা ভবিষ্যতে দূর করবে সব অমঙ্গল, শোষণ আর বৈষম্য।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সরোবর, শিল্পকলা একাডেমি, বিআইসিসি ভবন, নজরুল একাডেমি, উত্তরা মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্ষবরণে পুলিশের নিরাপত্তা তৎপরতার কথা জানিয়ে গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নববর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও পুলিশ এবং সোয়াটের সমন্বিত ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে উপর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ।