Home আঞ্চলিক একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বিজয় সরকারের ১২০তম জন্মদিন রোববার

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বিজয় সরকারের ১২০তম জন্মদিন রোববার

8

মোঃ তাহের আলী, নড়াইল।।

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত লোককবি বিজয় সরকারের ১২০তম জন্মদিন আজ রোববার। দিনটি পালন উপলক্ষে কবির জন্মস্থান নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে কবির প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, বিজয়গীতি পরিবেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে শনিবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ফখরুল হাসান। এ সময় উপস্তিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ

চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ রওশন আলী, আকরাম শহিদ চুন্নু, গবেষক এইচএম সিরাজ, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ প্রমূখ। জন্মদিন উপলক্ষে আগামিকাল বেলা ৩টায় ডুমদিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাঁশগ্রাম পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম। গীতিকার ও গায়ক, চারণকবি বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রয়ারি  (১৩০৯ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী এবং মাতার নাম হিমালয়া দেবী। তার শৈশবকাল এবং জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে প্রিয় জন্মভূমি ডুমদিসহ নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়।ছেলেবেলা থেকেই তিনি কবিতা, গান রচনা ও সূরের মধ্যে ডুবে থাকতেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় তিনি বেশিদূর এগুতে পারেননি।নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্তায়ই তার লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। মতান্তরে তিনি ম্যাট্রিক পাশ। এরপর তিনি গানের দল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি একাধারে গানের রচয়িতা ও সুরকার। পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ একদিন ভাবি নাই মনে…। এই পৃথিবী যেমন আছে/ তেমনি ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে/ একদিন চলে যেতে হবে…। তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর

জীবনের সাধনা….এ ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন তিনি। তিনি প্রায় এক হাজার ৮০০ গান রচনা করেছেন। তিনি অনেক কবিতাও রচনা করেছেন। কবিগানের আসরেও দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। মাতিয়ে তুলতেন দর্শক-শ্রোতাদের।কোন কোন মঞ্চে তৎক্ষনাৎ নিজের রচিত আধ্যাতিক গান পরিবেশন করে তিনি উপস্তিত

শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন। বিজয় সংসদের সাবেক সেক্রেটারি মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, কবি

গানে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি চারণকবি ও সরকার উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি অনেক ইসলামী গান ও কবিতা রচনা করেছেন। প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য তিনি চারণকবি ও ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। ১৯৮৫ সালের ৪ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ার তার মৃত্যুর হয়। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) পান উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই চারণ কবি।