স্টাফ রিপোর্টার।।
কয়েক মাস আগেও খুলনার বাজারে সবচেয়ে দামি পণ্য ছিল পেঁয়াজ আর আলু। কিন্তু এখন সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ দুটি পণ্য। মাত্র ১০০ টাকায় মিলছে ৮-৯ কেজি আলু আর একই পরিমাণ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৪-৫ কেজি পেঁয়াজ। তবে ভোজ্যতেল সয়াবিনের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
নানা অজুহাতে সবজির দাম আকাশছোঁয়া প্রায় দুই মাস ধরে। তবে ডিম, মাছ, ব্রয়লার মুরগির দাম রয়েছে আগের মতোই।
শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ৪৫-৫০ টাকা। আলুর কেজি এখন ১০-১২ টাকা। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৬ টাকায়।
এদিকে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া চালের দাম একটু স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের দরেই বিক্রি হচ্ছে মাঝারি চাল। যার প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৬ টাকায়। বেড়ে তেলের দামও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, দুদিন ধরে তেলের দাম বাড়তি। বোতলে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৮ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলে দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। পাম অয়েলের দামও লিটারে ৫-১০ টাকার মতো বেড়েছে। বর্তমানে ৫ লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ টাকা দরে।
বাজারে ময়দা যথারীতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে, যা আগে ছিল কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা। এক কেজি প্যাকেট আটা ৪২ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া মসুর ডাল (মোটা দানা) বিক্রি হচ্ছে সেই একই দরে। ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া প্যাকেট আটা ও প্যাকেট ময়দার দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে নগরীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকার মতো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি এখন ২৩০-২৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৪০-২৮০ টাকা।
শনিবার খুলনার টুটপাড়া জোড়াকল বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার, রিয়া বাজার, ময়লাপোতার সান্ধ্য বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, আলু ১২ থেকে ১৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, গাজর ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, বরবটির ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ টাকা ও লাউ ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০-৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা ও পালং শাকের আঁটি ১৫ টাকা বিক্রি হয়েছে।
নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ব্যবসায়ী রইস, মানিক, রানা বলেন, শীতের শুরু থেকে বাজারে সবজির সরবরাহ একটুও কমেনি। সবজিতে ভরপুর বাজার। কিন্তু দাম কমেনি একটুও।
আরেক ব্যবসায়ী বাদশা বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ যথেষ্ট বেশি। তবুও কিছু কিছু সবজির দাম কেজি প্রতি অন্তত দুই টাকা বাড়তির দিকে রয়েছে।
মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকায়। অন্য মাছের মধ্যে কেজি প্রতি তেলাপিয়া ১০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০-১৪০ টাকা, নলা ১৭০-২০০ টাকা, চিংড়ি ৩৫০-৫৫০ টাকা, রুই ও কাতল ৩০০-৪৫০ টাকা, শিং ও টাকি ২৫০-৩৫০ টাকা। এছাড়া এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ১০০০-১২০০ টাকায় ও ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়।











































