শ্যামনগরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাবান বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার
সাত—গীরা জেলার শ্যামনগর থানার ভুরুলিয়া ইউনিয়নে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ও সচেতন রাখতে সাবান বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে সাবান বিতরণ করেন ইউপি সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ওয়ার্ডের সকল বাড়িতে বাড়িতে এ সাবান পৌছে দেন।
ইউপি সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ওয়ার্ডের বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধি ও অসহায়দের মাঝে সাবান বিতরণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সকলের কর্তব্য। সকলকে সচেতনতার সাথে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের আহবান জানান তিনি।
সাতীরায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে মাস্ক-সাবান বিতরন
ঝাউডাঙ্গা প্রতিনিধি
সাতীরা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ-সম্পাদক হাসানুজ্জামান শাওনের উদ্যোগে জীবানুনাশক স্প্রে, মাস্ক, সাবান বিতরন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনভর উপজেলার কদমতলা বাজার, কাশেমপুর, জেলা পরিষদ মোড়, সিটি কলেজ মোড়, আগরদাড়ী, শিবপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এসময় বিভিন্ন নিম্মশ্রেণি মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ-সম্পাদক হাসানুজ্জামান শাওন বলেন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সমাজের নিম্ন আয় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একারনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন পদেেপর অংশ হিসেবে সমাজের নিম্ম শ্রেণির মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি এবং শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়েছে।পরবর্তীতেও জনসচেতনতামূলক এসকল কার্যক্রম অব্যহত রাখবেন বলে জানান তিনি।
কেশবপুরে ৩ হাজার পরিবারের মাঝে মাস্ক, সাবান ও লিফলেট বিতরণ
আলমগীর হোসেন, কেশবপুর
কেশবপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাইসাওয়া এসডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে এবং সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় সাগরদাঁড়ী, পাঁজিয়া, বিদ্যানন্দকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হতদরিদ্র এবং কমিউনিটি ভলান্টিয়ার ৩ হাজার পরিবারের মাঝে মাস্ক, সাবান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহানের নিকট হাইসাওয়া এসডিসি প্রকল্পের পক্ষ থেকে নমুনা স্বরূপ ৩শত পিচ সাবান, ৩শত পিচ মাস্ক ও লিফলেট তুলে দেন সিও নুসরাত জাহান লাভলী এবং সিও সম্পা দাস। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা, উপজেলা প্রেসকাবের সভাপতি এস আর সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে অভয়নগর উপজেলার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাইসাওয়া এসডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে এবং সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় পায়রা, সিদ্ধিপাশা, সুন্দলী ও প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হতদরিদ্র এবং কমিউনিটি ভলান্টিয়ার ৩ হাজার পরিবারের মাঝে মাস্ক, সাবান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য খুলনা বিভাগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাইসাওয়া এসডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে এবং সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় ৩০ হাজার পিচ সাবান ও মাস্ক, ৫৫ হাজার লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।
কপিলমুনিতে পাইকগাছা ছাত্রলীগ সম্পাদক বাচ্চু’র মাস্ক বিতরণ
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ঃ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীম মুস্তাফিজ বাচ্চু’র ব্যক্তিগত উদ্যোগ কপিলমুনিতে করোনা রোধে সচেতনা সৃষ্টি ও মুখে ব্যবহারের জন্য মাস্ক বিতরণ করেছেন। শনিবার সকাল ১০ টায় পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির বিভিন্ন এলাকায় এ মাস্ক বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কপিলমুনি কলেজ ছাত্রলীগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা জি এম ইসলাম, আসাদ গাজী, আকাশ শেখ, রনি সরদার, জনি, বাপ্পি, সুমন, জাকির প্রমূখ।
ফকিরহাটে করোনা প্রতিরোধে মাক্স, সাবার ও লিফলেট প্রদান
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে হাইসাওয়া প্রকল্পের উদ্যোগে শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশের নিকট মাক্স, সাবান ও লিফলেট প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ পারভীন, সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, হাইসাওয়া প্রকল্পে ফিল্ড অফিসার শেখ মশিয়ার রহমান প্রমূখ। অপরদিকে, ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ একই দিন দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ অসিম কুমার সমাদ্দার এর নিকট মাক্স প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহানাজ পারভীন, সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার কিসলু প্রমূখ।
ফকিরহাটে আগুনে পুড়ে ফলজ ও বনজ গাছের ক্ষতি
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে আইয়ুব ফকিরের জমির পাড়ে রোপনকৃত ফলজ ও বনজ গাছের বাগানে কে বা কাহারা শত্রুতামূলক ভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে ব্যপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ আইয়ুব ফকিরের পুত্র ইব্রাহিম ফকির জানান, জমিটি তার চাচা নাসির উদ্দিনের নিকট বন্ধক রাখা রয়েছে। তার চাচা বন্ধক নিয়ে উক্ত জমিটি কৃষিচাষ করার জন্য লীজ দিয়েছে নাসরুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির নিকট। সেই বাগানে রবিবার কোন এক সময় কে বা কাহারা অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটায়। এতে আম, কাঠাল, সুপারী, মেহগনি, মেগনিশগাছ সহ বিভিন্ন প্রকারের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ আঃ জব্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
ফকিরহাটে লকডাউনে সড়ক মহাসড়কে জনমানব শুন্য
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে লকডাউনে সড়ক মহাসড়ক ও প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে যানবাহন না চলাচল করায় ও সাধারন জনগন বাইরে না বেরুবার কারণে জনমানব শুন্য হয়ে পড়েছে। সরকারের ডাকা লকডাউনের আহবানে সাড়া দিয়ে সকল জনগন তা পালন করছে। সামাজিক দুরাত্ব বজায় রাখায় করোনা ভাইরাস অনেকাংশে রোধ করা সম্ব^াব হবে বলে অনেকের ধারনা। গতকাল শনিবার ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়ক মহাসড়ক ও প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে যাত্রীবাহী কোন যানবাহন চলাচল করেনী এমনকি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোন ব্যাক্তিও বাইরে তেমন একটা বেরুতে দেখা যায় নী। ওষুধের দোকান ও কাচাবাজার ছাড়া অধিকাংশ দোকান পাট বন্দ রয়েছে। তবে কিছু কিছু স্থানে দরিদ্র ভ্যান অটো ভ্যান চালকরা গ্রামাঞ্চলের অলিগলির রাস্তায় চলাচল করেছে। তাদের সংখ্যা ছিল অনেক কম।
রূপসায় করোনা প্রতিরোধে মেডিসিন বিষন্ন পানি স্পে প্রয়োগ
রূপসা প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা নৈহাটি ইউনিয়নের অনুশীলন মজার স্কুলের উদ্যোগে ও ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আ. গফুর খানের সার্বিক সহযোগিতায় ২৮ মার্চ দিন ব্যাপি ওর্য়াডের বিভিন্ন স্থানে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান ও সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত নৈহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আ. করিম শেখ, মারুফ হোসেন খান, অনুশীলন মজার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অলোক চন্দ্র দাস প্রমূখ। এ সময় ওর্য়াডের দলিল উদ্দিন সড়কসহ কয়েকটি সড়কে ও বাড়িতে দূষণমুক্ত রাখতে মেডিসিন বিষন্ন পানি স্পে প্রয়োগ করেন। এছাড়া ওয়ার্ডের সকল দোকানপাট ও জনসমাগম বন্ধ করেন।
শরণখোলায় সেনাবাহিনী, জনশূন্য বাজার-রাস্তাঘাট
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
‘ভীড় জমায়েত এড়িয়ে চলি, দুরে থেকেই কথা বলি’ স্লোগান নিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলায় টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় রায়েন্দা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয় তারা। এর পর থেকে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট জনশূণ্য হয়ে পড়ে। টহলকালে সেনাসদস্যরা বাজারে বিভিন্ন জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করে। তারা মাইকিং করে করোনার বিস্তার প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া এবং প্রবাসীদেরকে হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলার পরামর্শ দেয়। এসময় শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন তাদের সঙ্গে ছিলেন।
ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, সেনাবাহিনীর এ দলটি শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে থাকবে। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করাসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এ দুই উপজেলায় নিয়মিত টহলে থেকে প্রশাসনকে সহযোগীতা করবে। অপর দিকে, শরণখোলায় ফায়ার সার্ভিস বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা বাজারের বিভিন্ন সড়কে জীবানুনাশক স্প্রে করেন।
দেবহাটায় ৩য় শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টায় থানায় মামলা, আটক ১
কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা
দেবহাটার পল্লীতে ৩য় শ্রেনীর ১ ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে দেবহাটা থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঐ ঘটনার অভিযুক্তকে আটক করেছে। আটককৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ঐ শিক্ষার্থীর মা। মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাওলা বক্সের ছেলে শফিকুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে একই গ্রামের বহেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীতে পড়–য়া ঐ ছাত্রী তার বাড়ির পাশের এক বান্ধবীর বাড়িতে খেলতে গেলে শফিকুল ঐ ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। পরে ঐ শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে শফিকুলকে আটক করে দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহাকে বিষয়টি জানালে ওসি তাৎক্ষনিক কর্তব্যরত পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠালে ঘটনাস্থল থেকে এসআই হুমায়ুন কবীর শফিকুলকে আটক করেন। ওসি বিপ্লব কুমার সাহা থানায় এ ঘটনায় ভিকটিমের মা গত ২৭-০৩-২০২০ ইং তারিখে ১৩ নং মামলা দায়ের করেছেন নিশ্চিত করে জানান, ভিকটিমকে মেডিকেলের জন্য সাতক্ষীরা প্রেরন করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে বলে ওসি জানান।
চিতলমারীর বড়বাড়িয়া ইউপি পরিষদের সাবান ও মাস্ক বিতরণ
চিতলমার প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীর ১নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে সাবান,মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার নিজ হতে এ মাস্ক, সাবান ও করোনা ভাইরাস সম্মর্কে সচেতনতা লিফলেট সাধাণ মানুষের হাতে তুলে দেন। এসময় চিতলমারী উপজেলা প্রেসকাবের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাফা, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো: আরিফ মোল্লা সহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেন্বররা উপস্থিত ছিলেন।
আর্সেনিক এ্যাল্ব এর সাথে এন্টিমোনিয়ম টার্ট প্রাণঘাতী “করোনা” প্রতিষেধক হোমিওপ্যাথী ঔষধ
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রানঘাতী করোনা ভাইরাস হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ফয়লাহাটের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ অমল কৃষ্ণ পাল। তিনি ৪৫ বছরের বেশী সময় ধরে হোমিওপ্যাথিক প্রাকটিস করছেন। এলাকার গরীব ও দুঃস্থদের চিকিৎসায় তিনি কোনো টাকা পয়সা নেননা বলে তিনি গরীবের ডাক্তার হিসাবেও বেশ পরিচিত।
তিনি প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে জানান, হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের নিয়ন্ত্রনও সম্ভব হতে পারে। বসন্ত,কলেরা ইত্যাদি মহামারী রোগে হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক রয়েছে। যদিও করোনা ভাইরাস হিসাবে কোনো কিছু হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার গ্রন্থে উল্লেখ নেই,তবে হোমিওপ্যাথীর জনক ডক্টর স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এর জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তার আমলে মহামারির মতো ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি গবেষনার মাধ্যমে এর প্রতিষেধক ঔষধ তৈরী করতে পেরেছিলেন। সেই সময়ে কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এতটা এগিয়ে ছিলো না বা জীবানু পরীক্ষা করার মতো এত আধুনিক সরঞ্জাম বা ল্যাবরেটরীও ছিলো না তবে সেখানে বিভিন্ন ঔষধ পরিচিতিতে আমরা ‘মহামারীর ক্ষেত্র’ কথাটির উল্লেখ আছে।
তিনি আরও বলেন, হোমিওপ্যাথী একটি লাক্ষনিক চিকিৎসা। এখানে রোগের নাম থেকে রোগের লক্ষনকে বেশী প্রাধান্য দেয়া হয়। তা সে সাধারন রোগ হোক কিংবা জীবানুদ্বারা সৃষ্ট রোগ। হোমিওপ্যাথির ভাষায় , প্রাণীর শরীরে যে সুক্ষ সত্তা বিদ্যমান তা হচ্ছে জীবনীশক্তি। আর রোগশক্তি জীবনীশক্তিকে আক্রমন করে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করে। যার ফলে নানা ধরনের রোগলক্ষন প্রকাশ পায়। সুক্ষমাত্রার ঔষধ জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলতাকে আবার পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনে,যার ফলে রোগ আরগ্য হয় এবং রোগলক্ষন দূরীভূত হয়। ভেষজের সুক্ষমাত্রা একদিকে যেমন রোগকে আরগ্য করতে পাওে তেমনি সেটি প্রতিষেধক হিসাবেও কাজ করবে। বসন্ত ও কলেরা রোগে হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক ব্যাবহার করে নিয়ন্ত্রন সম্ভব হয়েছে।
করোনা একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। করোনার সঠিক লক্ষন এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে আর্সেনিক এ্যাল্বাম (৩০) ও এন্টিমোনিয়ম টার্ট (৩০/২০০) ঔষধের মধ্যে করোনার লক্ষনসমষ্টি বিদ্যমান। তাই ঔষধদুটিকে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যাবহার করা যেতে পারে। এর কোনো পাশ^প্রতিক্রিয়া নেই। সকালে আর্সেনিক এ্যাল্বাম এর ২-৩ ফোটা এবং সন্ধ্যায় এন্টিমোনিয়ম টার্ট এর ২-৩ ফোটা খালিপেটে ঠান্ডা জলে মিশিয়ে পরপর ২দিন খাবার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বাসি পচা ও ঠান্ডা খাবার পরিহার করা , গরম পানীয় পান,মুখে মাস্ক ব্যাবহার ,বারবার হাতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,আক্রান্ত ব্যাক্তির সংস্পর্শে না আসা,সর্বোপরী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করেন তিনি।
মোরেলগঞ্জে সেনাবাহিনীর টহল ছিটানো হল জীবাণুনাশক ওষুধ
মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে সেনাবাহিনীর একটি টহল টিম। শনিবার বেলা ১টার দিকে মোড়েলগঞ্জ সদর বাজারসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল টিমের সদস্যরা সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করেন। একই সাথে তারা জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানকে সাথে নিয়ে সেনা দলটি এসব কার্যক্রম পরচালনা করেন। করোনা সচেতনতায় এদিন উপজেলা ছাত্রলীগের তরফ থেকেও সাধারন মানুষের মাঝে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
করোনায় সচেতনতায় মাইকিং শ্রমজীবি মানুষের মাঝে মাক্স বিতরণ
মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সচেতনতায় করনীয় বর্জনিয় বিষয় প্রচারণায় মাইকিং করে বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশা। শনিবার দুপুরে তিনি জিউধরা ইউনিয়নের কাককাতলী বাইন তলা, বটতলা, পাজাখোলার শ্রমজীবি কর্মহীন ঘরে থাকা সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গিয়ে বিতবরণ করেছেন মাক্স। দেওয়া হয়েছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৬নং ওয়ার্ডের ২৩৩ জন সুবিধাভোগী শ্রমীকদের ১০ টাকার ৩০ কেজি করে চাল।
পরিষদ অস্থায়ী কার্যালয়ে জাহাঙ্গীর আলম বাদশা শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে ১টি করে মাক্স পরিয়ে দেন। ইউপি সদস্য শিমুল কান্তি মিস্ত্রী, আব্দুল হাকিম মৃধা ও আসালতা মন্ডল এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চেয়ারমান বাদশা বলেন, করেনা ভাইরাস থেকে সর্তকতা অবলম্বনে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। অপ্রয়োজনে বাজার ঘাটে একের অধিক লোক চলাফেরা করা যাবেনা। বাড়িতে গিয়ে প্রথমে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ঘরে যেতে হবে। খাদ্য সংকটের কোন কারন নেই। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পর্যাপ্ত খাদ্য সাধারন মানুষের মাধ্যে মজুদ রেখেছে। করোনার আতংকের কিছুই নেই। সকলকে সর্তকতায় থেকে এ মোকাবেলা করতে হবে।
কয়রায় বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের উদ্যোগে জীবানু নাশক পানি স্প্রে
কয়রা প্রতিনিধি
“নিজে সচেতন হোন, অপরকে সচেতন করুন”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে কয়রায় সেচ্ছাসেবী সংগঠন বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ ও মহারাজপুর ইয়ংস্টার কাবের উদ্যোগে জীবানু নাশক পানি স্প্রে করা হয়েছে। শনিবার বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ ও মহারাজপুর ইয়ংস্টার কাবের সভাপতি সাংবাদিক শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে যুব পরিষদ কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ও বিভিন্ন যানবাহনে এই স্প্রে করা হয়। একই সাথে যুব পরিষদের সদস্যরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে সচেতনা মূলক নানা প্রচারিভাযান চালানো হয়। এসময় সেচ্ছাসেবী কাজে নিয়োজিত সদস্যরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে মা বোনদের সচেতন করে বলেন, নিজ নিজ বাড়ী ও বাড়ীর আশপাশ সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে হবে। বারবার সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ভাল হাত পরিস্কার করতে হবে। ময়লা হাত দিয়ে চোখ মুখ স্পর্শ না করা, মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, এমনকি ঢাকা, বরিশাল, যশোর বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা কাজ করে বাড়ীতে এসেছেন তাদের কে ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ীতে হোম কোয়ারান্টাইন করে থাকতে অনুরোধ করেন। যুব পরিষদের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ বলেন, জনসাধরনের কথা চিন্তা করে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে আমরা এলাকার সকল রাস্তা স্প্রে করব এবং সেচ্ছাসেবী কাজে বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের সদস্যরা কাজ করে যাবে ইনশাল্লাহ। এসময় যুব পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, ও শাহিনুর রহমান, কোষাধাক্য আবুল হাসান, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আছাফুর রহমান, সাংগঠনিকপ্রচার সম্পাদক আজমির মন্টু, ক্রীড়া সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সংস্কৃতি সম্পাদক আবুবকর শিপন, শিক্ষা সম্পাদক জিয়াউর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মাওঃ মনিরুল ইসলম, দপ্তর সম্পাদক তৈয়েবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুজ্জামান, সদস্য মেহেদী হাসান ও আলমগীর হোসেন সহ যুব পরিষদের সকল সদস্য সেচ্ছাসেবী কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
ঝিনাইদহে নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌর এলাকার খাজুরা এলাকায় এ খাবার বিতরণ করে জেলা বেকারী হকার্স শ্রমিক ইউনিয়ন। এসময় ওই এলাকার শতাধিক খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে ২ কেজি চাউল, ২ কেজি ময়দা ও ডাল বিতরণ করা হয়। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা। কাজ না থাকায় অভাব অনটনে থাকা পরিবারগুলো এই খাবার পেয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।
ঝিনাইদহে ইতালী, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৩৪ জন প্রবাসিসহ পরিবারের ৯৪২ জন সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে ইতালী, চীন, ভারতসহ ফেরত ৩৩৪ জন প্রবাসীসহ পরিবারের ৯৪২ জনকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ পর্যবেক্ষনে রয়েছে। তাদেরকে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম জানান, গত কয়েক দিনে ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইতালী,চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ঝিনাইদহে নিজ বাড়িতে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এমন খবর পেয়ে সে সব স্থানে গিয়ে তাদেরকে স্বাস্থ্য বার্তা মেনে চলে ১৪ দিনের তত্বাবধানে নিজ বাড়ীতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকা থেকে এলাকায় আগতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আওতায় আনা হয়েছে।
খানজাহান আলী থানা শাখা নিসচা’র শিরোমণি এলাকায় পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাসের জিবানু প্রতিরোধে খানজাহান আলী থানা শাখা নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা) আহ্বায়ক শেখ আব্দুস সালাম ও সদস্য সচিব মোঃ লুৎফর রহমার লিটনের নেতৃত্বে শনিবার সকাল ১০টায় শিরোমণি বাজার এলাকায় পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন। মাস্ক বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন শেখ শরিফুল ইসলাম, শেখ মোঃ আবুল কালাম, মিয়া খালিদ হাসান, শেখ আলমগীর হোসেন, , আব্দুল মালেক, মোঃ মহসিন হোসেন, মিয়া সোহানুর রহমান, আব্দুস সামাদ, মোঃ সোহেল, তৌহিদুল ইসলাম, নাসিম, রাকিব প্রমুখ।
পরিবারের দাবি হত্যা: মণিরামপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুরে দ্বিতীয় শ্রেণি পড়–য়া তামিম ইকবাল নামে সাড়ে আট বছরের এক স্কুল ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে থানা পুলিশ উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তামিম ইকবাল ওই গ্রামের ফারুক দপ্তরীর ছেলে। সে স্থানীয় চালুয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।
অভিযোগ করা হচ্ছে পাশের বাড়ির মুজির আলীর ছেলে রেজওয়ানের সাথে মারামারি করার কারণে তামিমকে হত্যা করে লাশ তাদের (তামিমদের) ঘরে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে মুজির স্ত্রী পলি বেগম। ওই সময় শিশুটির পিতা-মাতা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। আর ঘটনার পরপরই দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন মুজির আলী।
তবে পুলিশ বলছেন, ওই শিশু ঘরের আড়ার সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার দেহে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তামিমের পিতা ফারুক হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী সকালে নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে কাজে চলে যায়। আমিও এক আত্মীয়র বাড়িতে বিচলি আনতে যায়। বাড়ি এসে ১১টার দিকে ঘরে ঢুকতে যেয়ে দেখি ভিতর দিয়ে দরজা লাগালো। ঘরের দুটো দরজা। অন্য দরজা খুলতে যেয়েও দেখি ভিতর দিয়ে লাগানো। তখন উপর দিয়ে উঠে দেখি আমার ছেলের লাশ ঝুলছে।
মা নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকালে আমি কাজের উদ্দেশে বের হই। কিছুদূর যাওয়ার পর ছেলের মৃত্যুর খবর পাই। পাশের বাড়ির মুজিরের বউ পলি আমার ছেলেরে বাইরে থেকে মারতে মারতে ঘরে এনে খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে উপর দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পলি বেগম খুব চঞ্চল নারী। তার সন্তানদের সাথে কোন শিশু মারামারি করলে সে ওই শিশুকে মারধর করে। শনিবার সকালেও পলি তামিমকে ধরে মারতে মারতে বাড়িতে নিয়ে আসে।
স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাসলিমা খাতুন ও ইউপি মেম্বর জিয়াউর রহমান বলেন, এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা বোঝা যাচ্ছে না। এত ছোট একটা শিশু আত্মহত্যা করতে পারে বলে মনে হয় না। আবার ঘরের ভিতর দিয়ে দরজা লক করা ছিল। তা দেখেও সন্দেহ হচ্ছে। তবে সকালে পলির ছেলে রেজওয়ানের সাথে তামিমের মারামারি হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটি আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পলি বেগম ও তার স্বামীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর খুলনা অঞ্চলে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম
খবর বিজ্ঞপ্তি
কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়ার তত্ত্বাবধানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা এলাকার বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শনিবার নৌবাহিনীর খালিশপুর ঘাঁটির চেকপোস্ট হতে শুরু করে খালিশপুরের স্থানীয় এলাকার রাস্তা পলিকেটনিক কলেজ পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন কোরিন এবং বিচিং পাউডার দ্বারা পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া গোয়ালখালি মোড় হতে শুরু করে শেখ আবু নাসের হাসপাতাল ও তার আশেপাশের রাস্তা ও ড্রেন বিচিং পাউডার এবং কোরিন পানি দ্বারা পরিষ্কার করা হয়। জনসচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে দিকনির্দেশনামূলক ও করণীয় ১০০টি স্ট্যান্ড ব্যানার খুলনা শহরের আবাসিক এলাকায়, জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হয়। এছাড়াও দরিদ্র ও সাধারন জনগণের সুবিধার্থে রেলওয়ে মার্কেট ও নিউমার্কেট এলাকায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবানসহ বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। খালিশপুর চরেরহাট এলাকার বস্তিতে একটি পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, ডাল, লবন ও আলু বিতরন করা হয়। অন্য দিকে অত্র নৌ অঞ্চলের অধীনে দায়িত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলার বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাঁটা এবং তালতলী উপজেলাসমূহে গরীদ ও দুঃস্থদের মাঝে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ত্রান বিতরণ ও জনসচেতনামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র’র ইন্তেকাল, বিএনপি মহাসচিবের শোক
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোল্লা আব্দুল জলিল (৬৩) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় পৌর শহরের শেখ আ: হাই সড়কস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মরহুম মোল্লা আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার আসরেরর নামাজের পর হেলিপ্যাড মাঠে মরহুমের জানাযা নামাজ শেষে তার গ্রামের বাড়ী মিঠাখালী ইউনিয়রে খোনকারবেড় নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়ীতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে। মরহুম মোল্লা আব্দুল জলিল পৌর মেয়র ছাড়াও এর আগে দুইবার তার নিজ ইউনিয়ন মিঠাখালী ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন।
এদিকে বিএনপি নেতা মোল্লা আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে গভীর শোক, দু:খ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খুলনায় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সাংগঠনিক অনিন্দ ইসলাম অমিত, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক আকরাম হোসেন তালিম, যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলমসহ মোংলা থানা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দাকোপে বাড়ি বাড়ি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের হানা
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনার দাকোপে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশের সদস্যরা জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা মূলক কাজ করছেন। সূত্রে জানা গেছে, চালনা পৌরসভা বাদে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ৯০জন গ্রাম পুলিশের সদস্য রয়েছেন। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিকবার স্থানীয় গ্রাম পুলিশের এসব সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন। এসময় তারা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রত্যেকে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে বার বার হাত ধোয়ার কথা বলছেন। এছাড়া বাড়ির আঙ্গিনায়ও সংক্রমণ প্রতিরোধক জীবানু নাশক স্পে করার কথাও বলছেন। তাছাড়া এই ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক বার্তাগুলো প্রচার করছেন।
এব্যাপারে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দাকেপের তিলডাঙ্গা এলাকার ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশের সদস্যরা প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসচেতনতা মূলক বার্তাগুলো শিশুসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরছেন। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে বাহিরে যেতে নিষেধ করছেন। তিনি বলেন শুধু দাকোপ নয় প্রশাসনের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে গ্রাম পুলিশের সদস্যদের এসব জনসচেতনতা মূলক বার্তাগুলো প্রচার করতে বলা হয়েছে এবং সেমোতাবেক প্রত্যেক সদস্য কাজও করছেন বলে জানান। এছাড়া বিদেশ থেকে কেউ এলাকায় আসলে সাথে সাথে প্রশাসনকে খবর দিচ্ছেন। এতে করোনা মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষ সতর্ক হবে বলে তিনি মনে করেন এবং এই কার্যক্রম করোনা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অব্যহত থাকবে বলে জানান।
লাঞ্ছিত বৃদ্ধদের বাড়ি দেবেন ইউএনও
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ॥
যশোরের মণিরামপুরে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের হাতে লাঞ্ছিত বৃদ্ধদের বাড়িতে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী। শনিবার বেলা ১২টার দিকে থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তিনি সেখানে যান। তখন ইউএনও তাদেরকে বাড়ি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এসময় স্থানীয় শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, শুক্রবার বিকেলে মাস্ক না পরে চিনাটোলা বাজারে যাওয়ায় অত্র ইউনিয়নের দক্ষিণ লাউড়ি গ্রামের তরকারি বিক্রেতা আসমতুল্লাহ (৭২), একই গ্রামের ভ্যান চালক দিনমজুর বাবর আলী (৬০) ও দক্ষিণ শ্যামকুড় গ্রামের ভ্যান চালক নূর আলীকে (৬২) কানে ধরিয়ে লাঞ্চিত করেন এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আজ (শনিবার) মণিরামপুরের ইউএনও লাঞ্চিত ব্যক্তিদের বাড়িতে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যান। এছাড়া চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তাদের তিনজনকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তাদের হাত ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছি। আমি তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতাসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। তবে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কোনাকোলা বাজারে অভিযানে গিয়ে যে দিনমজুরকে মাস্ক না পরায় কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছিলেন এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান তার খোঁজ এখনো পর্যন্ত কেউ নেয়নি।
মণিরামপুরে মাস্ক না পরায় চার বৃদ্ধকে কানে ধরিয়ে শাস্তি, বিতর্কিত এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে অব্যাহতি
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
মাস্ক ব্যবহার না করে রাস্তায় বের হওয়ার অপরাধে চার বৃদ্ধকে কানে ধরিয়ে শাস্তি দেওয়া যশোরের মণিরামপুরের বিকর্কিত এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুফল চন্দ্র গোলদারকে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ শনিবার সকালে এই আদেশ দেন। সুফল চন্দ্র ইতিমধ্যে মণিরামপুরে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিনিয়র কমিশনার ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (ভূমি ও হুকুম দখল শাখা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, শুক্রবার (২৭মার্চ) বিকেলের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় তাৎক্ষণাত জেলা প্রশাসক স্যার এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। তার স্থলে শনিবার সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করছেন সুফল চন্দ্র গোলদার।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রন রাখতে শুক্রবার বিকেলে মণিরামপুরের চিনাটোলা ও কোনাকোলা বাজারে অভিযান পরিচালনা কালে চার বৃদ্ধকে মাস্ক না পরার অপরাধে কানে ধরিয়ে শাস্তি দেন সাইয়েমা হাসান। এদেরমধ্যে কোনাকোলা বাজারে একজনকে তিনি উঠবস করান। আবার সেই ছবি নিজেই মোবাইলে ধারণ করেন তিনি। শুক্রবার রাত থেকে বৃদ্ধদের কান ধরানো ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হতে থাকে। সাইয়েমা হাসানের শাস্তির দাবিতে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এটা দুঃখজনক। এসিল্যান্ড মোটেও কাজটা ঠিক করেননি। মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এসিল্যান্ডের এই কাজকে কোনভাবেই সমর্থন করি না।
জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, সাইমেয়া হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
করোনা রোধে মোংলায় নৌবাহিনীর জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম ও খাদ্য সামগ্রী বিরতণ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মোংলায় নৌবাহিনী জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মোংলা বন্দরের শিল্প এলাকার দিগরাজে মহাসড়ক, ড্রেন, দোকানপাট, এবং সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীদের মাঝে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছেন নৌ কন্টিনজেন্ট সদস্যরা। এছাড়া জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ীর বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে মোংলায় ১শ ৫০টি পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে নৌবাহিনী।
নৌবাহিনীর এ সকল কার্যক্রম করোনা সংক্রমণ রোধ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর লে: কমান্ডার তানভীর খান। তিনি আরো বলেন, বরগুনা, বাগেরহাট ও মোংলায় ৭টি কন্টিজেন্টের মাধ্যমে ১শ ৯০জন নৌ সদস্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
করোনাভাইরাসে ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন কেউ শনাক্ত হয়নি
ঢাকা অফিস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে দেশে নতুন কোন রোগী শনাক্ত হয়নি। সুস্থ হয়েছেন আরও ৪ জন। সব মিলিয়ে দেশে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৫ জন। রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে সংস্থার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা এসব তথ্য জানান। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. মো.হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ডা. ফোরা বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘন্টায় ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করিয়েছি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রিপিক্যাল ইনফেকশন ডিজিজ (বিআইটিইডি) এ ৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বমোট ১ হাজার ৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করোনা আছে এমন সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৮ জন। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় নতুন কোন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। এই ৪৮ জনের মধ্যে ইতোপূর্বে ৫ জন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪ জনের দেহে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ না হওয়ায় তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ জন। এই মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮ জন।’ তিনি জানান, ২৮৪ জন আইসুলেশনে ছিল। এদের মধ্যে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৭ জন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রয়েছে। তবে তা ব্যাপক আকারে ছড়ায়নি।
সেব্রিনা ফোরা বলেন, ‘যারা কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন এবং রোগ নির্মূল হয়েছে তাদের পর্যালোচনা করে দেখেছি, তারা সর্বোচ্চ ১৬ দিন হাসপাতালে ছিলেন। যখন থেকে তাদের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তাদেরকে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। একজন ছিলেন কিডনি সমস্যাজনিত তাকে আমরা ডায়ালাইসিস করেছি।’ যাদের বয়স ৬০ এর বেশি তারা একেবারেই ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে ৩ হাজার ৪৫০টি কল এসেছে, এর সবই কোভিড-১৯ সংক্রান্ত।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৬৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে সংযোজিত হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৮৪ জন। বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ৩৩৫। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে যুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫০১ জন।’ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বমোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৩২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩৯৬। দক্ষিণ এশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১০৫। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশেই এখন কোভিডের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রকেই এখন এপিসেন্টার (কেন্দ্রস্থল) হিসেবে বলা হচ্ছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সবকিছুর সফলতা নির্ভর করবে জনগণ নির্দেশনা কতটুকু মেনে চলেছে তার ওপর। যেসব পরামর্শ দেয়া হয়েছে আমি অনুরোধ করব আমরা সকলেই যেন সেগুলো মেনে চলি।’ তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান।
ডা. হাবিবুর রহমান জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অতিরিক্ত ১৬টি এবং শেখ রাসেল হাসপাতালে ৮টি ভ্যান্টিলেটর বসানোর কাজ চলছে।
সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত ১০৬ জন হোম কোয়ারেন্টিনে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশফেরত নতুন ১০৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এনিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত মোট হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২ হাজার ১৫৭ জন। এছাড়া কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৭৩ জনকে। শনিবার (২৮ মার্চ) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডা. জয়ন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরসহ সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেউ যাতে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন থাকায় সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ আছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভোমরা বন্দর শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।
অপরদিকে, ভারতে আটকে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরা নিজ দেশে ফিরতে পারলেও লকডাউনের কারণে ভারতীয়রা দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ওসি বিশ্বজিত সরকার।
খুলনা বিভাগে নতুন ৩০১ জন হোম কোয়ারেন্টিনে
স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৩০১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১৯ জন, বাগেরহাটে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১০৬ জন, যশোরে ১০১ জন, ঝিনাইদহে ২৭ জন, মাগুরায় ৩ জন, নড়াইলে ৬ জন, কুস্টিয়ায় ৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ১৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এ ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিভাগ থেকে ৯৯৪ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনার উপজেলাগুলোতে শুক্রবার বেলা ১০টা থেকে শনিবার বেলা ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় আরও ১৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপে ২ জন, বটিয়াঘাটায় ১ জন, তেরখাদায় ১ জন, ফুলতলায় ৩ জন, পাইকগাছায় ৬ জন, কয়রায় ৬ জন রয়েছে। এ নিয়ে খুলনায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৪৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হল। এরমধ্যে ১৯৮ জনকে ১৪ দিনের মেয়াদ শেষে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।
হতদরিদ্র ও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ বিতরণ
যশোর প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকায় যশোরে হতদরিদ্র ও হোম কোয়ারেন্টিনের দরিদ্র মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, আলু ও সাবান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে প্রতি ইউনিয়নে একশ’ ব্যাগ করে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, হতদরিদ্রদের জন্য যশোরের ৮টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় একশ’ মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুক্রবার প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বরাদ্দগুলো পাঠানো হয়। শনিবার সকালে উপজেলা থেকে সব ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের কাছে একশ’ প্যাকেট করে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেয়া হয়েছে। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ টন চাল ও এক লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। তা দিয়ে সদরের ১৫টি ইউনিয়নের জন্য প্রতি ইউনিয়নে একশ ব্যাগ করে এবং যশোর পৌরসভার জন্য এক হাজার ব্যাগ ত্রাণ প্রস্তুত করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা হতদরিদ্রদের তালিকা করেছেন। ওই তালিকা অনুযায়ী সেগুলো তারা বাড়ি বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা থেকে বরাদ্দ একশ’ ব্যাগ ত্রাণ নিয়ে এসেছি এবং তালিকা অনুযায়ী বিতরণ শুরু করেছি। ঘরে বসে চাল ডাল পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হতিদ্ররিদ্ররা। জামাল নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘যশোর বিসিক-এ ববিন মিলে দিন হাজিরায় কাজ করতাম। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় হাতে কোনও টাকা পয়সা নেই। ঘরে ছেলে মেয়ে নিয়ে চারজন। এই দুরাবস্থার মধ্যে সরকারি ত্রাণ পেয়ে খুবই ভাল লাগছে।’
নাসরিন বেগম নামে অপর এক নারী জানান, তার স্বামী অসুস্থ। কাজ করতে পারেন না। তিনি বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। এখন তো ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না। চাল শেষ হয়ে গেছে। আজ চাল না পেলে না খেয়ে থাকতে হতো। সরকারি চাল-ডাল পেয়ে তিনি খুব খুশি। এদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জেলায় সেনা টহল অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকে ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঘরে থাকতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খুলনা মেডিক্যালে করোনা ইউনিট নয়, প্রস্তুত ডায়াবেটিক হাসপাতাল
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিট না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ রোগীদের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটিকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে আগের মতোই এখানে সব রোগের চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণদের চিকিৎসা করা হবে খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে। শনিবার (২৮ মার্চ) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ গ্যালারি ও সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে করোনা নিয়ে পৃথক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ এসব তথ্য জানান।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় খুমেকে ‘স্বতন্ত্র ফু কর্নার’ থাকবে; যেখানে প্রাথমিকভাবে করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের তথ্যগ্রহণ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। এখানে যারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদের খুলনার দুটি আবাসিক হোটেল এবং খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্বতন্ত্র ফু কর্নারে প্রাথমিক পরীক্ষায় কারও মধ্যে করোনা সংক্রমণের লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে তাদের হোটেল অ্যাম্বাসেডর ও হোটেল ডিএস প্যালেসে অবজারভেশনে রাখা হবে। সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকাকালে প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনের জন্য খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে হাসপাতালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
করোনা ইউনিটে নতুন ভর্তি ১, ছাড়া হলো ৪ জনকে
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আরও একজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার পর করোনা শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ সদস্য ও শিক্ষিকাসহ চার জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মেহেরপুর ও সাতক্ষীরার ২ জন ভর্তি রয়েছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুই জনের স্যাম্পল পরীক্ষার রিপোর্ট ঢাকা থেকে নেগেটিভ আসায় তারাসহ নড়াইল ও বটিয়াঘাটার আরও দুজন, মোট চার জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর সকালে সাতক্ষীরার একজনকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি মেহেরপুরের একজন করোনা ইউনিেেট আগে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় নতুন ১৯৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ এড়াতে কারাবন্দিদের জন্য মোবাইল সার্ভিস চালু
স্টাফ রিপোর্টার
করোনা সংক্রমণে এড়াতে খুলনা জেলা কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইল সার্ভিস চালু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ২৬ মার্চ থেকে এ সেবা চালু করা হয়েছে। খুলনা কারাগারের জেলার তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এখন কারাগারে ১৪০০ বন্দি রয়েছে। যা ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। নতুন বন্দি আসলে তাকে বা তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য একটি কক্ষে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে হাজতিদের জন্য ১৫ দিন ও কয়েদিদের জন্য ৩০ দিন স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইল সার্ভিস চালু করা হয়েছে। জেলার তরিকুল ইসলাম বলেন, এখন বন্দিরা নির্ধারিত ওয়ার্ডে থাকছেন। দিনের বেলায়ও তাদেরকে কারাগারের ভেতরের ফাঁকা চত্বরে বের হতে দেওয়া হয় না। আর নতুন আসলে তাদেরকে এক কক্ষে ১৪ দিন রাখার নিয়ম করা হয়েছে। তবে এখন বন্দি আসছে কম। জামিন নিয়ে বের হচ্ছে বেশি।
মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে চলছে মধু সংগ্রহ!
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাধারণত ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ শুরু হয়। চলে ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু এবার মৌসুমের আগেই সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবন থেকে এক শ্রেণির বনজীবী মধু সংগ্রহ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অনুমতি (পাস) নিয়ে বনে প্রবেশ করে তারা লুকিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। অসাধু বন কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে কতিপয় বনজীবী এ কাজ করছেন বলে জানা গেছে। যদিও বনবিভাগের দাবি টহল জোরদার রয়েছে। কারো এ ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মৌসুম শুরুর আগেই সংগৃহীত মধু ৯০০ থেকে একহাজার টাকা কেজির দরে বিক্রি হচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন দাতিনাখালীর মোশারফ ও মীরগাং গ্রামের আলিম হোসেন জানান, মার্চের ১০-১২ তারিখের পর থেকে অসাধু চক্র সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করছে। মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অজুহাতে বনে যাওয়ার পর তারা সুযোগ বুঝে মধু সংগ্রহ করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালিঞ্চি গ্রামের এক ক্ষুদে ব্যবসায়ী জানান, সুন্দরবন থেকে দু’দিন আগে নিয়ে আসা মধু তিনি কিনতে চেয়েছিলেন। প্রতি কেজির দাম এক হাজার টাকা চাওয়া হয়। তবে নিকট আত্মীয় হওয়ায় ওই ব্যবসায়ী মধু সংগ্রহকারীর নাম পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।
একই গ্রামের সামছুর রহমান ও গোলাখালীর বাবু জানান, যারা মধু সংগ্রহ করছেন তারা বনকর্মীদে সঙ্গে গোপন চুক্তি করছে। এ কাজের জন্য তাদের ঘুষ দিতে হচ্ছে। এ কারণেই আপাতত মধুর দাম একটু বেশি চাওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে মধু সংগ্রহের কথা স্বীকার করে মুন্সীগঞ্জ গ্রামের এক বনজীবী জানান, মাছ ধরার জন্য বনে গিয়ে ফেরার পথে একটি মৌচাক থেকে দেড়/দুই কেজি মধু এনেছেন। তবে বাকিরা কে কী করছেন সে বিষয়ে তিনি জানেন নন। সময়ের আগে মধু সংগ্রহ করায় যথাসময়ে বনে গিয়ে আশানুরূপ মুধু মেলে না বলে দাবি করেছেন অনেক বনজীবী। কলবাড়ী গ্রামের কওছার আলী ও দাতিনাখালীর আব্দুর রশিদ, আবু জাফরের অভিযোগ, চোরা কারবারিদের কারণে নির্ধারিত সময়ে বনে গিয়ে ঠিকমতো মধু পাওয়া যায় না। বন বিভাগের কোবদকসহ কয়েকটি স্টেশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাযশে সংশ্লিষ্টরা বনে প্রবেশ করে আগেই প্রচুর মধু সংগ্রহ করে। এসব মধুর একটা নির্দিষ্ট অংশ সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিস ও টহল ফাঁড়িতে কর্মরতরা নিয়ে নিজেরা বেঁচা-বিক্রি করে। বনবিভাগ তৎপর হলে বৈধভাবে বনে প্রবেশ করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি মধু তারা সংগ্রহ করতে পারবেন বলেও জানান তারা।
তবে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার আক্তারুজ্জামান জানান, টহল অনেক জোরদার করা হয়েছে। তারপরও বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ এমন অপকর্ম করছে তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাস্ক না পরায় ছাত্রলীগ নেতাকে এক ঘণ্টা ধরে পেটাল পুলিশ
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের শেখহাটি ফাঁড়ির ইনচার্জ, সহকারী ইনচার্জ ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মানিককে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রলীগ নেতা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং আহত মানিককে জোরপূর্বক নিয়ে আসেন সহকারী ইনচার্জ এএসআই আলমগীর। বর্তমানে মানিক গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার বিচার দাবি করে শনিবার (২৮ মার্চ) নড়াইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহতের মা লতিফা বেগম।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, তরিকুল ইসলাম মানিক ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজ বাড়ি সদরের শেখহাটি গ্রামে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তিনি কাঁচাবাজার করে ফেরার পথে বাজারের মধ্যে সাদা পোশাকে দুজন ব্যক্তি (পরে শুনেছি একজন শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল ও অন্যজন কনস্টেবল) এখানে করোনা ছড়াতে এসেছিস বলে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং মারতে মারতে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে এসআই এনামুল, এএসআই আলমগীর ও কয়েকজন কনস্টেবল প্রায় এক ঘণ্টা থেমে থেমে রুল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। পরে ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ আলমগীরসহ তিন পুলিশ সদস্য মানিককে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নসিমনে সদর থানার ওসির কাছে নিয়ে গেলে তিনি এলাকায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ছেড়ে দেয়।
এরপর দুপুর ১টার দিকে মানিক সদর হাসপাতালের ইর্মাজেন্সি বিভাগে চিকিৎসা করাতে যায়। বিষয়টি এএসআই আলমগীর টের পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে বলে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। এই বলে মানিকের ভাই রতনের কাছ থেকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং তাকে (মানিক) নিয়ে শেখহাটি চলে যায়। রাত ৮টার দিকে মানিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরিকুল ইসলাম মানিক জানান, ফাঁড়ির পুলিশ একজনের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছিল বিষয়টি টাকা দিয়ে মিমাংসা করতে। কিন্তু আমি কোনো অন্যায় করিনি বিধায় কোনো আপসে যাইনি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিম বলেন, শেখহাটি এলাকায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার পেছনে তার অনেক ভূমিকা রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। শেখহাটি বাজার কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম সরদার বলেন, ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ মানিকের মাস্ক না থাকার অভিযোগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারপিট করে। আমরা বাজার কমিটির লোকজন পুলিশের হাত-পা ধরলেও তারা কোনো কথা শোনেনি।
অভিযুক্ত শেখহাটি ফাঁড়ির ইনচার্জ এনামুল বলেন, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক আমরা ডিউটি পালন করছিলাম। তার মাস্ক পড়া ছিল না। তাকে এসব বিষয়ে পশ্ন করা সে পুলিশের সঙ্গে বেয়াদবি করে। তাকে মারা হয়নি। সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তিনি টাকার বিনিময়ে মিমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এএসআই আলমগীর মানিককে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়েছে বিষয়টি ঠিক নয় বলে জানান। এ বিষয়ে কথা বলতে এএসআই আলমগীরকে কয়েকবার ফোন করা হলে হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দেশের এ অবস্থায় হয়তো কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হতে পারে। তারপরও বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।











































