Home জাতীয় লোভনীয় প্রচারণার ফাঁদে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাত, গ্রেপ্তার ৭

লোভনীয় প্রচারণার ফাঁদে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাত, গ্রেপ্তার ৭

5

ঢাকা অফিস।।

মাত্র এক মাসেই দ্বিগুণ হবে বিনিয়োগের অর্থ- এমন প্রলোভন দেখিয়ে কথিত অনলাইন এমএলএম প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল সদস্য সংগ্রহ করে একটি চক্র। এরপর তাদের বলা হয় আরও সদস্য আনার জন্য। প্রতি নতুন সদস্যের জন্য তারা ৫০ টাকা করে পাবেন। আর ১৫০ জন সদস্য আনতে পারলে রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। তিনি পাবেন আইফোন, ব্যক্তিগত গাড়ি বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ। এমন লোভনীয় প্রচারণার ফাঁদে পড়ে অনেকেই যথাসাধ্য বিনিয়োগ করেন। আর তাদের বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)তারা হলো- আবুল হোসেন পুলক, মাহাদী হাসান মল্লিক, মিজানুর রহমান ওরফে ব্রাভো মিজান, মহিউদ্দিন জামিল, সাইফুল ইসলাম আকন্দ, কভেজ আলী সরকার শাহানুর আলম শাহীন। শনিবার ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সময় তাদের কাছে পাওয়া গেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯টি মোবাইল ফোনসহ ২০টি সিমকার্ড, একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক বই, একাধিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড, নগদ ৬২ হাজার টাকা বিভিন্ন অবৈধ এমএলএল কোম্পানির বিজনেস প্ল্যানের কাগজপত্র।

ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে রোববার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিআইডি ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, চক্রটি প্রথমে একটি অনলাইন গ্রুপ খুলে তাদের ব্যবসার প্রচারণা শুরু করে। তারা জানান, হাজার ৮৫০ টাকা জমা দিয়ে সদস্য হতে হবে। আর টাকা বিনিয়োগ করলে ১৫ বা ৩০ দিন পর তার দ্বিগুণ ফেরত পাওয়া যাবে। লোকজনকে আকৃষ্ট করার জন্য তারা বিভিন্ন হোটেলে ব্যয়বহুল অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। নিজেরা চড়ত দামি গাড়িতে, পরত দামি পোশাক। মূলত এসব দেখিয়ে তারা আরও সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। সদস্যদের মধ্যে যিনি দেড়শ’ নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারবেন তাকে দেওয়া হত স্টার সদস্যের মর্যাদা।

তিনি জানান, কিছু স্টার সদস্যকে নিয়ে দেশে বিদেশে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হত। কিছুদিন আগে বিপুল অর্থ খরচ করে তারা পাঁচ শতাধিক বিনিয়োগকারীকে বিমানে গাড়িতে কক্সবাজার নিয়ে যায়। সেখানে একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠান করে তাদের আরও বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। এসব অনুষ্ঠানের অসংখ্য ছবি ভিডিও গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে। এভাবে নানা কৌশলে তারা অনলাইনভিত্তিক চারটি অবৈধ এমএলএম প্রতিষ্ঠানে ৫-লাখ সদস্য সংগ্রহ করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী।

সিআইডি জানায়, এই চক্রের হোতা আবুল হোসেন পুলক মাহাদী হাসান মল্লিক। তারা দু’জন ডেসটিনিতে কাজ করত। সেখান থেকে বহু স্তর বিপণন বা এমএলএম ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তারা অনলাইনে প্রতারণা শুরু করে। অবশ্য তারা এই পদ্ধতির নাম দিয়েছে ‘নেটওয়ার্ক মার্কেটিং’

এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার এখতিয়ার সিআইডির নেই। তবে বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করবে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু টাকা তারা বিনিয়োগ করেছে, আবার কিছু টাকা দিয়ে বিশাল অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। তাদের কিছু টাকা ব্যাংকে রেখেছে বলেও জানা গেছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে টাকার ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করছেন সিআইডি কর্মকর্তারা।