Home জাতীয় দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নানামুখী চাপের মুখেঃ টিআইবি

দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নানামুখী চাপের মুখেঃ টিআইবি

7

ঢাকা অফিস।।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ধরনের চাপে আছে, বিশেষ করে- বাকস্বাধীনতাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার চর্চা থেকে বিরত রাখার জন্য একধরনের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের সংবিধান এটি সমর্থন করে না।

বৃহস্পতিবার (ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবির কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং কার্টুন প্রতিযোগিতার পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

টিআইবি’নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি এমন একটি ব্যাধি, যা রুখতে হলে সকলকে সমষ্টিগতভাবে লড়তে হবে। তরুণসহ পুরো সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকারেরও দায়িত্ব ব্যাপারে পরিবেশ সৃষ্টি করা। 

তিনি বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার যে পরিবেশ দরকার, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র সরকারের। তারা সেটা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমাদের সংবিধানও সেটা নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমসহ সকল সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। তবে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ধরণের চাপ, বিশেষ করে- বাকস্বাধীনতাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার চর্চা থেকে বিরত রাখার জন্য একধরণের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের সংবিধান এটি সমর্থন করে না।

এসময় ‘বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর জাফর সাদিক। সময় প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশনের প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট জুলফিকার আলি মানিক, এমআরডিআই এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হেল্প ডেস্কের প্রধান মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের রোভিং এশিয়া এডিটর মিরাজ আহমেদ চৌধুরী এবং একাত্তর টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর সুজন কবির।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশে গণমাধ্যম সংখ্যায় অনেক, তবে সবাই সমান পেশাদারিত্ব দেখান না। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অনেক ধরণের মধ্যে একটি হলো গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়িয়ে, তার মান কমানোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা। দেশে বর্তমানে তাই চলছে। আমাদের উচিত, মানসম্মত গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করা।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ে তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সবসময়ই চ্যালেঞ্জ ছিলো থাকবে। তাই বলে সমস্যার কারণে কাজ থামিয়ে দেয়া যাবে না। বিকল্পভাবে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। বর্তমানে দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুণগত দিক আরও উন্নত করার সুযোগ আছে। আন্তর্জাতিকভাবে যুথবদ্ধ হয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের যেমন দায়িত্ব আছে তেমনি সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে। সাংবাদিকতা পেশায় আপসের কোনও সুযোগ নেই। সেলফ সেন্সরশিপ কেন করতে হবে? সাংবাদিকতা করতে হলে পেশায় টিকে থাকতেই হবে। হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

আলোচনা শেষে টিআইবি’দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২১ ঘোষণা করা হয়। এবছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট দুইজন ক্যামেরাপারসনসহ ১০ জন সাংবাদিককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

আঞ্চলিক সংবাদপত্র বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার অর্জন করেন সিলেটের ‘সিলেট ভয়েজ ডট কম’ এর রিপোর্টার শরীফ উদ্দিন তানু মিয়া এবং খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম আলাউদ্দিন। জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হন ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার সাবেক স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ জায়িফ। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া- প্রতিবেদন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জন করেন, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ মুকিমুল আহসান হিমেল। আর জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন অনলাইন পত্রিকা রাইজিং বিডি ডট কমের প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম এবং টেলিভিশন বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট মুফতি পারভেজ নাদির রেজা। টিভি প্রতিবেদন তৈরিতে ভিডিওগ্রাফিতে বিশেষ অবদান রাখায় একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মো. আলম হোসাইন এবং চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সিনিয়র ক্যামেরাপারসন মোমিনুল হক আফান বিচারকদের বিবেচনায় বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছেন। বিজয়ীদের প্রত্যেকে ব্যক্তিগত সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট এক লাখ ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার লাভ করেন। যৌথভাবে বিজয়ীদের পুরস্কারের অর্থ সমান দুইভাগ করে প্রদান করা হয়। বিশেষ সম্মাননাপ্রাপ্ত ক্যামেরাপারসনদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (প্রামাণ্য অনুষ্ঠান) বিভাগে বিজয়ী হয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘উন্মোচন’। ‘ঢাকার মালিক কতো?’ এবং ‘ভাতা যাচ্ছে ভূতের পেটে!’ শিরোনামে প্রচারিত দুটি অনুষ্ঠানের জন্য উন্মোচন টিম এই পুরস্কার অর্জন করে। বিজয়ী প্রতিটি প্রামাণ্য প্রতিবেদন আলাদা সম্মাননাপত্র ক্রেস্ট এবং সর্বমোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার লাভ করেছে।