Home জাতীয় শুধু মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

শুধু মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

7


ঢাকা অফিস ।।

দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করে বলা হয়, শপিংমল-দোকানপাট, সব ধরনের গণপরিবহন চালু, হোটেল-রেস্তোরাঁ, সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। এর আগে গতকাল দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, ১১ আগস্ট থেকে চলমান বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনও আস্তে আস্তে চালু হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধিনিষেধ শিথিল হবে ১১ আগস্ট বুধবার। এদিন থেকে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত, দেশের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১১ আগস্ট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিচের শর্তাবলি সংযুক্ত করে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

এতে বলা হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌপথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) অধক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, সব সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। শপিংমল/মার্কেট/দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা রাখা যাবে। সব ধরনের শিল্প-কারখানা চালু থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সবক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। গণপরিবহন, বিভিন্ন দপ্তর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

লকডাউন শিথিলের ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মাস্ক পরার ওপর জোর দিয়েছি। আমাদের সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আগামী দিনে সবাইকে মাস্কও পরতে হবে কাজও করতে হবে। মাস্ক পরলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, গণটিকা শুরু হয়েছে এটা চলমান থাকবে। আমরা চাইব যে প্রত্যেকে যেন মাস্ক পরে এবং মাস্ক পরার বিষয়টা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। টিকা কার্যক্রমের মধ্যে দোকানদার যারা বিভিন্ন কাজে বাইরে যায়, বা যেতে হয় তাদের টিকা প্রদানে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এদের টিকাদান সম্পন্ন হয়ে গেলে আগামী দিনে এটা ম্যানেজ করা সহজ হবে। যাদের বাইরে আসতে হয় কর্মজীবী যাদের মানুষের সাথে মিশতে হয়, তাদেরকে কিন্তু অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাদের টার্গেট টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই সমস্ত মানুষকে সুরক্ষার মধ্যে আনা। সকলে যাতে মাস্ক পরে বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছি।

এদিকে চলমান বিধিনিষেধের ১৭তম দিনে গতকাল রোববার সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ বেড়ে যায়। কঠোর লকডাউন অমান্য করে সড়কে বের হন হাজার হাজার মানুষ। মানুষ এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েছে।

চলমান বিধিনিষেধে হোটেলগুলোতে শুধু হোম ডেলিভারির অনুমতি থাকলেও এখন তা বলতে গেলে কেউই মানছেন না। আর দোকানপাটও স্বাভাবিক সময়ের মতো গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখতে দেখা গেছে। এসব এলাকায় আগে বিকেলের দিকে পুলিশের টহল থাকলেও এখন তার তা দেখা যায় না।

একজন দোকানদারের কাছে বিধিনিষেধ না মানার কারণ যানতে চাইলে বলেন, ব্যবসা বন্ধ থাকলে পেটে খাবার জোটে না, আমাদেরও তো পরিবার আছে, সরকার আমাদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করলে সব নিয়মই মানতাম মামা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, যানবাহন ও মানুষে সরগরম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর শিথিলতার সুযোগে বাসও চলছে, যথারীতি যাত্রীও টানছে তারা। তবে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল শুরু না হওয়ায় অনেককেই পিকআপ ও ভ্যানগাড়িতে করে কর্মস্থলসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

চলমান বিধিনিষেধের শুরুর দিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো ঘটা করে চেকপোস্ট বসিয়ে ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গকারীদের শাস্তি দিত, সেই কার্যক্রমও অনেকটা স্থিমিত পেয়েছে।

গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ গত ৫ আগস্ট রাত ১২টায় শেষ হয়। পরে কিছুটা শিথিলতা এসে বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যা আগামী ১১ আগস্ট থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু সীমিত পরিসরে খুলবে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

চলমান বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ। তবে শুরুতে খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং ৬ আগস্ট থেকে সব ধরনের শিল্পকারখানা খুলে দেয়া হয়। অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানও চলাচল করছে।

এখনো বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও শপিংমল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাইরে বের হওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে।