Home আঞ্চলিক প্রতিশোধ নিতে ছোটভাইকে হত্যা করে বোন!

প্রতিশোধ নিতে ছোটভাইকে হত্যা করে বোন!

18

 যশোর  অফিস ।।

যশোরের চৌগাছায় স্কুলছাত্র এহতেশাম মাহমুদ রাতুল (১৮) হত্যার দায়ে তার বোন বোনের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়। বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতেই তারা (বোন বোনের স্বামী) রাতুলকে হত্যা করে বলে তারা জানায়।

শনিবার ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভিকটিমের বোন মাহমুদা মমতাজ মিমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরেক আসামি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের শিশির আহমেদের স্ত্রী। তাকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম।

জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ জুলাই বিকালে চৌগাছা থানাধীন লস্করপুর শ্মশান মাঠে পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো ১৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের এক মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মৃতের আত্মীয়-স্বজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ছবি দেখে মৃতের মৃতদেহ সনাক্ত করে উদ্ধারকৃত লাশ এহতেশাম মাহমুদ রাতুলের।

তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে স্থানীয় সামবাজার এমপিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। এর আগে ১১ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বজনরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও সন্ধান পাননি।

ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের পিতা মহিউদ্দীন বাদী হইয়া অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানা যশোরে অভিযোগ করেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবির অনুসন্ধানে ইতোপূর্বে হত্যার সঙ্গে জড়িত ভিকটিমের ভগ্নিপতি শিশির আহম্মেদকে গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম পতেঙ্গা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ভিকটিমের মোবাইল ফোন, হত্যাকাজে ব্যবহৃত স্কচটেপ, ভিকটিমের পরিহিত ছেঁড়া বস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আসামি শিশির আহম্মেদ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে ভিকটিম রাতুলের বোন মাহমুদা মমতাজ মীমের সংশ্লিষ্টতার কথা জানায়।

বিষয়ে মামলার তদন্তকারী তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙেঙ্গ জড়িত থাকার তথ্য প্রমান পেয়ে ভিকটিমের বোন মাহমুদা মমতাজ মীমকে শনিবার বিকালে মামলার বাদী রাতুলের পিতা মো. মহিউদ্দিনের মাধ্যমে মাহমুদা মমতাজ মীমকে ডিবি কার্যালয়ে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাহমুদা মমতাজ মীম ফেসবুকের পরিচয়ে শিশিরের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পিতা-মাতার অবাধ্যে শিশিরকে বিয়ে করার জন্য ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পিতা মহিউদ্দীন তার সম্মান রক্ষায় মেয়ে-জামাতা শিশিরের সাথে সম্পর্ক ছেদ করেন এবং শিশিরকে বিভিন্নভাবে অপমান করেন। অপমানের প্রতিশোধ নিতে শিশির মীম পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিম রাতুলকে নেশাগ্রস্থ করার চেষ্টা চালায় এবং একপর্যায়ে তারা সফল হয়।

এরপর পরিকল্পনা মতো ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে চৌগাছা শ্মশান মাঠের পাশে বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের পাড়ে ভিকটিমকে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ পাট ক্ষেতে ফেলে রাখে। ভিকটিমের মোবাইল ফোন শিশির মীম মিলে শিশিরের ঘরে ইটের নিচে পুঁতে রাখে বলে জানা যায়।