০ স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা বিভাগে করোনায় শনাক্তের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে খুলনা বিভাগে এক দিনে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ৫৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ১০ জন। বুধবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৫১২ জন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ৬৯০ জন। খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। গত বছরের ২৩ জুলাই এ সংখ্যা ১০ হাজার এবং ১২ আগস্ট ১৫ হাজার ছাড়ায়। চলতি বছর ১ জানুয়ারি ২৫ হাজার, ৩০ মে ৩৪ হাজার, ৩ জুন ৩৫ হাজার ও ৭ জুন শনাক্তের সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়ায়। আজ ৯ জুন বিভাগে শনাক্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঝিনাইদহে শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মনজুরুল মুরশিদ বলেন, এ মুহূর্তে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। আসলে স্বাস্থ্যবিধি কেউ মেনে চলছে না। এ কারণে করোনার সংক্রমণ বেড়ে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫৭ জন সুস্থ হয়েছেন। বিভাগে করোনায় আক্রান্তের পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ৩২ হাজার ৪১৯ জন। সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৪০৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩১৮ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা-সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঈদের পর থেকে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে (১-৯ জুন) ৩ হাজার ২২১ জনের, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে মারা গেছেন ৪৫ জন। এর আগের ৯ দিনে (২৩-৩১ মে) ১ হাজার ৩২১ জনের, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ওই ৯ দিনে মারা যান ৩১ জন। দেখা যাচ্ছে, গত ১৮ দিনের প্রথম ৯ দিনে আগের ৯ দিনের চেয়ে শনাক্ত প্রায় আড়াই গুণ আর মৃত্যু দেড় গুণ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীদের মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছেন ৮০ জন (নগরে ৫২ জন)। এ ছাড়া বাগেরহাটে ৬৮ জন, যশোরে ১৪৩, সাতক্ষীরায় ১০৮, নড়াইলে ২৯, মাগুরা ও মেহেরপুরে ১৩, চুয়াডাঙ্গায় ১৯, ঝিনাইদহে ১৭ এবং কুষ্টিয়ায় ৬৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মোট শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর বিধিনিষেধ চলমান থাকা নগরের তিন থানার মধ্যে একই সময়ে খুলনা সদরে ২৫ শতাংশ, সোনাডাঙ্গায় ৩৩ শতাংশ এবং খালিশপুরে ১৭ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।
গত ১ জুন থেকে ৯ জুন জেলায় ৩ হাজার ১০২ নমুনা পরীক্ষায় ৭৫৫ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল খুলনার ছোট বয়রার করিম নগরে জেলার প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৯২১টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯৮২ জন। মোট শনাক্তের হার প্রায় ১৪ শতাংশ। এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের জেলাভিত্তিক হিসাবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৮২ রোগী শনাক্ত হয়েছেন খুলনা জেলায়। এর মধ্যে খুলনা শহরেই শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯০৪ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯২৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ১১৭, যশোরে ৭ হাজার ৬৯৯, ঝিনাইদহে ৩ হাজার ১০, কুষ্টিয়ায় ৫ হাজার ৩২১, মাগুরায় ১ হাজার ২৯২, মেহেরপুরে ১ হাজার ১০১, নড়াইলে ১ হাজার ৯৫৬ ও সাতক্ষীরায় ২ হাজার ১০৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে ৪ জন, খুলনায় ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ২ এবং যশোরে ১ জন করে করোনা রোগী মারা গেছেন। বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছেন ১৯১ জন, কুষ্টিয়ায় ১২২, যশোরে ৮৪, চুয়াডাঙ্গায় ৬৪, ঝিনাইদহে ৫৭, বাগেরহাটে ৫১, সাতক্ষীরায় ৪৮, নড়াইলে ২৭ এবং মাগুরায় ও মেহেরপুরে ২৩ জন করে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার ঊর্ধ্বমুখী। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে রোগীর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালে আর কোনো শয্যা খালি নেই। টানা আট দিন শয্যার সংখ্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালে আসা বেশির ভাগ রোগীর অবস্থা খারাপ থাকে। শয্যার বেশি রোগী থাকায় একেকজন চিকিৎসক ও নার্সের ওপর ব্যাপক চাপ যাচ্ছে।
হাসপাতালের ফোকাল পারসন সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ১০০ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৩০ জন। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত রোগী ছিলেন ১০১ জন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন আরও ২৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে ১৮ জন ও এইচডিইউতে ২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনায় এখনই জনবল দিয়ে আরেকটু বড় পরিসরে কোভিডের জন্য উপযুক্ত বড় হাসপাতালের চিন্তা করতে হবে।










































