বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
জোয়ারের পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় বসতঘর, মসজিদ ও রান্নাঘর। হাঁটুসমান পানিতে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে হয়। পানি নেমে গেলে আবারও কাদা-পানির মধ্যে ফিরতে হয় নিজ ঘরে।
এভাবেই বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজিডাঙ্গা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরজমিনে দেখা যায়, দুপুরে জোয়ারের পানিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। পানিতে ডুবে যায় প্রকল্পের বসতঘর, রান্নাঘর ও মসজিদ। ফলে মসজিদে নামাজ আদায়ও সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মাজিডাঙ্গা গ্রামের ভূমিহীনদের জন্য ৬০টি ঘর ও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের সামনের চরভরাটি জমিতে আরও অন্তত ৮০টি ভূমিহীন পরিবার ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে সব মিলিয়ে এখানে প্রায় চার শতাধিক মানুষ বসবাস করছেন।
বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করলেই তাদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। তীব্র জোয়ার বা তেজ কটালের সময় পানি ঘরের মেঝে পর্যন্ত উঠে যায়। কখনো কখনো হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায় ঘরের ভেতর। তখন রান্নাবান্না তো দূরের কথা, ঘরে থাকাও সম্ভব হয় না।
মসজিদের সহসভাপতি আকরাম বলেন, ‘দুপুরে জোহরের নামাজের জন্য মাইকে আজান দিয়েছিলাম। আজান দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তেজ কটালের পানি এসে মসজিদসহ পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্প ডুবিয়ে দেয়। ফলে আমরা নামাজও পড়তে পারিনি।’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বলেন, ‘জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার পরও দুর্ভোগ শেষ হয় না। ঘরের ভেতর ও আশপাশে জমে থাকে কাদা-পানি। সেই পরিবেশেই কোনো রকমে রান্নাবান্না করে রাত কাটাতে হয়। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে ঘরে তালা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়।’
তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক ঘরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের সড়কও ভালো নয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘তারা ভাত-কাপড় বা আর্থিক সহায়তা চান না। জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষা পেতে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণই তাদের প্রধান দাবি। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ঘরগুলো সংস্কার এবং যাতায়াতের জন্য একটি ভালো সড়ক নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।’
কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. আবু হানিফ হাওলাদার বলেন, ‘১৯৯৮ সালে এখানে ভূমিহীনদের জন্য ৬০টি ঘর ও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ঘরগুলো সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়নের তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন জোয়ারের পানি এলেই মানুষকে পানিবন্দি হয়ে থাকতে হয়। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ ও একটি ভালো সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন পারভীন বীথি বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে পিআইও সাহেবকে নির্দেশ দিয়েছি। তিনি সরেজমিনে জমি পরিদর্শন করে আসলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা ও জোয়ারের মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।










































